Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

দেশকে পিছিয়ে দেয়াই খালেদার চরিত্র: শেখ হাসিনা

ঢাকা, ১৬ জুন: বিএনপি সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভনেত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “আমরা দেশকে এগিয়ে নিচ্ছি। আর ওদের কাজ হলো- দেশকে পিছিয়ে নিয়ে যাওয়া।”

 

তিনি বলেন, “পিছিয়ে দেয়াই ওনার (খালেদা জিয়া) চরিত্র। উনি তো পিছিয়েই দেবেন। উনি তো স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করেন না। ওনারা শুধু নিতেই জানেন। দিতে জানেন না।”

 

গণভবনে শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানের প্রারম্ভিক বক্তৃতায় শেখ হাসিনা একথা বলেন।

 

বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার আওয়ামী লীগের লক্ষ্য একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই, ২০২১ সালের মধ্যে অন্তত মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হোক এবং আমরা তা পারবো- এই বিশ্বাস আমার আছে।”

 

‘বাজেট ভাবনায়’ ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করার বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা খুব দুঃখ হয়- ২০৩০ সালের মধ্যে উনি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে চায়। উনি পিছিয়ে দিলেন। পিছিয়ে দেয়াই তাদের কাজ।”

 

২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় থাকতে বিদ্যুৎ ও খাদ্য উৎপাদনে এবং শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ পিছিয়ে গেছে বলেনও প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

 

বন্ধ ঠাকুরগাঁও চিনি কলটি ভবিষ্যতে চালু করার কথা বলেন শেখ হাসিনা।

 

সংগঠন আরো শক্তিশালী করার আহবান

তিনি এ সময় সংগঠনকে শক্তিশালী করার আহবান জানিয়ে তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের যে আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে- তা ধরে রাখতে হবে। এমন কোনো কাজ করা যাবে না- যেনো জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসে চির ধরে।”

 

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনেকে তৃণমূল পর্যায় থেকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, “ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তৃণমূল থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।”

 

নিজ দলকে ভারতীয় উপমহাদেশের ‘প্রাচীন সংগঠন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, “বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের ওপর আঘাত এসেছে। কিন্তু, দলের সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত অনেক শক্ত বলে আওয়ামী লীগের কোনো ক্ষতি করতে পারে নাই কেউ।”

 

তিনি বলেন, “নেতৃত্ব কখনো কখনো ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু, তৃণমূল কখনো ভুল করেনি। সেজন্য আজ আমি এখানে।”

 

দলকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সম্মেলনগুলো দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দেন শেখ হাসিনা।

 

তিনি বলেন, “আগামীতে নির্বাচন। জনগণের সামনে যেতে হবে।”

 

নবম জাতীয় সংসদে যারা আওয়ামী লীগকে ভোট নিয়ে বিপুলসংখ্যক আসনে জয়ী করেছেন- তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা সংবিধান সংশোধন করে সংবিধানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছি।”

 

বিরোধী দলের সমালোচনা

বাজেটে কালো টাকা সাদা করার খালেদা জিয়ার সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী হয়ে আপনি কালো টাকা সাদা করেছেন। আপনার ছেলেরা কালো টাকা সাদা করলো। আপনি এর সমালোচনা করেন কী ভাবে?”

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এতিমদের টাকা মেরে খেয়েছেন। টাকা পাচার করতে গিয়ে বিদেশে ধরা খেয়েছেন।”

 

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারে অবস্থান অপরিবর্তিত থাকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।”

 

অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর চার দলীয় জোটের ক্ষমতা গ্রহণের পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ওপর অত্যাচার নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “সীমাহীন অত্যাচার ও নির্যাতনের কথা জনগণ ভুলে যায়নি।”

 

মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও কাজী জাফর উল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, মহিলবিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, উপ-দফতর সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস এবং কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এনামুল হক শামীম ও সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।

 

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট