Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

আবারো অস্থায়ী ভিত্তিতে অতিরিক্ত বিচারক, নীতিমালার রুল শুনানি হিমাগারে

ঢাকা, ১৪ জুন : কোনো ধরনের নীতিমালা ছাড়াই আবারো সুপ্রিম কোর্টে’র হাই কোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক হিসাবে অস্থায়ী বিচারক হিসাবে নিয়োগ দেয়া হল ছয়জনকে। এ ধরনের নিয়োগে বিচার বিভাগের রাজনীতিকীকরণ হওয়া ছাড়াও মেধাবী ও দক্ষ বিচারক থেকে বিচার ব্যবস্থা বঞ্চিত হয় উল্লেখ করে দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছেন দেশের সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনবিদরা। তাছাড়া নীতিমালা ছাড়া সরাসরি স্থায়ী বিচারক নিয়োগ না দিয়ে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে ‘অস্থায়ী নিয়োগে’র সময়ে মূলত স্থায়ী নিয়োগের আগে আনুগত্য যাচাই হয় বলেও অভিযোগ আছে।

ওদিকে, নীতিমালা প্রণয়নের উদ্দেশ্যে হাই কোর্ট বিভাগের জারি করা একটি রুলের বয়স দুই বছর পেরোতে চললেও অজানা কারণে রুল শুনানি মামলার কার্যতালিকায় আসেনি কখনো। এরই মধ্যে বুধবার রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে ছয় জনকে দুই বছরের জন্য অস্থায়ী নিয়োগ দেন।

বুধবারে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকরা হলেন আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব আশীষ রঞ্জন দাস, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আলতাফ হোসেন ও বদরুজ্জামান বাদল এবং তিন আইনজীবী কাজী মো: ইজারুল হক আকন্দ, মাহমুদুল হক ও জাফর আহমদ। এই নিয়ে বর্তমান সরকারের সময় তিন ধাপে হাই কোর্ট বিভাগে ৪৭ জন বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

প্রধান বিচারাপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন বৃহস্পতিবার নতুন ছয় অতিরিক্ত বিচারককে  শপথ পড়াবেন বলে জানা গেছে।

নীতিমালা চেয়ে জারি রুলের শুনানি হিমাগারে
এর আগে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগে নীতিমালা করার  জন্য কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তার কারণ জানতে চেয়ে সরকারের প্রতি রুল জারি করেছিল হাই কোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ। একইসঙ্গে প্রণীত নীতিমালা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ কেন করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়।

২০১০ সালের ৬ জুন জারি করা ওই রুলে চার সপ্তাহের মধ্যে সরকারের আইন সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারকে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীর এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাই কোর্ট বিভাগের বিচারক মো. ইমান আলী ও ওবায়দুল হাসানের যুগ্ম বেঞ্চ এ রুল জারি করেছিল। আবেদনটির রুলের শুনানির জন্য এরপর আর কোনোদিন মামলার কার্যতালিকায় আসেনি।

সুপ্রিম জুডিসিয়াল কমিশন: সম্ভাবনার মৃত্যু
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিচারক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক এড়াতে একটি আইন প্রণয়ন করে। ‘সুপ্রিম জুডিসিয়াল কমিশন অধ্যাদেশ ২০০৮’ নামের এ অধ্যাদেশটিতে সম্ভাব্য বিচারকের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, জ্যেষ্ঠতা, সততা ও সুনামসহ কিছু বিষয় নির্ধারণ করে বিধান রাখা হয়।

উপযুক্ত ব্যক্তি বাছাই করতে কমিশনের মৌখিক সাক্ষাতকার গ্রহণ, এমনকি বাছাই প্রক্রিয়ায় কারো মতামত বা পরামর্শ প্রয়োজন হলে যে কোনো ব্যক্তিকে কমিশনের সভায় আমন্ত্রণ করার বিধান ছিল। স্থায়ী করার ক্ষেত্রে হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে দক্ষতা, জ্যেষ্ঠতা, পেশাগত সততা ও সুনামসহ সার্বিক উপযুক্ততা বিশেষভাবে বিবেচনা করার ক্ষমতা ছিল কমিশনের।

হাই কোর্ট বিভাগ থেকে আপিল বিভাগে নিয়োগের ক্ষেত্রেও অভিন্ন বিধান অনুসরণ করার বিধান রাখা হয়। কিন্তু হাই কোর্ট বিভাগে আইনটি চ্যালেঞ্জ করা হলে অধ্যাদেশের একটি উপবিধি অকার্যকর হিসেবে বাতিল করা হয়। মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এ অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করার পথে আর এগোয়নি।

নীতিমালাহীন নতুন নিয়োগ

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাই কোর্ট বিভাগে নতুন বিচারক নিয়োগের জন্য আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি তালিকা প্রধান বিচারপতির নিকট পাঠানো হয়েছে। প্রধান বিচারপতির মতামতের ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগ দেয়া হবে। এ তালিকায় বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, আইন কর্মকর্তা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা রয়েছেন। তালিকায় ১০ থেকে ১২ জনের নাম রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার একেএম শামসুল ইসলাম বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে জায়গা বুঝে পাবার পর সেখানে নতুন পাঁচটি এজলাস তৈরির কাজ চলছে। পাঁচটি এজলাস শেষ হলে বিচারপ্রার্থীরা অনেক উপকৃত হবেন। নতুন বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। আইন মন্ত্রণালয় থেকে যে তালিকা আসে তাতে প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের সম্মতি নিয়েই নতুন বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হবে।

‘বিচার বিভাগ সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছা অনিচ্ছায় চলছে’
সর্বোচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগ বিষেয়ে নীতিমালা না থাকায় কি  ধরণের সমস্যা হচ্ছে? বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘‘বাংলাদেশের সব পেশায় জনবল নিয়োগের নীতিমালা থাকলেও শুধু সুপ্রিম কোর্টই একমাত্র ব্যাতিক্রম।’’

তিনি বলেন, ‘‘সবোর্চ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় রাজনৈতিক সরকার গুলো দলীয় মনোভাবের ভিত্তিতে নিয়োগ দিচ্ছেন। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দক্ষ ও যোগ্য আইনজীবীরা।” তিনি আরো বলেন, ‘‘বিচার বিভাগ সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছা অনিচ্ছায় চলছে। সুনিদির্ষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগ করা হলে যেমন সুবিচার নিশ্চিত হতো তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোও সুবিধা পেত।’’

তিনি বলেন, ‘‘বিচারক নিয়োগে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব ও অসচ্ছতার দায়ভার ভবিষ্যাতে রাজনৈতিক দল হিসাবে তাকেই বহন করতে হবে।’’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শম রেজাউল করিম বলেন, ‘‘বাংলাদেশের সবোর্চ্চ আদালতের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ  জায়গায় বিচার কাজ করতে হলে তাকে অবশ্যই রাজনীতির উর্দ্ধে থাকতে হবে। থাকতে হবে যোগ্যতা মেধাবী ও রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষতা।’’

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট