Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সাড়ে ৩ বছরে সিলেটে ১৮,০৮৭ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত নিজেও বলেছেন, সিলেটের জন্য তিনি বিশেষ কিছু করেননি, যা করেছেন জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে মিল রেখেই করেছেন। এরপরও সিলেটে সব ক্ষেত্রেই যুগান্তকারী উন্নয়ন হয়েছে। টাকার অঙ্কে বর্তমান সরকারের সাড়ে তিন বছরে সিলেটে ১৮শ’ ৮৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে। সরকারের সাড়ে তিন বছর এবং সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে শনিবার দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। জনাকীর্ণ ওই সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীর সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে একটি বই প্রকাশ করা হয়। এবং এই বইতে উন্নয়নের সামগ্রিক চিত্র বর্ণনা করা হয়। ‘আলোকিত সিলেট গড়ার’ স্লোগান নিয়ে অর্থমন্ত্রী বিগত নির্বাচনে সিলেটের নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে জয়লাভ করার পরও তার বিশেষ কিছু করার প্রয়োজন ছিলো না। এর কারণ সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের হাত দিয়ে সিলেট নগরীর উন্নয়ন এবং সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদের হাত দিয়ে সিলেট সদর উপজেলার উন্নয়ন কাজ করিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি টাকা দিয়েছি। তাদের সহায়তা করেছি। উন্নয়ন কাজ তদারকি করেছি। এতে মনে করি আমি সফল হয়েছি।’ এরপরও তার বিশেষ কিছু করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সিলেট এখন আলোকিত নগরী হতে চলেছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। অর্থমন্ত্রী তার দীর্ঘ বক্তব্যে সিলেটের বিদ্যুৎ সরবরাহের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সিলেটে বিদ্যুৎ সরবরাহ বেড়েছে। কিন্তু জনগণ এর সুফল পাচ্ছে না। তিনি বলেন, বিদ্যুতেও একটি দুষ্টচক্র কাজ করছে। তাদের খুঁজে বের করতে হবে। চাহিদা মতো সিলেটের বিদ্যুতের সব কিছু করা হয়েছে। তবে কেন এই এলাকা অন্ধকারে থাকে-প্রশ্ন করেন তিনি। শেষে বলেন, এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। অর্থমন্ত্রী নিরাপত্তা রক্ষায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠনের প্রারম্ভিক কিছু ত্রুটির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০০৫ সালে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ যাত্রা শুরু করেছে। এরপর থেকে মেট্রোপলিটন পুলিশে দুর্ভোগ লেগেই আছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আগের পুলিশ কমিশনাররা লোকবল ও ইক্যুপমেন্ট সাপোর্টের ব্যাপারে দাবি তুলেননি। এ কারণে সিলেটের পুলিশের দুর্দশার কথা তিনি দুই বছর পর জেনেছেন বলে জানান। বর্তমান কমিশনার অমূল্য ভূষণ বড়ুয়া তাকে এসব কথা জানালে তিনি বর্তমানে মেট্রোপলিটন পুলিশের উন্নয়ন ঘটাতে কাজ করছেন বলে জানান। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক ছাড়াও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. সালেহ উদ্দিন আহমদ, সিলেট-২ আসনের এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের এমপি মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, সৈয়দ জেবুন্নেছা হক এমপি, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান, সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ড. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল, সিলেটের  জেলা প্রশাসক খান মো. বিলাল, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার অমূল্য ভূষণ বড়ুয়া, সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ফারুক আহমদ মিসবাহ সহ সিনিয়র নেতারা। অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে আলোকিত নগরী গড়ার ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। এসময় তিনি বলেন, আলোকিত নগরী গড়া আমার স্বপ্ন। এ জন্য শিক্ষার প্রসার, সন্ত্রাসের উৎখাত, কর্মশক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো। তিনি বলেন, সিলেটের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এখন আমরা গর্ববোধ করতে পারি। সিলেট শিক্ষায় অনেক এগিয়ে গেছে। এখানে উচ্চ শিক্ষার হারও বাড়ছে। অর্থমন্ত্রী তার সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, সন্ত্রাস দমনে সিলেট এগিয়েছে। এখানে আগের মতো বোমা হামলা হয় না। তিনি বলেন, বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অস্ত্রের ঝনঝনানি, নির্ভয় পদচারণা ও পরিকল্পিত সন্ত্রাস থেকে সিলেট এখন মুক্ত। সিলেটে কর্মক্ষমতা বেড়েছে দাবি করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সিলেটে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও উৎপাদনের ক্ষমতা আগে এরকম ছিল না। এখন বহুগুণ বেড়েছে। গ্যাসের উৎপাদন ও মজুত বেড়েছে। খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত এবং সকলের ঘরেই খাদ্য সহজলভ্য। খাদ্যশস্য, ফসল, ফুলফল, প্রাণিসম্পদ, বনজ সম্পদ সর্বক্ষেত্রে সিলেট এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। গ্রামীণ অকৃষিখাতে রোজগারের সুযোগ ব্যাপক হারে বেড়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এছাড়া, প্রবাসী বিনিয়োগ যেমন আবাসন ও ক্যাটারিংয়ে দৃশ্যমান তেমনি জ্বালানি ও কৃষিখাতেও আগ্রহী। এ কারণে অর্থমন্ত্রী মনে করেন সিলেট ‘আলোকিত সিলেট’ হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এজন্য তিনি সকল মহলের সহায়তা ও সহযোগিতা কামনা করেন। অর্থমন্ত্রী সিলেটের তার কয়েকটি প্রকল্পের কথা তুলে ধরে বলেন, সিলেটে ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়াটার ওয়ার্কস কার্যক্রম, ২৫ কোটি টাকায় ইনডোর স্টেডিয়াম ও সুইমিং পুল, মহানগরের সুযোগ-সুবিধার জন্য ২৩৬ কোটি টাকার প্রকল্প,  ১১২ একর জমির উপর টিলাগড় ইকোপার্ক করার কার্যক্রম, সিলেটে বিভাগীয় জাদুঘর স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ, বিমানবন্দর থেকে বাদাঘাট পর্যন্ত ২৩ কোটি টাকার প্রকল্প, কাজিরবাজার অর্ধনির্মিত সেতু পূর্ণাঙ্গ করতে ১৮৯ কোটি টাকার প্রকল্প, কারাগার স্থানান্তরের জন্য ১৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলছে বলে জানান মন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে সিলেটের চিকিৎসা সহ নানা খাতের উন্নয়ন কাজ তুলে ধরেন মন্ত্রী।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট