Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

শ্রমিক বিক্ষোভ: আশুলিয়ার সব পোষাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা

ঢাকা, ১৬ জুন: ‘মানসম্মত’ ন্যূনতম বেতন-ভাতার দাবিতে টানা সহিংস শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে নিজেদের ‘নিরাপত্তাহীনতা’র কারণ দেখিয়ে সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের সব পোষাক কারখানা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৈরি পোশাক কারখানার মালিকরা। শনিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ’র (বাংলাদেশ তৈরি পোষাক উৎপাদক ও রফতানিকারক সমিতি) । সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। মালিকরা বলেন ‘জিম্মি করে কোন ভাবেই বেতন বাড়ানো যাবে না।’ একইসঙ্গে ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সারা বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বন্ধ করে’ দেয়ার কথাও জানান তারা।

এর আগে বিজিএমইএ’র ভবনে সমিতিটি’র সঙ্গে বিকেএমইএ’র (বাংলাদেশ নিটওয়ার উৎপাদক ও রফতানিকারক সমিতি) নেতা এবং সাধারণ সদস্যরা এক সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, তারা ‘নিরাপত্তাহীনতা’য় ভুগছেন। তারা সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ‘এ পরিস্থিতি’ অব্যাহত থাকলে শিল্পকে ‘ধরে রাখা’ সম্ভব হবে না। পরে মালিকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি বক্তব্য দেন বিজিএমইএ সভাপতি, পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

ন্যূনতম ও নিয়মিত বেতন ভাতার দাবিতে শ্রমিকদের সহিংস বিক্ষোভের পেছনে ‘পোশাক শিল্প নিয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চক্রান্ত’কে দায়ী করে বিজিএমইএ সভাপতি সফিউল ইসলাম বলেন, ‘‘যারা এই শিল্পকে নিয়ে চক্রান্ত করছে, তাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’’

তিনি বলেন, ‘‘প্রয়োজনবোধে সংসদে নতুন আইন প্রণয়ন করে অর্থনীতি ধবংসকারীদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে, যাতে করে আর কেউ শিল্পকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে। সেই সাথে শিল্প-কারখানা চালানোর জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রদানের জন্যও সরকারকে অনুরোধ করছি।’’

তিনি জানান, সংগঠনের সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, ‘‘শ্রম পরিস্থিতির কোন উন্নয়ন হয়নি, শ্রমিকরা ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না, কারখানা ভাংচুর, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে; এসব কারণে শ্রম আইন – ২০০৬ এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী আশুলিয়া এলাকার সকল রফতানিমুখী পোশাক শিল্প কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।’’

উদ্যোক্তারা ‘নিরাপত্তাহীনতা’য় ভুগছে উল্লেখ করে তিনি  বলেন, ‘‘আমাদের প্রধান প্রধান বাজারগুলোর অনিশ্চিত পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং আমাদের রফতানি প্রবৃদ্ধি স্বাভাবিক রাখার উদেশ্যে শিল্পের উদ্যোক্তাগণ এবং বিজিএমইএ নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধানে ল্যাটিন আমেরিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং সম্প্রতি ভারত ও চীনে বাণিজ্য মিশনসহ নানাবিধ প্রচারমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। ঠিক সেই সময়টিতেই আশুলিয়ায় সংঘটিত অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতীত ক্রমাগত ঘটে চলা এসকল ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড শুধু পোশাক শিল্পের জন্যই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য এক বিরাট হুমকি। শিল্পের সাথে জড়িত কয়েক হাজার উদ্যোক্তা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে কারখানা খুলছেন এবং অনেকেই আক্রমণের স্বীকার হচ্ছেন।’’

পরিস্থিতির উন্নতি না হলে প্রয়োজনে দেশের সকল কারখানা বন্ধের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘শিল্পের সুস্থধারা, আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং যারা এই শিল্পকে অস্থির করার জন্য দায়ী তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়া পর্যন্ত কোন আশ্বাসের ভিত্তিতে আমরা এই কারখানা খুলবো না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে প্রয়োজনে সারা বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বন্ধ করে দিতে আমরা বাধ্য হব।’’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সফিউল ইসলাম বলেন, ‘‘আশুলিয়া অঞ্চলে ৩০০’র বেশি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সবগুলো কারখানা আক্রান্ত হয়েছে। দেশী বিদেশী বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) শ্রমিকদের উস্কানি দিচ্ছে। পোষাক শিল্পের বর্তমান অবস্থায় আমাদের জিম্মি করে কোন ভাবেই বেতন বাড়ানো যাবে না।’’

বিজিএমই’র এক পরিচালক জানান, গত কয়েকদিনে ৭২ জন বিদেশি ক্রেতা কোনো রকম অর্ডার না দিয়ে ফিরে গেছেন। এমন কি আজ চার জন বায়ার বিমানবন্দর থেকে পরিস্থিতি দেখে ফিরে গেছেন। প্রায় প্রতিদিন রফতানি আদেশ বাতিল হচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে এই শিল্পকে কোন ভাবেই টিকিয়ে রাখা যাবে না।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


One Response to শ্রমিক বিক্ষোভ: আশুলিয়ার সব পোষাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা

  1. মামুন আব্দুল্লাহ

    June 17, 2012 at 8:46 am

    মালিক দের এই হঠকারিতার জন্য আমাদের সরকার কি কিছু করবে?নাকি বসে বসে খালি বিরোধি দলের কুত্‍সা গাবে