Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

লন্ডনে ভাবীকে গলা কেটে হত্যা, স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারলো স্বামী, সিলেটে মানববন্ধন

লন্ডনে দেবরের হাতে ভাবী খুন হয়েছেন। ভাইয়ের সঙ্গে টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে ম্যানচেস্টারের ওল্ডহ্যাম এলাকায় শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। খুনের ঘটনার পর দেশে থাকা স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের নাম রাজু বেগম (৩৮)। তিনি সিলেট শহরতলীর কামালবাজারের নভাগী গ্রামের জহির উদ্দিনের মেয়ে। ৯ বছর বয়সে পিতার সঙ্গে ভাইবোনদের নিয়ে লন্ডনে যান রাজু বেগম। ওখানে তিনি নাগরিত্ব পাওয়ার পর পিতা তাকে বিয়ের জন্য দেশে নিয়ে আসেন। ওই সময় সিলেট শহরতলীর শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত আতা মিয়ার ছেলে সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে তাদের বিয়ে হয়। এখন তাদের ঘরে দু’টি পুত্র ও দু’টি কন্যা সন্তান। প্রায় ৯ বছর আগে সিদ্দিকুর রহমান তার ছোটভাই ফয়েজ আহমদকে ওয়ার্কপারমিট ভিসায় লন্ডনে নিয়ে যান। কিছুদিন বৈধভাবে কাজ করার একপর্যায়ে ওই দেশে বসবাসের বৈধতা হারান ফয়েজ আহমদ। তবে তিনি লুকিয়ে কাজ করছিলেন। এবং ওই টাকা বড় ভাইয়ের কাছে জমা রেখেছিলেন। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ৭০ হাজার পাউন্ড দেনা-পাওনা নিয়ে রাজুর স্বামী সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে দেবর ফয়েজের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে তাদের সংসারে ক’দিন ধরে অশান্তি বিরাজ করছিল। শুক্রবার রাতেও তাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। শনিবার সকালে নাস্তা করার জন্য রাজু বেগম তার দেবর ফয়েজকে ঘুম থেকে ঢেকে তোলেন। টেবিলে নাস্তা দিয়ে তিনি রান্নার জন্য পাকঘরে চলে যান। এ সময় তার দেবর ফয়েজ শরীরচর্চার উইটন দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রাজু বেগম। পরে তাকে জবাই করে খুন করে ফয়েজ আহমদ। ঘটনার পর ফয়েজ তার ভাইকে মোবাইল ফোনে জানায়, স্ত্রীর লাশ নেয়ার জন্য। পরে পুলিশ গিয়ে ফয়েজকে গ্রেপ্তার করে এবং নিহত রাজু বেগমের লাশ উদ্ধার করেছে। এদিকে, এ ঘটনায় রাজুর স্বজনরা শোকাহত হয়ে পড়েছেন। নিহত রাজুর মামাতো ভাই মিজানুর রহমান রিপন জানান, আমার ফুফাতো বোনকে বিয়ের পর সিদ্দিকুর রহমান তার ভাই বক্করকে লন্ডন নিয়ে যান। ফয়েজকে নেয়া হয় ওয়ার্কপারমিটে। তাদের পরিবারকে সচ্ছল করতে আমার বোন আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু যেভাবে খুন করা হয়েছে বিবেকবান মানুষ মেনে নিতে পারে না। তিনি খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
শামীমা রহমানের স্বজনদের মানববন্ধন: লণ্ডনে পাষণ্ড স্বামী শরীরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছেন সিলেট নগরীর মীরবক্সটুলার শামীমা রহমানকে। ইংলিশ একটি মেয়েকে বিয়ে করার অনুমতি না দেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন শামীমা রহমানের পিতা শাহজাহান মিয়া। এ ঘটনায় শামীমার স্বজনরা গতকাল বিকালে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে তারা ঘাতক স্বামী লুৎফুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। বৃটেনের সাউথ স্ট্রেট ক্যাবলেন্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের লোকজন জানান, ২০০৩ সালে শামীমা রহমানের সঙ্গে বিয়ে হয় ইসলামপুরের সৈয়দপুর এলাকার লুৎফর রহমানের সঙ্গে। শামীমা বর্তমানে দুই সন্তানের জননী। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে তার উপর বিভিন্ন সময় চালানো হতো নির্যাতন। এরপর অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করার সম্মতি নিতে এপ্রিল থেকে নতুন করে নির্যাতন শুরু হয়। ১৭ই এপ্রিল বাসার পাশের বাগানে শামীমার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় স্বামী লুৎফুর রহমান। এ সময় শামীমার চিৎকারে পাশের বাসার লোকজন পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে শামীমাকে দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন। ১লা মে শামীমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পিতা শাহজাহান মিয়া জানান, পরে গোপনে জানাজা পড়ানো হয়। এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে মীরবক্সটুলাবাসীর উদ্যোগে গতকাল বিকালে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা শামীমা রহমানের খুনির বিচার দাবি করেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট