Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ঘরে বাইরে প্রচণ্ড চাপে এরশাদ

ঘরে-বাইরে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে আছেন জাতীয় পার্টির প্রধান এইচ এম এরশাদ। পার্টির ভেতর থেকে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা-উপজেলার প্রায় সব নেতাই অব্যাহতভাবে চাপ দিচ্ছেন মহাজোট ছেড়ে আসার জন্য। তারা মনে করেন, মহাজোটে গিয়ে পার্টি প্রধান যেমন লাভবান হননি, তেমনি নেতা-কর্মীরাও কিছু পাননি। ন্যূনতম মূল্যায়ন পাওয়া যায়নি সরকার ও মহাজোটের এমপিদের কাছ থেকে। এখন নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদেই মহাজোট ছেড়ে পৃথক অবস্থান নেয়ার পক্ষে তারা। প্রবীণ রাজনীতিবিদ কাজী জাফর আহমদকে আশ্রয়স্থল মনে করে তার কাছে দুঃখ-বেদনার কথা বলেন। এরশাদকে ছাড়া পৃথক জাতীয় পার্টির কথা ভাবেন না তাদের কেউই। মহাজোটের মোহ ত্যাগ করতে এরশাদকে চাপ দিয়েও কাজ না হওয়ায় অসন্তুষ্ট নেতাকর্মীরা। অপরদিকে সরকারের দিক থেকে রয়েছে এরশাদের ওপর প্রচণ্ড চাপ। এরশাদকে সতর্ক করা হয়েছে কাজী জাফরকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে। এরশাদকেও সরকার এবং মহাজোটবিরোধী মন্তব্য না করতে বলা হয়েছে। এরশাদ দলের কর্মীদের বেদনা, ক্ষোভ প্রশমন করতে পারছেন না। তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা যেমন কঠিন হচ্ছে, তেমনি এখনই সরকারবিরোধী অবস্থান নেয়াকেও ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন তিনি।
জাতীয় পার্টি সূত্রে জানা যায়, ৪১ সদস্যের প্রেসিডিয়ামের ৩০ জনই চাইছেন এখনই মহাজোট থেকে বেরিয়ে এসে পার্টির পৃথক অবস্থান ঘোষণা। পাশাপাশি চাইছেন এরশাদের নেতৃত্বে আলাদা রাজনৈতিক জোট। এরশাদের সময় নেয়ার কৌশল মেনে নিতে পারছেন না তারা। প্রয়োজনে দল ভাঙার প্রচ্ছন্ন হুমকিও দেয়া হচ্ছে। মহাজোটের বিপক্ষে অবস্থানকারী নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এরশাদবিরোধী অবস্থান নেয়ার মানসিক প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। বেগম খালেদা জিয়ার হারানো আস্থা ফিরে পাওয়ার চেষ্টাও করছেন। এদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রবীণ প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমদ। ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলুসহ কয়েকজন ছাড়া বেশির ভাগ প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতারা কাজী জাফরের সঙ্গে রয়েছেন। গত ১৭ই মে এরশাদ চীনে যাওয়ার সপ্তাহখানেক আগে কাজী জাফরকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, পার্টির যে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো আমি। আপনার এত সরব হওয়ার দরকার কি? এরশাদের এ বক্তব্যের পর কৌশলী হয়েছেন কাজী জাফর। এদিকে এরশাদের বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া এবং বহির্বিশ্বের বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ার কারণে এরশাদ এখনই মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা দিচ্ছেন না।
সূত্র মতে, গত ৪ মাসে গুলশানের থাই কিচেন ও কাজী জাফরের বাসায় ৮-১০টি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকগুলো হয়েছে নানা ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানের ব্যানারে। একটি বৈঠকে মহাজোট সরকারের মন্ত্রী জিএম কাদের এবং পার্টি মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারও উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় পার্টির বিভিন্ন মেরুর প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মধ্যম সারির নেতারাও সময়ে সময়ে বৈঠকে উপস্থিত থেকেছেন। একেকটি বৈঠকে সর্বোচ্চ ১৫ এবং নর্বনিম্ন ১০ জন নেতা উপস্থিত থেকেছেন। কাজী জাফরের সঙ্গে একমত না হওয়ায় একাধিক বৈঠকের মধ্যবর্তী সময়ে উঠে যান অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান এবং তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
সূত্র জানায়, গত জানুয়ারি মাস থেকে বিভিন্ন সভা-সমাবেশের মাধ্যমে এরশাদকে কালবিলম্ব না করে মহাজোট থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে আসছেন কাজী জাফর আহমদ। গত মার্চের প্রথম সপ্তাহে ফেনী লংমার্চকে কেন্দ্র করে এরশাদের সঙ্গে কাজী জাফরের দূরত্ব অধিকতর বৃদ্ধি পায়। সমাবেশের জন্য এরশাদকে একটি লিখিত বক্তব্য লিখে দিয়েছিলেন কাজী জাফর আহমদ। ওই বক্তব্য পাঠ করেননি এরশাদ। তাছাড়া, সমাবেশে অন্য নেতাদের বক্তব্য দেয়া না দেয়া এবং চৌদ্দগ্রামের পথসভায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সহজভাবে নেননি পার্টি চেয়ারম্যান। জামায়াতপন্থি নেতা হিসেবে পরিচিত আইসিএল গ্রুপের এমডি এইচএনএম শফিকুর রহমান জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন বছরখানেক আগে। কাজী জাফরের হাত ধরেই তিনি পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক নিযুক্ত হন। পার্টিতে মুখরোচক আলোচনায় রয়েছে- পদ লাভের জন্য তিনি পার্টির একাধিক শীর্ষ নেতাকে গাড়ি এবং নগদ টাকা উপঢৌকন দিয়েছেন। এরই মধ্যে শফিকুর রহমান স্থানীয় রাজনীতিতে কাজী জাফর আহমেদের প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন। ওদিকে মহাজোটে থাকা না থাকা নিয়ে সরব হতে বারণ করার পর ভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন কাজী জাফর। ষাট দশকের বামপন্থি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন কাজী জাফর। যোগ দিচ্ছেন তাদের সভা-সেমিনারে। ভাসানী অনুসারীদের অনুষ্ঠানেও যাচ্ছেন নিয়মিত। জাতীয় পার্টির বেশ কয়েকজন নেতা মানবজমিনকে জানান, বামপন্থি ও ভাসানী অনুসারীদের সভা-সমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি তীর নিক্ষেপ করছেন জাতীয় পার্টির দিকে। এরশাদের ঘনিষ্ঠ দু’জন শীর্ষস্থানীয় এনজিও ব্যক্তিত্বকেও তিনি কাজে লাগাচ্ছেন। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চাচ্ছেন- তিনি একা নন। তার সঙ্গে যেমন রয়েছে দলীয় নেতা-কর্মী, তেমনি সমর্থন রয়েছে দলের বাইরে থেকেও।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে চলতি বছরের শুরুর দিক পর্যন্ত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, গুম, খুনসহ জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে সরব ছিলেন এরশাদসহ দলের নেতারা। মহাজোটের শরিক এ দলটি এসব বিষয়ে এখন সরব নয়। হিলারি ক্লিনটন-প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশ সফরে এসে বড় দু’দলের প্রতি সংলাপের আহ্বান জানালেও এরশাদের সঙ্গে সংলাপের কোন কথা বলেননি। এতে এরশাদ কষ্ট পেয়েছেন বলেও দলীয় সূত্র জানায়। সূত্র মতে, এরশাদ ও তার প্রতিনিধিরা বার বার ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করেও আগামী দিনের রাজনীতির জন্য গ্রিন সিগন্যাল পাননি। হিলারি-প্রণব চলে যাওয়ার পর এরশাদ যান চীন সফরে। এরশাদ মহাজোট থেকে বের হয়ে দলের একক নির্বাচন করার ঘোষণা দিলেও চলতি মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের পর এ বিষয়ে কোন কথা বলছেন না। এ নিয়ে দলের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনা বৈঠকে এরশাদকে মহাজোটের বিরুদ্ধে কথা বলা থেকে নীরব থাকতে বলেছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদ মানবজমিনকে বলেন, মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির বের হয়ে আসা সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে জাতীয় পার্টিতে ভাঙনের কোন আশঙ্কা নেই। ওটা নিছক গুজব। জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, দেশে এখন রাজনৈতিক টর্নেডোর পূর্বাভাস বিরাজ করছে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হওয়া নতুন কিছু নয়। দল ভাঙার আশঙ্কা সম্পর্কে জানতে চাইলে হাওলাদার বলেন, কাজী জাফর আহমদ একজন দূরদর্শী রাজনীতিবিদ। আমার বিশ্বাস তিনি কোন ভুল করবেন না। সামাজিক অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিলে আমরা অংশ নিই। তার মানে এই নয় যে, জাতীয় পার্টি ভেঙে যাচ্ছে। বিপথগামীরা নানা ধরনের কথা বলছেন। তিনি বলেন, পার্টির চেয়ারম্যান অনেক আগেই ঘোষণা দিয়েছেন- আগামী নির্বাচন জাতীয় পার্টি এককভাবে করবে। সময়মতোই মহাজোট থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দেবেন তিনি।
প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, পার্টি ভাঙার বিষয়টি একদমই গুজব। দলে মত ও পথের পার্থক্য থাকতেই পারে। পার্টি ফোরামে কাজী জাফর আহমদ তার মতামত ব্যক্ত করছেন মাত্র। ফিরোজ রশিদ জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগ মুহূর্তে আমরা মহাজোট থেকে বেরিয়ে আসবো। কোন জোটে যোগ না দিয়ে আমাদের নেতৃত্বে আলাদা একটি জোট হবে। এ জোটে ১৮ দলীয় জোটেরও কেউ কেউ থাকতে পারেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট