Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

আমাদের জেলে ঢুকিয়ে সরকারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে: ফখরুল

ঢাকা, ১৫ জুন: বৃহস্পতিবার রাতে কারামুক্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির টার্গেট নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করা। নইলে ঈদের পর কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি আসবে। তিনি দাবি করেন বিরোধীদলীয় নেতাদের এক সঙ্গে জেলে ঢুকিয়ে সরকারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শুক্রবার সকালে উত্তরার বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “১১ জুন আমাদের নেত্রী দুই মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এই কর্মসূচি অর্থ কোনো পিছুটান নয়। আমরা আশা করব, এই সময়ের মধ্যে সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নিয়ে সংলাপে বসবে।” তা না হলে ঈদের পর কঠোর কর্মসূচি হবে।

সকাল থেকেই উত্তরার বাসায় দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে শুভেচ্ছা জানাতে ফুলের তোড়া নিয়ে নেতা-কর্মীদের ভিড় জমে। ড্রইং রুমে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিয়ম করেন তিনি।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান আন্দোলন, ২৮ দিনের কারাজীবনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।

চলমান আন্দোলন ও বিএনপির লক্ষ্য
সরকারের দমননীতি বিশেষ করে সিনিয়র নেতাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতারের ঘটনাকে মির্জা ফখরুল ইসলাম ‘নজিরবিহীন’ অভিহিত করে বলেন, “জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিবিদদের এভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে এক সঙ্গে আটকে রেখে সরকার বিরোধী দলকে সীমিত করে রাখার অপচেষ্টা করছে। আটক নেতাদের কাউকে কাউকে মুক্তি দিয়ে আবার অন্য মামলায় গ্রেফতার করা হচ্ছে। সরকারের এই কৌশলের উদ্দেশ্য বিরোধী দলকে হতোদ্দম করে দেয়া।”

তিনি দাবি করেন, “সরকারের এই চেষ্টা সফল হয়নি। ভেতরে-বাইরে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত সৃষ্টি হয়ে গেছে।”

চলমান আন্দোলন সম্পর্কে  তিনি বলেন, “সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এমন সব ইস্যু তৈরি করেছে, যাতে আমাদের আন্দোলন করা ছাড়া আর বিকল্প কিছু নেই। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি এই সরকারই বাতিল করেছে। তাকেই তাদের আবার পুনর্বহাল করতেই হবে।”

আন্দোলনের সফলতা দাবি করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “আমাদের দুই মাসের কর্মসূচি দেখে ভুল বুঝার কোনো অবকাশ নেই। আমরা কোনো পিছুটান দিইনি। বরং সরকারকে দুই মাস সময় দেয়া হয়েছে। যাতে তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হয়। নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পথে আসতে পারে।”

“আগে সরকার নির্দলীয় সরকারের ব্যবস্থার নাকচ করে দিতো। এখন সেই জায়গা থেকে তারা সরে এসে অন্তবর্তীকালীন সরকার হতে পারে বলে বলছেন। দেরিতে হলেও সরকার এই জায়গায় এসেছে। যদিও সংবিধানে অন্তবর্তীকালীন সরকার বলে কিছুই নেই। আমরা মনে করি, সেই সময় দূরে নয়, সরকার বাধ্য হবে নির্দলীয় সরকারের জায়গা আসবে।”

মির্জা ফখরুল আশা করেন, “সংলাপ বসার বিষয়টি সরকার যত দ্রুত অনুধাবন করতে পারবেন, ততই দেশের মঙ্গল হবে।”

তিনি বলেন, “বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। আমাদের টার্গেট নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করা। সরকারকে নির্দলীয় সরকারের দাবি মানতে বাধ্য করা হবে। আগামী নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। আমরা ঈদ পর্যন্ত অপেক্ষা করব বলে সেভাবে আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়েছি।”

মির্জা ফখরুল  মনে করেন, বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে সরকার ভুল করেছে। তিনি বলেন, “এরকম মিথ্যা মামলা দিয়ে সরকারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনগণ তাদের এই অপকৌশল বুঝে গেছে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে পারেনি।”

নাজমুল হুদা প্রসঙ্গে
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, “বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। এখানে নেতৃত্বে প্রতিযোগিতা থাকবে। তবে তাই বলে দল ভাঙার কোনো সুযোগ নেই। দল থেকে কেউ বেরিয়ে যেতে পারেন। যেমন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। কিন্তু এতে দল ভাঙবে না, বিভক্ত হবে না।”

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা পদত্যাগ সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বয়স্ক ব্যক্তি। আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আমি শুধু বলতে চাই, বিএনপি একটি বিশাল প্রবহমান নদীর মতো। এতে কিছু খড়কুটো ভেসে গেলে নদীর কিছু আসবে, যাবে না।”

ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, “বর্তমান সরকার সামরিক সরকারের মতো দল ভাঙার কাজ করছে বলে প্রচারণা আছে। আমরা আশা করব, আওয়ামী লীগ দল ভাঙার এ রকম কৌশল নেবে না।”

২৮ দিনের কারাবাস
মির্জা ফখরুল ইসলাম জানান, কাশিমপুর কারাগারে ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। চারটি পত্রিকা পড়তে দেয়া হতো। বিটিভি ছাড়া কোনো টেলিভিশন দেখার সুযোগ ছিলো না। কাশিমপুর কারাগারের পরিবেশ তুলনামূলক ভালো।

তবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তিনিসহ নেতারা দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল  বলেন, “১১ জুন গণসমাবেশের আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারিনি, এতে আমি দুঃখ পেয়েছি। আবার এই গণসমাবেশে ১২ মার্চের মতো ব্যাপক মানুষের সমাগম ঘটেছে, এতে আমিসহ আটক নেতারা উজ্জীবিত হয়েছি।’’

বিচার বিভাগ দলীয়করণের জন্য সরকারের সমালোচনাও করেন তিনি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট