Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিমানবন্দরে নিশাত-মুহিতকে ফুলেল শুভেচ্ছা

লক্ষ্মীপুরের লক্ষ্মী মেয়ে নিশাত মজুমদার, ঢাকাইয়া আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠা ছেলে এমএ মুহিত বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টের চূড়ায় লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে গতকাল বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে ফিরে এলেন লাল সবুজের দেশে। বিমানবন্দরে স্বউদ্যোগী জনতা ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় নিশাত ও মুহিতকে। অন্যদিকে এভারেস্ট জয়ী বাংলাদেশের দ্বিতীয় নারী বৃহত্তর নোয়াখালীর ফেনী জেলার ওয়াসফিয়া নাজনীন দেশের পথে এখন নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অবস্থান করছেন।
গতকাল বিমানবন্দরে নেমে হাস্যোজ্জ্বল নিশাত মজুমদার ও এমএ মুহিত বিজয়ের উল্লাসে বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাসে তাদের এভারেস্ট জয়কে উৎসর্গ করেন বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের জন্য। বলেন, এভারেস্টের চূড়ায় উঠে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে সেখানে ঘণ্টাখানেক অবস্থান কালে কেবল দেশের কথাই মনে পড়েছে। দুই পর্বতারোহী সাংবাদিকদের কাছে তাদের এভারেস্ট অভিযাত্রার মুহূর্তগুলোর বর্ণনা দেন। তাদের সঙ্গে গতকাল বাংলাদেশে আসেন এভারেস্ট অভিযাত্রায় নিশাত, মুহিতের গাইড মিংমা গ্যালেজ শেরপা।
গত ৬ই মে বাংলাদেশ থেকে নেপালের উদ্দেশে যাত্রা করেন নিশাত মজুমদার ও এমএ মুহিত। ১৯শে মে সকাল সাড়ে ৯টায় এভারেস্টের চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান প্রথম বাংলাদেশী নারী মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নিশাত মজুমদার এবং দ্বিতীয়বার এভারেস্ট জয়ী এমএ মুহিত। ২৫শে মে তারা এভারেস্টের বেস ক্যাম্প থেকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে আসার জন্য লুকলার উদ্দেশে যাত্রা করেন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তাদের আটকে থাকতে হয় সেখানে। কাঠমান্ডু থেকে বিশেষ বিমান পাঠিয়েও প্রথমবার তাদের আনা সম্ভব হয়নি ঝড়ো হাওয়ার কারণে। তিন দিন লুকলায় আটকে থাকার পর ৩১শে মে তারা কাঠমান্ডুতে পৌঁছান। ওই দিনই নেপালের বাংলাদেশ দূতাবাস এভারেস্ট জয়ী নিশাত মজুমদার ও এমএ মুহিতকে সংবর্ধনা দেয়। গতকাল বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে বিজয়ী বীরের বেশে দেশে ফেরেন নিশাত মজুমদার ও এমএ মুহিত।
এভারেস্ট জয়ী বাংলাদেশের প্রথম নারী নিশাত মজুমদার বলেন, আমরা এবারে এভারেস্ট জয় করেছি বাংলাদেশের নারী-পুরুষ সম্মিলিত একটি দল হিসেবে। এ বিজয়কে, এ অর্জনকে আমরা বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের জন্য উৎসর্গ করেছি। আশা করি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম আমাদের বিজয়ে অনুপ্রাণিত হবে। নিশাত মজুমদার বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের দেশের বেশির ভাগ মেয়ের শিশুকাল থেকে পরিবারের লোকেরা হাতে পুতুল ধরিয়ে দিয়ে তাকে শেখায় তোমার গণ্ডি হচ্ছে পুতুল খেলা, সব কাজ তোমার জন্য নয়, আমাদের এ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, আমার পিতামাতা সেটা করেনি। তারা মনে করেছেন ছেলেরা যা পারে মেয়েরাও সেটা করতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে নিশাত বলেন, পর্বতে ওঠার সময় আমার তো কখনও মনে হয়নি আমি একজন নারী। সে সময় তো নিজেকে কেবল একজন আরোহীই মনে হয়েছে। পর্বতের চূড়ায় উঠে কেবল দেশের কথাই মনে হয়েছে। গর্বে বুকটা ভরে উঠেছে এটা ভেবে যে, আমি বাংলাদেশের পতাকা বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গে উড়াতে পেরেছি। নিশাত মজুমদার বলেন, দু’বার প্রায় নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে পড়েছিলাম। বেঁচে গেছি মানুষের দোয়ায় ভালবাসায়। পর্বতে ওঠার সময় প্রতিটি অভিযাত্রী সর্বশক্তি নিয়োজিত করে ওঠে, কিনু্ত নামার সময় সে শক্তি আর থাকে না এবং বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটে নামার সময়। আমিও নামার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আহত হয়েছি। নিশাত বলেন, এভারেস্ট জয়ের পর মানুষের ভালবাসা, সংবর্ধনা আমাকে নতুনভাবে দায়বদ্ধ করে ফেলেছে। এখন আমাকে কেবল এভারেস্ট জয় নিয়ে বসে থাকলে হবে না, নতুন করে আরও কিছু করতে হবে।
দ্বিতীয়বার এভারেস্ট জয়ী এমএ মুহিত বলেন, এবার আমি চূড়ায় উঠেছি নেপালের দিক থেকে এ পথটা খুবই দুর্গম। নিশাত তো নামার পথে প্রায় ১৫ ফুট দূরে ছিটকে পড়েছিল। ভাগ্য ভাল বেঁচে গেছে, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল।
গতকাল এভারেস্ট জয়ী প্রথম বাংলাদেশী নারী নিশাত মজুমদার এবং মুহিতকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে হাজির হয়েছিলেন কয়েক শ’ স্বউদ্যোগী জনতা। লাল সবুজের পতাকা হাতে রঙবেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন আর ফুলের তোড়া নিয়ে বিমানবন্দরে ছিলেন সাধারণ মানুষ। গর্বিত কন্যা নিশাত মজুমদারের মা-বাবা ছিলেন, ছিলেন এমএ মুহিতের পিতামাতাও। নিশাত মজুমদার ও মুহিতকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন স্বনামখ্যাত শিল্পী ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিনী, লক্ষ্মীপুর-১ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি নাজমা আক্তার, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংগঠনসহ আরও বেশ কয়েকটি সংগঠন। দুপুরের পর থেকে অপেক্ষায় ছিলেন নিশাত ও মুহিতের ক্লাব বাংলা মাউনটেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সদস্যরা। বিমানবন্দর থেকে তাদের বহনকারী গাড়িসহ মোটর সাইকেল ও মাইক্রোবাসের একটি শোভাযাত্রা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


2 Responses to বিমানবন্দরে নিশাত-মুহিতকে ফুলেল শুভেচ্ছা

  1. mamun zaman

    June 4, 2012 at 11:55 am

    To Nishat and muhith : actual hero will win the everest without help/ support of anyone. If you are really brave, please go and travel alone towards everest not with so many people together.

  2. BIBAK OF COUNTRY

    June 5, 2012 at 8:54 am

    THAKS JATIR AE DURDINA ATO SUNDOR SUVO SONGBAD DAYAR JONNO.I RESPECT U AS A GREAT HUMAN BEING.

    DAKH PRITHIBI DAKH AMRAO PARI.U R GREAT REALLY GREAT.I LOVE U GREAT BANGALI