Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

এক লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকার বাজেট

ঢাকা, ৭ জুন: নির্বাচনকে সামনে রেখে এবং রাজনৈতিক প্রকল্প অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় সংসদে আজ এক লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আগামী ২০১২-১৩ অর্থবছরের জন্য বিশাল আকারের নির্বাচনমুখী এ বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫ হাজার কোটি টাকা। অনুন্নয়ন ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা।

বাজেট ঘাটতি, ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ, ভর্তুকি ও সুদ পরিশোধ ব্যয়, লেনদেনের ভারসাম্য, সুদের হার, ডলারের বিনিময় মূল্য, জ্বালানির প্রাপ্যতা, আমদানি-রফতানি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ভর্তুকি হ্রাস, কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির নানা শঙ্কা এবং এর সঙ্গে সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার পূরণের সর্বশেষ বাজেট তৈরি নিয়ে নানামুখী চাপের মধ্যে অর্থমন্ত্রীকে বাজেট প্রস্তাব দিতে হবে আজ।

বর্তমান সরকারের গত তিনবারের মতো এবারও বিরোধীদলের অনুপস্থিতিতেই বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। এটি হবে বর্তমান সরকারের চতুর্থ বাজেট। যদিও গত মঙ্গলবার বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার দলের ‘বাজেট ভাবনা’ উপস্থাপন করেছেন। তবে এই ভাবনায় বিরোধীদল কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেয়নি।

বাজেট উপস্থাপনের পূর্বে অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট, অর্থবিল-২০১২ ও চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট অনুমোদন দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে দুপুর একটায় বৈঠক করবে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সংসদে বাজেট পেশ করবেন।

গত দুই বারের মতো এবারো বাজেট উপস্থাপন করা হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থাৎ পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে।

এছাড়া সরকারের ওয়েবসাইট www.bangladesh.gov.bd, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইট www.nbr-bd.org, পরিকল্পনা কমিশনের ওয়েবসাটি www.plancomm.gov.bd, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইট www.pmo.gov.bd এবং অর্থমন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইটে www.mof.gov.bd বাজেট সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে।

আগামী ৮ জুন শনিবার বিকেল ৪টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থমন্ত্রীর বাজেট উত্তর সংবাদ সম্মেলন হবে ।

জানা গেছে, এবারের বাজেটে ঘাটতি থাকবে ৪৬ হাজার ২৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির পাঁচ শতাংশ। ভর্তুকিতে বরাদ্দ থাকছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা স্থানান্তরিত হবে। বিদ্যুৎ, সড়ক, রেলপথ, বন্দর ও ভৌত অবকাঠামো খাতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া এ বাজেট ২৮ জুন পাস হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র জানায়, বাজেটে বড় অঙ্কের ঘাটতি পূরণে সরকারকে বিপুল ব্যাংক-ঋণ নিতে হবে। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানও পেতে হবে। বাজেটের চূড়ান্ত খসড়ায়, অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক-ঋণ ২০ হাজার ৮০০ কোটি, ব্যাংক-বহির্ভূত নয় হাজার ২৫০ কোটি টাকা। বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান বাবদ ২০ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে আগামী বছর সাত হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করবে সরকার।

বাজেটে সামগ্রিক ভর্তুকি বাড়লেও কৃষি খাতে ৫০০ কোটি কমিয়ে ছয় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার প্রস্তাব করা হবে। ঘাটতি ও ভর্তুকিনির্ভর বাজেটে অর্থমন্ত্রী দেশের সব শ্রেণীর মানুষকে খুশির খবর দিতে পারবেন না। কেননা কৃষি খাতের ভর্তুকি কমিয়ে আনায় এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যের সমন্বয় করতে গিয়ে সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। আয় বাড়াতে মোবাইল ফোনের সিম ও কলরেটের ওপর ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব থাকবে। এনবিআর ও এনবিআর বহির্ভূত রাজস্ব বাড়ানোর জন্য নতুন পুরান সব ধরনের গাড়ি আমদানিতে কর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে। দেশী পণ্যকে উৎসাহিত করার জন্য দেশে উৎপাদিত হয় এমন ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোসহ তামাকজাত পণ্যে শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী।

মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সাত দশমিক দুই শতাংশ। গড় মূল্যস্ফীতি সাত দশমিক পাঁচ শতাংশে সীমিত রাখার পরিকল্পনা থাকছে।

বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৩৯ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক লাখ ১২ হাজার ২৫৯ কোটি। করবহির্ভূত আয় ধরা হয়েছে ২২ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা। এনবিআরের বাইরে আয় চার হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বড় ১০ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে মোট ৪২ হাজার ৭৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রসত্মাব দেওয়া হবে, যা এডিপির ৭৮.৭ শতাংশ। এগুলো হলো, স্থানীয় সরকার ১০ হাজার ২২১ কোটি, বিদ্যুৎ আট হাজার ১৪৫ কোটি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা পাঁচ হাজার ২৮০ কোটি, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ তিন হাজার ৪৩৭ কোটি, সড়ক তিন হাজার ২৪৪ কোটি, রেল তিন হাজার ২১৭ কোটি, শিক্ষা দুই হাজার ৮৮৫ কোটি, পানিসম্পদ দুই হাজার ৪১৯ কোটি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ দুই হাজার ২৫১ কোটি এবং সেতু এক হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট