Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

৩২ হাজার ফ্ল্যাট বিক্রি হচ্ছে না, স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্ন

মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তের ছোট্ট একটি স্বপ্ন- রাজধানীর কোথাও ছোট একটি ফ্ল্যাট কেনার। চার, পাঁচ বছর আগেও অনেকেরই আয়ত্তে ছিল তা। এখন দুঃস্বপ্ন। ঢাকা শহরে ফ্ল্যাটের নির্মাণ ব্যয় যেমন বেড়েছে, বিক্রিও কমে গেছে। ৯শ’, এক হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কেনার সাধ্য আর মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তের নেই। ফ্ল্যাট, এপার্টমেন্ট বিক্রি না হওয়ায় ডেভেলপাররাও দারুণ হতাশ। গত দেড় বছরে তারা মাত্র ৩ হাজার ফ্ল্যাট বিক্রি করতে পেরেছেন। অথচ ২০০৯, ২০১০ সালেও তারা বছরে ১০, ১১ হাজার ফ্ল্যাট বিক্রি করেছেন। ডেভেলপাররা ৩৪ হাজার রেডিফ্ল্যাট হস্তান্তর করতে পারছেন না। গত ছয় বছরে গ্রাহক পর্যায়ে আবাসন খাতে নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে তিনগুণের বেশি। গ্রাহক পর্যায়ে দাম বেড়েছে প্রায় চারগুণ। রিহ্যাব সূত্রে জানা যায়, নানা সঙ্কটে আবাসন শিল্পে ধস নেমেছে। নির্মাণ সামগ্রীর উচ্চমূল্য, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকা, ব্যাংক ঋণে বেশি সুদ, জমির অপ্রতুলতা ও উচ্চমূল্য এর প্রধান কারণ। প্রণোদনা প্যাকেজ বন্ধ থাকা, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রেশন ফি, আয়কর বিধি ১৯(বি) ধারা প্রত্যাহার এ শিল্পের ধস ত্বরান্বিত করেছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরা নতুন ফ্ল্যাট, এপার্টমেন্ট নির্মাণেও আগ্রহী নয়। গত ছয় বছরে আবাসন খাতে নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে তিনগুণেরও বেশি। ২০০৬ সালে প্রতি বর্গফুটের নির্মাণ ব্যয় ছিল ৬৫০ টাকা। এখন তা ১৮৫০ টাকা থেকে ২০৫০ টাকা। সে সময় সিমেন্টের বস্তা ছিল ১৮০ টাকা। এখন তা ৫৮০ টাকা। ২০০৬ সালে রডের টন ছিল ২৮ হাজার টাকা। এখন তা ৮৭ হাজার টাকায় উঠেছে। ৫০ টাকা ঘনফুটের পাথর এখন ১২০ টাকা। ২০০৬ সালে একগাড়ি ইটের দাম ছিল ৩ হাজার ১শ’ টাকা। ২০১০ সালে তা বেড়ে হয় ১২ হাজার টাকা। এখন অবশ্য ১৬ হাজার টাকা। জমির সঙ্কটে দামও বেড়েছে ব্যাপক হারে। ২০০০ সালে মিরপুরে এক কাঠা জমির দাম ছিল ৭ লাখ টাকা। ২০১০ সালে তা হয়েছে ৪০ লাখ টাকা। এখন আরও বেশি। গুলশানে জমির কাঠা ছিল ২০০০ সালে ২২ লাখ টাকা, এখন আড়াই কোটি টাকা। উত্তরায় যে জমির কাঠা ছিল ১০ লাখ টাকা, দশ বছরে তা বেড়ে হয়েছে ৭৫ লাখ টাকা। বারিধারায় জমির কাঠা ৪ কোটি টাকা। এক দশক আগে দাম ছিল ৫০ লাখ টাকা। শেয়ার বাজারের দীর্ঘস্থায়ী সঙ্কটে ফ্ল্যাট, এপার্টমেন্ট বিক্রি প্রায় ৪০ ভাগ কমে গেছে। নতুন প্রকল্পের চুক্তি কমেছে অর্ধেক। আগামী অর্থবছরে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত আবাসন খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। রিহ্যাব-এর সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার তানভীরুল হক প্রবাল মানবজমিনকে বলেন, সরকার এ খাতে অপ্রদর্শিত অর্থের বিনিয়োগের সুবিধা দিলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে। বর্তমানে রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত চার্জ ১০ শতাংশ। রিহ্যাব তা ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি করেছে। আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে জিরো ট্যাক্সে নতুন ও রিকন্ডিশন যন্ত্রপাতি আমদানি, জেনারেটরসহ বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর কাস্টমস ডিউটি ৬ শতাংশের স্থলে ৩ শতাংশ করা, নির্মাণকাজ চলাকালে বিদ্যুৎ বিল শিল্প দরে প্রদানের সুযোগ চেয়েছেন ডেভেলপাররা। আয়কর বিধি ১৯(বি) বলবত রাখাও এ খাতে বিনিয়োগে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হয়ে কাজ করছে। রিহ্যাব-এর অন্যতম ইসি মেম্বার ইঞ্জিনিয়ার আনিসুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, অপ্রদর্শিত অর্থ এ খাতে ব্যবহারের সুযোগ দেয়া না হলে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাবে। তিনি এ খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার দাবি জানান। এদিকে নির্মাণ সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ফ্ল্যাট, এপার্টমেন্টের ক্রয়মূল্যও অনুরূপভাবে বেড়ে গেছে। মধ্যবিত্ত, চাকরিজীবী, সীমিত আয়ের মানুষের রাজধানীতে মাথা গোঁজার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নই থেকে যাচ্ছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট