Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

দুর্ভোগ

‘বিএনপি’র সমাবেশের জন্য কেউ এলে নেমে যান, নইলে গ্রেপ্তার করা হবে’- গতকাল আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডমের সামনে বসানো পুলিশের চেকপোস্টে এভাবেই যাত্রীদের সতর্ক করে পুলিশ। যাত্রীদের নামিয়ে দেহ তল্লাশি করা হয়। সঙ্গে থাকা মালামাল তন্ন তন্ন করে দেখা হয়। রাজধানীর সবগুলো প্রবেশমুখে গতকাল ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা দেখা যায়। ঢাকার বাইরে থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী বাসগুলোকে ঢাকায় ঢুকতে দেয়া হয়নি। যাত্রীদের নামিয়ে বাসগুলো ঘুরিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে মালপত্র নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেকে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধাদের ভোগান্তি ছিল চরমে। ঢাকার অভ্যন্তরে যানবাহন ছিল তুলনামূলক কম। যে সব বাস চলেছে সেগুলো ছিল যাত্রীতে ঠাসা। ফলে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাসে উঠতে পারেন নি। বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটেই রওনা দিয়েছেন অনেকে। যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, আমিনবাজার, আবদুল্লাহপুর সহ রাজধানীর সবগুলো প্রবেশমুখেই পুলিশের কড়াকড়ি ছিল। প্রবেশ মুখগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
পথে পথে ভোগান্তি: বাস থেকে নামিয়ে দেয়ার পর যে সব যাত্রী পায়ে হেঁটে ঢাকায় ঢুকেছেন তাদেরকেও পুলিশের হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। সঙ্গে থাকা ব্যাগ একাধিকবার খুলতে হয়েছে। জিনিসপত্র এলোমেলো করে তল্লাশি করেছে পুলিশ। সাভার থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার পথ হেঁটেই আসতে হয়েছে অনেককে। অনেকে বাধ্য হয়ে ভারি মালামাল মাথায় নিয়ে হেঁটেছেন। কেউবা ৪-৫ গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে রিকশা বা সিএনজি অটোরিকশায় উঠেছেন। অনেক যাত্রীকে খোলা মিনি পিকআপ ভ্যানে চড়ে গন্তব্যে রওনা হতে দেখা গেছে।
পায়ে হেঁটে রোগীরা হাসপাতালে: এক হাতে স্যালাইনের ব্যাগ ধরে হাসপাতালের উদ্দেশে শ্যামলী বাসস্ট্যান্ডের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন মানিকগঞ্জ থেকে আসা সামসু মিয়া। সঙ্গে তার নাতি আবদুল বশির। বশিরের হাতে এক গাদা বিভিন্ন পরীক্ষার কাগজপত্র। সামসু মিয়ার পিত্তথলিতে পাথর জমেছে। মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে কিছুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ডাক্তার তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছে। জরুরি অপারেশন করতে হবে। গতকাল মানিকগঞ্জ থেকে বাসে চড়ে নাতিকে সঙ্গে করে রওনা দেন তিনি। গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে ঢোকার আগেই আমিনবাজারে তাদের বাস আটকে দেয় পুলিশ। যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে বাসটি ঘুরিয়ে দেয়া হয়। মাজার রোড পর্যন্ত হেঁটে এসে বাসে চড়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ভিড়ের কারণে কোন বাসেই চড়তে পারেননি। নিরুপায় হয়ে হেঁটেই শ্যামলীর সোহরাওয়ার্দী কলেজের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।
চেকপোস্টে পুলিশের হুমকি: রোববার চাঁপাই নবাবগঞ্জ থেকে রাত সাড়ে ১০টায় ছেড়ে আসা হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ৮ দফা তল্লাশির মুখে পড়ে। চাঁপাই নবাবগঞ্জ থেকে বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে ঢোকার আগে একবার পুলিশের নিয়মিত চেকপোস্টে থামানো হয় বাসটিকে। সেখানে যাত্রীদের নামিয়ে তাদের লাগেজপত্রে তল্লাশি চালানো হয়। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বাসটিকে থামায় র‌্যাব। দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে নাটোরে ঢোকার আগেই বাসটিকে থামায় বিজিবি সদস্যরা। তারা যাত্রীদের মালামাল বাস থেকে নামিয়ে চেক করে। নাটোর বাইপাস হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার আগেই সেতুর দক্ষিণ থানা পুলিশের তল্লাশি। সেতু পার হওয়ার পর আবার চেকপোস্ট। বাসটি আশুলিয়া ঢোকার আগে বাইপাইল মোড়ে আরেক দফা তল্লাশির মধ্যে পড়ে। আশুলিয়া ফ্যান্টাসি কিংডমের সামনে বাসে ওঠে আশুলিয়া থানা পুলিশ। তারা যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। একসঙ্গে বাসে উঠে ৪-৫ জন পুলিশ সদস্য। এ সময় তাদের বুকে নেমপ্লেট ছিল না। পুলিশ যাত্রীদের উদ্দেশ্য করে বলে, কেউ যদি বিএনপি’র সমাবেশের জন্য এসে থাকেন তবে এখনই বাস থেকে নেমে বাড়ি চলে যান। নইলে ঢাকায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার হবেন। সেখান থেকে বাসটি সকাল সাড়ে ৮টায় আবদুল্লাহপুরে পৌঁছায়। এখানে উত্তরা থানা পুলিশ বাসটি আটকে দেয়। যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে বাসটিকে ঘুরিয়ে দেয়া হয়। এরপর এক এক করে যাত্রীদের নাম-ঠিকানা লেখা শুরু করে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। তাদের কাছে ঢাকায় আসার কারণ ব্যাখ্যা করতে হয়।
দাড়ি-টুপি দেখলেই হাজারো প্রশ্ন: গতকাল ঢাকার বাইরে থেকে ছেড়ে আসা বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালানোর সময় দাড়ি-টুপি পরা ব্যক্তিদের দেখলেই হাজারো প্রশ্ন করেছে পুলিশ। কেন ঢাকায় আসা, কে থাকে, কার কাছে যাওয়া হবে ইত্যাদি নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে। শুধু প্রশ্ন-উত্তর নয়, ঢাকায় আসার যৌক্তিক প্রমাণও দেখাতে হয়েছে।
লঞ্চ ভিড়তে দেয়া হয়নি: গতকাল সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে একটি লঞ্চও ভিড়তে দেয়া হয়নি। যাত্রীবোঝাই লঞ্চগুলোকে টার্মিনালে ভেড়ার আগেই সিগন্যাল দিয়ে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। টার্মিনাল দখলে রেখেছিলেন মাথায় লালকাপড় পরা শ্রমিক লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা। তাদের সঙ্গে ছিল পুলিশ। লঞ্চগুলোকে না ভিড়তে পুলিশ নির্দেশ দিয়েছে। ফলে হাজার হাজার যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো ঝুঁকিপূর্ণভাবে মাঝ নদীতে অপেক্ষা করছিল। এখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরাও নেমপ্লেট খুলে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট