Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

গোলাম আযম ‘আত্মস্বীকৃত অপরাধী’, সূচনা বক্তব্যে রাষ্ট্রপক্ষ

ঢাকা, ১০ জুন: একাত্তরে পাকিস্তানি সেনা সহযোগীদের সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক জামায়াত আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পর বিচার পর্বে রোববার তার বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য দিল রাষ্ট্রপক্ষ। সূচনা বক্তব্যে (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) জামায়াতের এই সাবেক নেতাকে ‘আত্মস্বীকৃত অপরাধী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সূচনা বক্তব্যের পরে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য ২৪ জুন তারিখ নির্ধারণ করেছে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

সূচনা বক্তব্যে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, ‘‘এই অপরাধসমূহ আসামি কেবল পাকিস্তানী বাহিনীকে সহযোগিতার অংশ হিসেবেই সংঘটন করেননি, নিজেও উদ্যোগী হয়ে সমানভাবে সংঘটন করেছেন।’’

‘‘এই অশুভ নকশাসমূহ ও সেসবের বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আসামির সরাসরি সম্পৃক্ততা আর সক্রিয় নেতৃত্ব ছাড়া সম্ভব হতো না। কারণ আসামি ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী, শান্তি কমিটি, রাজাকার বাহিনী ও অন্যান্য সহযোগী বাহিনী সমূহের যে সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক তার পরিকাঠামোর কেন্দ্রে সব চাইতে প্রভাবশালী বেসামরিক নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত ছিলেন’’, দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষ।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল চারটা ২০ মিনিট পর্যন্ত মোট ১৪২ পৃষ্ঠা সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবীসহ অন্য তিন আইনজীবী।

সূচনা বক্তব্যের বিস্তারিত
বিস্তারিত সূচনা বক্তব্যে বলা হয়, ‘‘এই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন তিনি আসামি অধ্যাপক গোলাম আযম। তিনি একজন আত্মস্বীকৃত অপরাধী। অভিযোগ গঠনের সময় ট্রাইব্যুনালের সামনে গত ১৩ মে স্বীকার করেছেন, আমি একজন ক্ষমাপ্রাপ্ত (দালাল)।’’

‘‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে ৩০ লাখ মানুষ নিহত হয়। চার লাখ নারী ধর্ষিত হয়। এককোটি মানুষ দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়। লক্ষ লক্ষ মানুষ এমনকি দেশের ভেতরে থেকেও বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ে। যা দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং তাদের সহযোগী বাহিনীসমূহ কর্তৃক সংগঠিত বিবিধ আন্তর্জাতিক অপরাধ সংঘটনেরই ফলাফল।’’

‘‘আসামি গোলাম আযম বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনকারী। সহযোগী সংগঠনসমূহের সাংগঠনিক নেতৃত্বের অবস্থানের বদৌলতে এসমস্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সক্রিয় সহযোগী হিসেবে প্রধানতম বেসমারিক নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি হিসেবে দায়ী।’’

‘‘আসামি গোলাম আযমের করা অপরাধসমূহের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন কিনা বা সরকার তার সংঘঠিত অপরাধের জন্য তাকে ক্ষমা করেছিলেন কিনা সে বিষয়গুলো প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যথাসময়ে ট্রাইব্যুনালে তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হবে। প্রসিকিউশন সুনির্দিষ্টভাবে আনীত অপরাধ প্রমাণ করবে।’’

সূচনা বক্তব্যের শেষ দিকে বলা হয়, ‘‘এই বিচারের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চাই আসামি গোলাম আযম ১৯৭১ সালে সংঘঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ সংগঠনের ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, উস্কানি, উৎসাহ, প্ররোচনা ও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং সম্পৃক্ত থেকেছেন।’’

সাক্ষ্যগ্রহণ ২৪ জুন
পরে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করার জন্য আগামী ২৪ জুন দিন ধার্য করে দেন। একইসাথে ওই দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আসামীপক্ষের দলিলাদি প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং তার পক্ষের সাফাই সাক্ষীদের নামের তালিকা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

রোববার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ নির্দেশ দেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট