Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

আর দেখা হবে না পিতা-পুত্রের

প্রায় দুই বছর থেকেই এটা তার রুটিন। ট্রাইব্যুনালে এসে পিতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার কার্যক্রম দেখা। তবে গতকালের দিনটি ছিল ব্যতিক্রম। ঘড়িতে তখন দুপুর ১টা। বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেছেন। কাঠগড়া থেকে নিচে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মাওলানা সাঈদী। ঠিক তখনই হঠাৎ করে বুকে ব্যথা অনুভব করলেন তার বড় ছেলে মাওলানা রাফিক বিন সাঈদী। দ্রুত নিচে নেমে এলেন। তাকে নিয়ে যাওয়া হলো ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালে। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এভাবেই হার্ট অ্যাটাকে ইন্তিকাল করেছেন মাওলানা রাফিক বিন সাঈদী (ইন্না লিল্লাহি…রাজিউন)। আজ তার জানাজা অনুষ্ঠিত হতে পারে। পুত্রের জানাজায় অংশ নিতে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্যারোলে মুক্তির চেষ্টা চলছে। প্যারোল পেলে ছেলের জানাজায় ইমামতি করবেন তিনি। এর আগে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায়ও ইমামতি করেছিলেন সাঈদী। সাঈদীর আরেক ছেলে মাসুদ বিন সাঈদী বলেছেন, সকাল থেকে ভাইয়া ট্রাইব্যুনালে ছিলেন। দুপুরে তার বুকে ব্যথা ওঠে। তখন তিনি আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে গাড়িতে বসেন। পরে ব্যথা বাড়লে তাকে ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নেয়া হয়। ইব্রাহীম কার্ডিয়াক কার্ডিওলজি বিভাগের রেজিস্ট্রার সৈয়দ দাউদ মো. তৈমুর সাংবাদিকদের বলেন, ৪৩ বছর বয়সী রাফিকের হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। আমাদের এখানে আসার আগেই তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে রাফিক মা-বাবা, স্ত্রী, দুই মেয়ে, এক ছেলে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বিকাল সোয়া পাঁচটার দিকে তার মরদেহ বারডেম থেকে শহীদবাগে নিজের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। লাশ গোসল দেয়ার পর রাতে ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালের হিমাঘারে রাখার কথা। রাফিক বিন সাঈদী তার পিতার মতোই বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দিতেন। দিগন্ত টিভিতে তিনি একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপস্থাপন করতেন। পিতা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন রাফিক বিন সাঈদী। কিন্তু পিতার বিচার কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগেই মৃত্যুর কাছে হেরে বিদায় নিলেন তিনি। গতকালই শেষ বারের মতো দেখা হলো পিতা-পুত্রের।
বিভিন্ন মহলের শোক: মাওলানা রাফিক বিন সাঈদীর ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মহল। জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ, সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আবুল কালাম মুহাম্মদ ইউসুফ, নায়েবে আমীর অধ্যাপক এ.কে.এম নাজির আহমাদ ও মাওলানা আবদুস সুবহান এবং ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এক শোকবাণীতে বলেন, রাফিক বিন সাঈদীর আকস্মিক ইন্তিকালে জাতি একজন খ্যাতিমান আলেমে দ্বীনকে হারালো। তিনি ছিলেন আল্লাহর দ্বীনের জন্য নিবেদিতপ্রাণ একজন আলেম। তিনি ইসলাম প্রচার ও আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার জন্য সারা জীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তার পিতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের কারাগার থেকে মুক্ত করার কঠিন সংগ্রামে তিনি নিয়োজিত ছিলেন। আর এ অবস্থায়ই তিনি দুনিয়া থেকে চলে গিয়েছেন। এছাড়া মরহুমের ইন্তিকালে শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম বুলবুল, সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি মাওলানা মুহিউদ্দিন খান ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, মসজিদ মিশনের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন ও জেনারেল সেক্রেটারি ড. মাওলানা খলিলুর রহমান আল-মাদানী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ও সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল জব্বার, সুশীল ফোরামের সভাপতি মো. জাহিদ প্রমুখ।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট