Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

হামলাকারীরা আগেই জানিয়েছিল আমরা আসছি তোমরা প্রস্তুত থাক

 টেন্ডার নিয়ে কামাল এবং সেন্টু গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই সড়ক ও জনপথ (সওজ)-এর ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবারের বন্দুকযুদ্ধের পর গঠিত দু’টি তদন্ত কমিটির একটির তদন্ত প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। নিরাপত্তা শাখার উপ-পরিচালক চৌধুরী একেএম রুহুল আমিনের নেতৃত্বাধীন কমিটি বৃহস্পতিবার সওজ-এর প্রধান প্রকৌশলী আমিনুর রহমান লস্করের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। কমিটির অপর সদস্য হলেন সহকারী পরিচালক মাকসুদুর রহমান। অপরদিকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আগামী সোম অথবা মঙ্গলবার দাখিল করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ টিমের অন্য সদস্যরা হলেন- সাইফুল হক (অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী) এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইফতেখার কবির। দু’টি তদন্ত কমিটি এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আরও প্রায় ২০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
চৌধুরী একেএম রুহুল আমিন মানবজমিনকে বলেন, আমাদের কাছে তেমন কোন তথ্য নেই। পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেও তথ্য পাচ্ছে না। আমরা কিভাবে পাবো? তবে এতটুকু নিশ্চিত হয়েছি- ঠিকাদারদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। যাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে তারা প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে সাক্ষীরা ভয়ে কারও বিরুদ্ধে কথা বলছে না। যারা গুলির ঘটনা ঘটিয়েছে তারা প্রফেশনাল কিলার। তাদেরকে ভাড়া করে আনা হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, তারা পেশাদার খুনি না হলে গাড়িচালক কিভাবে দু’হাত দিয়ে গুলি ছুড়তে ছুড়তে গেট দিয়ে বেরিয়ে গেল? তিনি জানান, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার আগে ২০-২২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের লিখিত জবানবন্দি নিয়েছি। এরা সবাই সওজ-এর স্টাফ। হামলাকারীরা এতই বেপরোয়া ছিল যে, কয়েক মিনিট আগে ফোন করে জানিয়ে দেয়- আমরা আসছি। তোমরা প্রস্তুত থাকো।
অপর তদন্ত কমিটির প্রধান কাজী মোহাম্মদ আলী জানান, শুনানির জন্য বুধবার আমরা ওপেন নোটিশ করেছিলাম। কেউই নোটিশে সাড়া দেয়নি। এ কারণে ১৮ জনকে লিখিতভাবে চিঠি দিই। এদের বেশির ভাগই সিকিউরিটি গার্ড এবং আনসার। ৩ জন কর্মচারী। যাদেরকে চিঠি দেয়া হয়েছে প্রায় সবাই এসে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। রোববার ৮-১০ জন ও সোমবার ৭-৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তিনি বলেন, সবার কাছ থেকেই লিখিত জবানবন্দি নেয়া হচ্ছে। ১ জনের জবানবন্দি নিতেই ১ থেকে দেড় ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। নির্ধারিত ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া সম্ভব না-ও হতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তারা সবাই বহিরাগত সন্ত্রাসী। সাক্ষীরা কাউকেই চিনতে পারছে না। প্রকৃত ঘটনা বের করতে উভয় গ্রুপের ৭-৮ জন ঠিকাদারকে দু’-একদিনের মধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
গোলাগুলির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বাদী মহানগর উত্তর ছাত্র লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও ঢাকাস্থ গোপালগঞ্জ ছাত্রলীগ কল্যাণ সমিতির সভাপতি গোলাম আজম মামুন জানান, মামলা করার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। এজাহারে উল্লিখিত আসামি কামাল, ফজলু এবং আজাদ সওজ-এর কর্মচারী। তাই আশঙ্কা- সওজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমি ন্যায় বিচার পাবো না। এ আসামিদের বিরুদ্ধে ৩০শে মে পৃথক মামলা করা হয়েছিল। কোন আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ কারণেই তারা পুনরায় এত বড় ঘটনা ঘটানোর সাহস পেয়েছে। তিনি জানান, কামালের অনুগত ঠিকাদাররা এখনও তাকে গোপনে অর্থ এবং শক্তি যুগিয়ে যাচ্ছে।
বিভাগীয় তদন্ত কমিটি হামলাকারী কাউকে চিনতে না পারলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গাড়ি থেকে নেমেই কামাল গুলিবর্র্ষণ শুরু করে। সেন্টুও দু’ হাতে গুলি ছুড়তে থাকে। এ কারণে সন্ত্রাসীরা সেন্টুর কাছে আসার সাহস পায়নি। সেন্টুর কাছে দু’টি পিস্তল ছিল। গুলিবিদ্ধ শামীমের হাতেও ১টি অস্ত্র ছিল। সওজ পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারী হুমায়ুন কবির টুটুল বলেন, আমার এক শুভাকাঙ্ক্ষী আমাকে ফোন করে জানায়, সেন্টুকে খুন করতে সন্ত্রাসী গ্রুপ সড়ক ভবনে আসছে। তাকে সাবধান হতে বলুন। সেন্টু তখন আমার সামনেই ছিল।
পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকেই আমাদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এজাহারে উল্লিখিত আসামি আবুল কালাম আজাদ রিমান্ডে উল্লেখযোগ্য কোন তথ্য দিচ্ছে না। অফিস সহকারী কামাল উদ্দিন খন্দকার, চেইনম্যান ফজলুর রহমান এবং তেজগাঁও-এর সন্ত্রাসী রফিককে গ্রেপ্তার করতে পারলেই বাকি সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, সড়ক ভবনে সংঘর্ষের ঘটনায় বেশকিছু নতুন তথ্য পেয়েছি। এজাহারে উল্লিখিত ৪ আসামি ছাড়া আরও ৩ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছি। তাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করেছি। এর মধ্যে ১ জন সওজ কর্মচারী। বাকি দুজন ভাড়াটে। এদের এবং কামালসহ এজাহারে উল্লিখিত ৩ আসামিকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, কামাল নামমাত্র কর্মচারী। তিনি কর্মচারীর আড়ালে ঠিকাদারী ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সওজ-এর লিস্টে যে কয়জন ঠিকাদার রয়েছে তাদের তালিকা চেয়েছি। এখান থেকে বের করা হবে- কারা কামাল গ্রুপের এবং কারা সেন্টু গ্রুপের সদস্য। তিনি জানান, তদন্তের স্বার্থে সওজ-এর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জড়িত যারাই থাকুক না কেন আইনের আওতায় আনা হবে। ওসি জানান, কামাল সওজ-এর ঢাকা সার্কেলে (এলেনবাড়ি) বসলেও তিনি প্রধান কার্যালয়ও নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিলেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামি আবুল কালাম আজাদ তার গ্রুপের সদস্য। আজাদ রিমান্ডে সংঘর্ষের সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) এমএ জলিল বলেন, চাকরির সুবাদে কামাল পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতেন। অপরদিকে সেন্টু-শামীম গ্রুপ চাচ্ছিল সওজ-এর টেন্ডার প্রক্রিয়া তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে কামাল শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার পাশাপাশি ঠিকাদারদের একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট