Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিভাবে জীবিত

সবার চোখ নতুন করে সুপ্রিম কোর্টের দিকে। আওয়ামী লীগের অধীনেই নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট ঘোষণার ফলে এটা পরিষ্কার যে, সংলাপের সুযোগ আরও কমে গেছে। তাছাড়া বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের জামিনের বিরোধিতা রাষ্ট্র অব্যাহতভাবে করে চলেছে। সুতরাং নেতাদের আটকিয়ে রেখে প্রায় অসম্ভব তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কথা বলা বৃথা বলে মনে করছেন ১৮ দলের অনেকেই। সেকারণেই সুপ্রিম কোর্টের প্রস্তাবিত রায় আরও বেশি মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে আসছে। বিএনপি’র প্রভাবশালী নীতি-নির্ধারকরা সুপ্রিম কোর্টর তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায়ের দিকে নজর ক্রমশ তীক্ষ্ন করছেন। বেগম খালেদা জিয়া অবশ্য সংবাদ সম্মেলনে দেয়া এক লিখিত বক্তৃতায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ঘোষিত দুই মেয়াদের নির্বাচনের বিষয়টি নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন। এবিষয়ে অনেক দিন নীরবতার পরে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এখনও জীবিত আছে। কিন্তু সংসদে বাতিল হয়ে যাওয়ার পরেও কিভাবে তা রয়েছে তা তিনি প্রকাশ করেননি।
বিএনপি নেতারা গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে শুরু করেছেন যে, বিচারপতি খায়রুল হক যে রায় জমা দিয়েছেন তা থেকে তারা সুফল পেতে পারেন। অবশ্য তারা একই সঙ্গে হতাশ হওয়ার বিষয়টিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তদুপরি রায় পেলে তারা রিভিউ করার নামে এই আন্দোলনকে আরও জনপ্রিয় করার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন।
সম্প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার অনশন ভাঙাতে গিয়ে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক কোয়ালিশন সরকারের ধারণা দিয়েছেন। কিন্তু বিএনপির দলগত অবস্থান এটা নয়। কারণ শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখে আওয়ামী লীগের অধীনেই নির্বাচন করার বিষয়টি সম্প্রতি নির্দিষ্ট করেছেন তিনি। এতদিন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন করার একটা মুলো ঝুলছিল। সেই মুলোটাও সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সুতরাং কোয়ালিশন সরকার হবে প্রধানমন্ত্রীকে স্বপদে বহাল রেখেই।
অনশন কর্মসূচি উপলক্ষে দেয়া ভাষণে ব্যারিস্টার রফিক বলেন, সরকার একটি কোয়ালিশন সরকার করার কথাও ভাবতে পারে।
যেভাবে জীবিত আছে
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া অবশ্য মূল যুক্তি ঠিকই দিয়েছেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এখনও জীবিত রয়েছে। তার ব্যাখ্যা হলো, সরকার সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের আগেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে। কিন্তু ওই রায়ে বলা হয়েছিল, ভবিষ্যৎ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হলো। তবে আগামী দুই মেয়াদে এর অধীনে নির্বাচন হতে পারে। যদি দরকার পড়ে তাহলে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের বিচারপতির বিধান বিলোপ করারও সুপারিশ করা হয়।
ওয়াকিবহাল আইনবিদরা বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায় কেবল রায় নয়। সেটা দেশের প্রচলিত আইন হিসেবেও স্বীকৃত। একথা সংবিধানে স্পষ্ট লেখা আছে। ইংল্যান্ডেও একথা সীমিতভাবে হলেও সত্য। