Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

দিনভর নাটকের পর ৯ নেতার মুক্তি, ৪ জন জেলগেটে গ্রেফতার

ঢাকা, ১৫ জুন: বিএনপি জোটের সিনিয়র নেতাদের জামিনে মুক্তি নিয়ে বৃহস্পতিবার দিনভর নাটকের অবসান হয় রাত সাড়ে ১১টায় জেলগেটে চার নেতাকে পুনরায় গ্রেফতারের মাধ্যমে। এদিন কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আসম হান্নান শাহ, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও কামরুজ্জামান রতন। একই সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী ও জোটের শরিক এনপিপি চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নীলু।

মুক্তি পাওয়ার পর কাশিমপুর কারাগারের গেইট থেকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয় হাবিব-উন-নবী সোহেল, মীর সরফত আলী সপু, সাইফুল আলম নীরব ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জহুরুল হক আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তলবি সমন প্রত্যাহার করে জামিন দেন।

আদালতের কাগজপত্র নিয়ে আইনজীবীরা বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যান। সেখানের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কাগজপত্র কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছে রাত ৯টায়।

এদিকে নেতাদের মুক্তির খবরে বিকেল থেকে কাশিমপুর কারাগারের মেইন গেইটে কয়েকহাজার নেতাকর্মী ভিড় জমায়।

নেতাকর্মীদের ভিড়ের কারণে জেল গেইটে নিরাপত্তারক্ষীরা ছিল কড়া পাহাড়ায়। নেতাকর্মীদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি তারা। এমনকি সাংবাদিকদেরও বিকেল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বসে থাকতে হয় প্রধান গেটের ভেতরে।

রাত আটটার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গাজীপুরের সাবেক এমপি অধ্যাপক আবদুল মান্নান গাড়িতে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেয়। এ নিয়ে মিনিট দশের বাকবিতণ্ডার পর গাড়িসহ তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়।

৯টায় কারাগারের গেটে আসেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তার গাড়ি গেটে থামিয়ে রেখে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ফোন করা হয়। কর্মকর্তা তাকে গেটে অপেক্ষা করতে বলেন। প্রায় ১৫ মিনিট পর তার গাড়ি প্রবেশের অনুমতি মেলে।

রাত ৯টায় জামিনের কাগজ আসার পর সাংবাদিকরা সব ভিড় করে ২ নম্বর কারাগারের গেইটে। এক এক করে সেখানে শ’খানে নেতাকর্মীও ঢুকে পড়ে। যদিও মেইন গেটে কড়াকড়ি ছিল তারপরও বিভিন্নভাবে এরা ভেতরে প্রবেশ করে। শুরু হয় অপেক্ষার পালা।

রাত ৯টা ৩৫ মিনিটের সময় ২ নম্বর কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার সঙ্গে বের হন বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। এ দুজনই ছিলেন কারাগার-২ এ।

তারা বেড় হয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে শ’খানেক নেতাকর্মী হুমড়ি খেয়ে পড়েন কে কার আগে ফুলের মালা দেবেন ফখরুলের গলায়। স্থানীয় সাংবাদিক ও ঢাকা থেকে যাওয়া অর্ধশতাধিক সাংবাদিক নেতাকর্মীদের এমন আচরণে হতবিহবল হয়ে পড়েন। মির্জা আলমগীরও এক পর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার উপক্রম হয়। মিনিট পাঁচেক এভাবে চলার পর এক মিনিটের মতো কথা বলতে পারেন মির্জা ফখরুল। উঠে পড়েন গাড়িতে। পৌনে দশটার দিকে কারাগার ত্যাগ করেন তিনি।

এরপর কাশিপুর কারাগার-১ এর গেইটে অপেক্ষা। ১ এর ভেতরে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব. আসম হান্নান শাহ। এ গেইটের সামনেও শ’খানেক নেতাকর্মী আর তাদের স্বজনেরা অপেক্ষা করছিলেন। রাত সাড়ে দশটায় ড. মোশাররফ আর হান্নান শাহ বেরিয়ে আসেন কারাগারের গেইট থেকে। সেখানেও চলে বেশ কিছুক্ষণ হুড়োহুড়ি।

যেভাবে গ্রেফতার করা হয় চার নেতাকে
ড. মোশাররফ ও হান্নান শাহ রাত সাড়ে দশটায় কারাগার ত্যাগ করার পর সাংবাদিক ও জনাপঞ্চাশেক নেতাকর্মী জড়ো হয় কাশিপুর কারাগার-৪ এর সামনে। এটাকে বলা হয় হাই সিকিউরিটি জেল। এই জেলে রাখা হয় মূলত দুর্ধর্ষ অপরাধীদের। রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতারকৃতদের কেনো এখানে রাখা হয়েছে তার উত্তর কেউ দিতে পারেনি।

এই জেলের গেইটে সাংবাদিকরা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারাগারের গেইটের নিরাপত্তাকর্মী ও সিভিল ড্রেসের কয়েকজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের দূরে থাকতে বলেন।

কিছুক্ষণ পরেই পুলিশও তলব করা হয়। তারা এসে আবার সাংবাদিকদের দূরে সরিয়ে দেয়।

কারাগারের গেইটের নিকটে গোয়েন্দা পুলিশের দু’টি সাদা মাইক্রোবাস ও আট/দশজন সিভিল পোশাকের গোয়েন্দাকর্মী আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন।

এদিকে সিভিল পোশাকের ৫/৬ জন কর্মকর্তা বারবারই সাংবাদিকদের দূরে যেতে বলছিলেন। কয়েকজন সাংবাদিক তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিও করেন।

রাত সোয়া ১১টায় বিদ্যুৎ চলে যায়। এ সময় একটি পুলিশ ভ্যানে বেশকিছু পুলিশ আসে। মাইক্রোবাস দুটি কারাগারের গেটের সঙ্গে প্লেস করা হয়। সাংবাদিকদের আবারো দূরে যাওয়ার নির্দেশ আসে।

ঠিক ১১টা ২০ মিনিটের সময় অন্ধকারের মধ্যে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাবিবউন নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, যুবদলের সাধারণ সম্পদক সাইফুল আলম নীরব ও ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে কালোগ্লাস লাগানো ওই মাইক্রোবাস দুটিতে তুলে নেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এ কাজে জেলখানার সিভিল পোশাকের কর্মীরা তাদের সহায়তা করে। অর্থাৎ ওই নেতাদের জেল গেট থেকে দশ গজ সামনেও আসতে দেয়নি তারা। অথচ জেল সুপার সাংবাদিকদের বলেন, আমরা পাঁচজনকে মুক্তি দিয়েছি। তাদের গোয়েন্দা পুলিশ নিয়েছে কি না জানি না।

এ সময় ছাত্রদলের সাবেক নেতা সদ্য বিএনপিতে যোগ দেয়া কামরুজ্জামান রতনকে গোয়েন্দারা গ্রেফতার করেনি। তিনি অপেক্ষমাণ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালামের সঙ্গে গাড়িতে উঠে বাসায় চলে যান।

একই মামলায় জামিন পাওয়া বিএনপির আরো ৯জন নেতা ওই হাই সিকিউরিটি জেলে রয়েছেন। তাদের কেনো মুক্তি দেয়া হয়নি এ বিষয়ে কিছু জানায়নি জেল কর্তৃপক্ষ। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এই নেতাদেরও জেল গেট থেকে আটক করতে পারে গোয়েন্দা পুলিশ। সেজন্য এক সঙ্গে মুক্তি না দিয়ে তাদের মুক্তিতে বিলম্ব করা হচ্ছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট