Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

রাজধানীতে ওয়েসিস-এর প্রতারণার ফাঁদ

রাজধানীতেও প্রতারণার জাল পেতেছে হোটেল ওয়েসিস। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আকর্ষণীয় বিলবোর্ড লাগিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ করছে তারা। সম্পূর্ণ অবৈধ এ প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ৫ তারকা হোটেল নির্মাণের কথা বলে ইতিমধ্যে অন্তত ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। ৪০ হাজার গ্রাহক সৃষ্টি করে অন্তত ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে ওয়েসিস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট নামের এই প্রতিষ্ঠান। রাজধানীর পান্থপথের ৬৯/১ চন্দ্রশিলা সুবাস্তু টাওয়ারে স্থাপন করা হয়েছে প্রধান কার্যালয়। এছাড়া, মহাখালী ডিওএইচএস এলাকার ৭ নং রোডের বি ১১৫ নং বাড়িতে স্থাপন করা হয়েছে শাখা অফিস। এ দু’টি অফিস থেকেই রাজধানীতে তৎপরতা চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানির বিজ্ঞাপনে বলা হচ্ছে, নির্ধারিত ১ লাখ টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকার বুকিং মানি এককালীন পরিশোধ করতে হবে। বাকি ৫০ হাজার টাকা প্রতি মাসে ২ হাজার টাকার কিস্তিতে দেয়া যাবে। তবে কিস্তি এবং বুকিং মানির পরিমাণ কোম্পানি ইচ্ছা করলে পরিবর্তন করতে পারবে।
অভিনব কৌশল: হোটেল ওয়েসিস অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড এমএলএম ব্যবসার মতো কৌশল নিয়ে বাজারে এসেছে। তারা বলছে, মাত্র ১ লাখ টাকায় ১৪ তলা হোটেলের মালিক হওয়া যাবে। একজন মালিক বছরে একবার দুই রাত ৩ দিন হোটেলে ফ্রি থাকার সুযোগ পাবেন। এছাড়া, হোটেলের মুনাফার অংশও পাবেন মালিক। প্রস্তাবিত এ হোটেলের একেকটি কক্ষ অন্তত ১৯০ জনের কাছে বিক্রি করা হবে। এদের সবাই সমানভাবে মালিক হিসেবে বিবেচিত হবেন। হোটেল ওয়েসিসের ৪০ হাজার শেয়ার ৪০ হাজার গ্রাহকের মধ্যে বিক্রি করা হবে। এর মাধ্যমে ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে হোটেল কর্তৃপক্ষ।  হোটেলের একটি কক্ষ বিক্রি করা হবে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকায়। কোম্পানির প্রস্তাব অনুযায়ী ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে সাফ কবলা রেজিস্ট্রিমূলে গ্রাহক পুরো হোটেলের দশমিক ০০৩৮ শতাংশ জমি এবং ৯ দশমিক ৪৪ বর্গফুট স্থাপনার মালিক হবেন।
যা বলা হচ্ছে না: ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারী হোটেলের ব্যবস্থাপনায় অংশ নিতে পারবেন কিনা, কতদিনের জন্য তিনি হোটেলে মালিকানা পাবেন, মালিকানা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে সমাধান কিভাবে হবে- ইত্যাদি প্রশ্নের কোন উত্তর তাদের কাছে নেই। তাছাড়া, হোটেল যদি লোকসান দেয় তবে লোকসানের অংশ কিভাবে বণ্টন করা হবে তা-ও স্পষ্ট করা হয়নি। কেউ পরবর্তী সময়ে তার মালিকানা বিক্রি করতে চাইলে কিভাবে তা করা হবে সেটাও স্পষ্ট নয়। এছাড়া, একজন গ্রাহক তার জন্য নির্ধারিত ৩ দিন ২ রাতের কোটা ব্যবহারের পরও হোটেল ব্যবহার করতে চাইলে কিভাবে তা ব্যবহার করতে পারবেন এসব বিষয় স্পষ্ট করা হয়নি। হোটেল ওয়েসিস অ্যান্ড রিসোর্ট অনুমোদনহীন অবৈধ একটি প্রতিষ্ঠান বলে ইতিমধ্যে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। তাদের কার্যক্রম ও বিজ্ঞাপন প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে। কিন্তু রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ওয়েসিস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের বিশাল আকারের বিলবোর্ড শোভা পাচ্ছে। সেগুলো অপসারণ করা হয়নি। গতকাল যোগাযোগ করা হলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোকনউদ্দৌলা বলেন, বিষয়টি যেহেতু রাজউকের আওতায় নয় তাই রাজউক এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না। তবে সিটি করপোরেশন অবৈধ এ সব বিলবোর্ড উচ্ছেদ করতে পারে।
সরজমিন: গতকাল পান্থপথের ৬৯/১, সুবাস্তু টাওয়ারের ৭ম তলায় গিয়ে দেখা যায় হোটেল ওয়েসিস অ্যান্ড রিসোর্টের বিশাল বিলাসবহুল অফিস। কাঁচঘেরা অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যস্ত। ওয়েসিস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের চেয়ারম্যান হাজী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সুবাস্তু টাওয়ারের প্রধান কার্যালয় থেকে বলা হয়, তিনি মহাখালী অফিসে বসেন। মহাখালী অফিসে যোগাযোগ করা হলে বলা হয় চেয়ারম্যান চট্টগ্রামে আছেন। চট্টগ্রামে ফোন করা হলে জয় নামের এক ব্যক্তি ফোন রিসিভ করেন। তিনি নিজেকে ওয়েসিস হোটেলের কর্মচারী পরিচয় দিয়ে বলেন, স্যার ঢাকায় আছেন। ঢাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রতিষ্ঠানের মহাখালী অফিসে ফোন করে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সেখান থেকে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়। প্রকল্প পরিচালক মেজর (অব.) আতাউল বলেন, আমাদের কাগজপত্রে ত্রুটির যে বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে এসেছে তা দূর করার চেষ্টা করছি। পরিবেশ ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। তিনি বলেন, আমরা যে সব গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলাম তাদের সবার টাকা ফেরত দিয়েছি। যোগাযোগ করা হলে হোটেল ওয়েসিসের মার্কেটিং বিভাগের প্রধান আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, যে সব বিনিয়োগকারী টাকা ফেরত চাইছেন তাদের টাকা আমরা ফেরত দিচ্ছি। তিনি বলেন, ওয়েসিস হোটেল সম্পর্কে যে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে তাতে কিছু ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে। মামুন বলেন, কোন জমির ওপর নির্মিত একাধিক ফ্ল্যাট যদি বিক্রি করা যায় তবে একাধিকজনের কাছে একটি কক্ষ কেন বিক্রি করা যাবে না। একটি কক্ষ ৫০০ জনের কাছে বিক্রি করলে তা বেআইনি নয়। তিনি বলেন, আপাতত আমরা কোম্পানির কার্যক্রম স্থগিত রেখেছি। প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সেগুলো পেলেই আবার কার্যক্রম শুরু হবে। ওয়েসিস হোটেলের ক্লায়েন্ট রিলেশন অফিসার সাইফুর রহমান বলেন, গ্রাহকরা টাকা ফেরত চাইলে ১ সপ্তাহ সময় চাওয়া হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যেই টাকা ফেরত দেয়া হচ্ছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট