Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মাংসের টুকরা নয় মেয়ের লাশ চাই

ওটা তো লাশ নয়। কয়েক টুকরা মাংস। ওটা নিয়ে আমি কি করবো? হাড়গোড় কবর দিয়ে কি হবে? আমি লাশ নেবো না। তবে যে নরপিশাচ আমার মেয়েকে কেটে টুকরা টুকরা করেছে আমি তার ফাঁসি চাই। আমি চাই তাকেও কেটে টুকরা টুকরা করা হোক। মাংসের টুকরা নয়, আমি আমার মেয়ের লাশ চাই। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে এসব কথা বললেন হত্যার পর ২৬ টুকরা করা হতভাগ্য তরুণী রুমি’র মা শিরিনা বেগম। বলেন, আমার মেয়েকে তো চেনার উপায় নেই। তার লাশ বলতে আছে কয়েক টুকরা মাংস আর কয়েকটি হাড়। রুমির পরিবার লাশ গ্রহণ না করায় লাশটি আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। ওদিকে রিমান্ডে খুনি বাচ্চুকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। লোমহর্ষক এ ঘটনা সে একাই ঘটিয়েছে নাকি অন্য কারও সহায়তা নিয়েছে এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, নাহার প্লাজার অফিসটিতে মদ আর মেয়ে নিয়ে নিয়মিত ফুর্তি করতো ঘাতক সাইদুজ্জামান ওরফে বাচ্চু। তার অফিস কক্ষ থেকে কয়েকটি খালি মদের বোতল ও ১৩টি কনডম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হাতিরপুলের নাহার প্লাজার দোকান মালিক, কর্মচারী সহ সংশ্লিষ্ট অন্তত ১৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। নাহার প্লাজার হোটেল স্কাই গার্ডেনের মালিক এবং কর্মচারীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, বাথরুম দিয়ে রক্ত, মাংস ভেসে উঠতে দেখে হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কেন তারা কারণ অনুসন্ধান করেনি তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে হোটেলের কর্মচারীরা যে উত্তর দিয়েছে তাতে সন্তুষ্ট হতে পারছে না পুলিশ।
ওটা তো লাশ নয়: গতকাল দিনভর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে ঘাতক বাচ্চুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে নৃশংসভাবে খুন হওয়া তরুণী রুমি’র মা ও বোন। তারা ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। পুলিশ তাদের লাশ নেয়ার অনুরোধ করলে তারা রাজি হননি। পরে তারা মিন্টো রোডের গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে যান। বিকাল ৪টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। এ সময় গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার শহিদুল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
জিজ্ঞাসাবাদে যা বলেছে বাচ্চু: গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক বাচ্চু প্রথমে বলা কথাই বারবার বলছে। সে একাই রুমিকে হত্যা করেছে বলে দাবি করছে। হত্যার পর সে লাশ গুম করতেই হাড় থেকে মাংসগুলো খুলে নিয়েছে। এ কাজ করতে কোন ভয় লাগেনি বলে দাবি করেছে বাচ্চু। গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার শহিদুল্লাহ বলেন, তার কাছ থেকে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হচ্ছে। সে একা এ কাজ কিভাবে করলো- এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে গোয়েন্দা পুলিশকে বাচ্চু বলেছে, রুমিকে খুন করার আগে সে সোফায় শুইয়ে রাখে। এরপর হঠাৎ গলা টিপে ধরে। রুমি বাঁচার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত তার শক্তির কাছে পেরে ওঠেনি। পরে বাথরুমে নিয়ে লাশ টুকরা টুকরা করে সে। খুনের সময় সে নেশাগ্রস্ত ছিল কিনা জানতে চাইলে গোয়েন্দা কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ বলেন, নেশা করার কথা স্বীকার করেনি বাচ্চু। খুনটি যে পরিকল্পিত ছিল সে ধরনের আলামত আমরা পেয়েছি। কারণ, তার ঘর থেকে কয়েকটি ছুরি ও দু’টো বঁটি পাওয়া গেছে। সাধারণত একটি ঘরে দু’টো বঁটি থাকার কথা নয়।
যা বললেন মা: গতকাল মিন্টো রোডের মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় কথা হয় রুমি’র মা শিরিনা বেগমের সঙ্গে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বড় মেয়ে জেসমিন ও নিকটাত্মীয় মশিউর রহমান। লাল রঙের অতি পুরনো একটি ছেঁড়া শাড়ি পরেছিলেন তিনি। রুমি’র বোন জেসমিনের পরনে ছিল মলিন পোশাক। তাদের চেহারায় ছিল দারিদ্র্যের ছাপ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা বলেন, যে মেয়েকে পেটে ধরেছি তার টুকরা টুকরা লাশ দেখতে হবে এটা কখনওই ভাবিনি। বলেন, গরিবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। তাই দু’মাস আগে রুমি ঢাকায় এসে গার্মেন্টসে চাকরি নেয়। আমাকে বলতো আর কয়েক মাস গেলেই বেতন বাড়বে। তখন সংসারের টানাটানি কমবে। রুমি’র বোন জেসমিন বলেন, রাত বিরেতে ফোন করতো ওই পাষণ্ড। আমরা ওর সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করতাম। কিন্তু রুমিকে সে নানাভাবে ভুলিয়ে রাখতো। রুমিকে বিয়ের প্রলোভন দিয়েছিল সে। বাচ্চু রুমিকে বলেছিল, সে খুব ধনীর ছেলে। টাকা-পয়সার অভাব নেই।
বাচ্চু’র রঙমহল: হাতিরপুলের নাহার প্লাজার ১৩ তলায় সোনালী ট্রাভেলসে অসংখ্য তরুণী তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছেন। নানা প্রলোভনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তরুণীদের ওই অফিসে নিয়ে যেতো সাইদুজ্জামান বাচ্চু। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে মূলত ওই অফিসটি ছিল তার ‘রঙমহল’। রাতের পর রাত মদ পান করে সে তরুণীদের সর্বস্ব কেড়ে নিতো। গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবদে এসব কথা স্বীকার করেছে ঘাতক সাইদুজ্জামান বাচ্চু। বাচ্চু পুলিশকে বলেছে, সম্প্রতি রুমিসহ এক সঙ্গে তিনজন তরুণীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গাড়ি-বাড়ির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীদের সঙ্গে সে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতো। সবাইকে বিয়ের প্রতিশ্রুতিও দিতো ঘাতক বাচ্চু। সর্বশেষ শনিবার দরিদ্র ঘরের মেয়ে রুমিকে নিয়ে যায় ওই অফিস কক্ষে। রোববার রাতে বাচ্চুকে নিয়ে নাহার প্লাজায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। এ সময় ১৩ তলায় বাচ্চু’র অফিস কক্ষ থেকে ১৩টি কনডম ও একটি কাঁচি উদ্ধার করা হয়।
বাচ্চুর প্রতি ঘৃণা: ফরিদপুরের মধুখালীতে বাচ্চুর গ্রামের বকশিচাঁদপুরের সাধারণ মানুষ নরপিশাচ বাচ্চু’র প্রতি ঘৃণা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন। তারাও বাচ্চুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। আমাদের ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, গতকাল বকশিচাঁদপুরে গেলে সেখানকার মানুষ বাচ্চু’র প্রতি তাদের ঘৃণা জানান। বাচ্চুকে গ্রামের বাসিন্দারা ঢাকায় থাকা ভদ্র মানুষ বলেই জানতেন। কিন্তু পত্রিকায় তার পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের কথা পড়ে সকলে হতভম্ভ হয়ে যান। অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এমন ঘৃণ্যকাজ মানুষ কিভাবে করতে পারে। বাচ্চুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তারা।
গত শনিবার রাজধানীর হাতিরপুল থেকে রুমি নামের এক হতদরিদ্র তরুণীর ২৬ টুকরা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয় ঘাতক প্রেমিক সাইদুজ্জামান ওরফে বাচ্চুকে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


2 Responses to মাংসের টুকরা নয় মেয়ের লাশ চাই

  1. rezuan

    June 6, 2012 at 7:56 am

    eishob pishachder to bichar hoy na,bichar hole r amon ghotona repeat hoto na.but eder bichar aageo hoy nai r hobeo na,r emni koto meye j pran harabe ta amra kew janina

  2. Ishtiak M Jamal

    June 6, 2012 at 2:05 pm

    kukur er chaiteo odhom je tar ki naam dea jai ?

    ek kothay nor-pichash……..

    amra khub taratari tar upjukto bichar dabi korchi.

    (jodi para jai court er rai er maddhome takeo professional koshai dia 30 tukra kora)