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির মার্শাল বলে গেছেন, সংবিধান হলো সুপ্রিম কোর্ট যখন যা বলে তাই। আওয়ামী লীগও যে তা মানে তা জাতি দেখেছে। প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ৫ম সংশোধনীর মামলার রায়ে তিনি যা বাতিল করেছেন তা রায় ঘোষণার দিন থেকেই বাতিল হয়ে গেছে। সংসদে তা আর নতুন করে বাতিল করতে হবে না। আপিল বিভাগের রায় আপনা-আপনি দেশের সংবিধানের অংশে পরিণত হয়ে গেছে। এনিয়ে তখন বিতর্ক দেখা দিলেও আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেছেন, সংসদে পাস করার দরকার নেই। এই বলে তিনি রায় অনুযায়ী তিনি একটি নতুন সংবিধান তৈরি করে বাজারে ছাড়েন। ওইসময় এমনকি এই উদ্যোগের পক্ষে শীর্ষস্থানীয় সংবিধান বিশেষজ্ঞদের দিয়ে একটি কমিটি করানো হয়। তারা সর্বসম্মতভাবে মত দেন যে, রায় সংবিধানের অংশে পরিণত হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১১ ও ১১২ অনুচ্ছেদ মিলিয়ে দেখলে স্পষ্ট যে, আপিল বিভাগের রায় হলো হাইকোর্ট ও অধস্তন আদালতের জন্য আইন। আর প্রজাতন্ত্রের সকল প্রকারের কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের সহায়তা করবেন।
বাংলাদেশ নতুন করে আপিল বিভাগের রায়কে আইন মানতে শুরু করেনি। এবিষয়ে তার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। ১৯৮৮ সালে ঐতিহাসিক অষ্টম সংশোধনী পাসের পর কোন মহল আদালতের এই এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। কেবলমাত্র আপিল বিভাগের রায়ের জোরেই ১৯৮৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থেকেছে। বাতিল হওয়া অংশ পরে কোন সংশোধনীতে ঢোকানো হয়নি। এমনকি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যৌথভাবে পাস করেছিল দ্বাদশ সংশোধনী। কিন্তু তখনও কেউ প্রশ্ন তোলেনি যে, অষ্টম সংশোধনীর বৈধতার প্রশ্ন কেন আদালতের রায়ের ওপর ঝুলে থাকবে।
আইনবিদরা বলছে, এই বিষয়টি একটি তর্কসাপেক্ষ বিষয়। কিন্তু বাংলাদেশ এই রেওয়াজ প্রতিষ্ঠা করেছে। এবং পুরো জাতি তা অনুসরণ করেছে। সুতরাং এখন আগামী দুই মেয়াদের নির্বাচন কেন কেবল রায়ের জোরে ত্রয়োদশ সংশোধনীর আওতায় হতে পারবে না। বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদি ১৫তম সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি বাতিল না-ও হতো তাহলেও আগামী দুই মেয়াদের পরে ত্রয়োদশ সংশোধনীর আওতায় নির্বাচন করা প্রশ্নবিদ্ধ হতো। একই ভাবে আপিল বিভাগের সংক্ষিপ্ত আদেশ এমনভাবে লেখা হয়েছে যে, যাতে স্পষ্ট যে, ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করা হলো ঠিকই কিন্তু বাতিল ঘোষিত সংশোধনীর আওতায় ডকট্রিন অব স্টেট নেসেসিটি সূত্রে আগামী দুই মেয়াদে নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির আওতায় হতে পারবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল মামলার আবেদনকারীর প্রধান আইনজীবী এম আই ফারুকী এর আগে সাংবাদিকদের বলেন, শুনানিকালে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের বিখ্যাত গোলকনাথ মামলার কথা উঠেছিল। এই মামলায় ভারতের সংবিধানের সংশোধনী ভবিষ্যৎকাল থেকে বাতিল বলে ঘোষিত হয়েছিল। ড. শাহদীন মালিক দু’দিন আগে একটি দৈনিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা রায়টির অপেক্ষায় আছি। কারণ বিস্তারিত রায়ে দুই মেয়াদে নির্বাচনের বিষয়টি কিভাবে কি গুরুত্ব বা ব্যাখ্যা দেয়া হয় সেটা গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে ড. কামাল হোসেন বলেছেন, প্রয়োজনে আমি রায়ের বিষয়ে রিভিউ করতে প্রস্তুত। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সংসদ চাইলে নির্দিষ্ট বিল এনে রায়ের কার্যকারিতা বিলোপ করতে পারে। কিন্তু সংসদ তা করেনি। এখন রায় বহাল থাকতে আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন সংবিধানসম্মত হবে কিনা সেটাই এক বিরাট প্রশ্ন। কারও মতে, আইনগত প্রশ্ন বিএনপি এখন থেকেই বড় করে তুললে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের আওতায় সুপ্রিম কোর্টের কাছে রেফারেন্স পাঠানোর একট পথ খোলা থাকবে।
আওয়ামী লীগ প্রথমবারের মতো সংবিধান লঙ্ঘনের কোন প্রবণতা দেখানোর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে। ১৯৭৩ সালে পাকিস্তানে এটা প্রথম করেছিলেন জুলফিকার আলি ভুট্টো।

    Share this:
    Share this page via Facebook Share this page via Twitter

    LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট