Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

এক সাহারার যন্ত্রণার ওপর আর এক সাহারা: মওদুদ

ঢাকা, ২৬ মে: সম্প্রতি ভারতের সাহারা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, এক সাহারা খাতুনের যন্ত্রণায় বাঁচি না। এখন আসছে আরেক সাহারা। দেশের আবাসন শিল্পকে ধ্বংস করতেই সাহারার সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘‘সাহারাকে যে সব সুযোগ সুবিধা দেয়া হচ্ছে তা আমাদের দেশের কোম্পানিগুলোকে দেয়া হলে আরো অল্প খরচে আবাসন সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।’’

শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইনিস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলানায়তনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) আয়োজিত দলের চেয়ারম্যান কর্নেল অব. অলি আহমেদসহ ১৮ দলীয় নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাসহ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসতে বিএনপি রাজি আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, “এখনো সময় আছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করুন। যে কোনো আলোচনায় আমরা বসতে রাজি আছি। না হলে পরে আফসোস করতে হবে।’’

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘‘যদি সরকারের পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের উদ্যোগ নেয়া না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা হবে।”

মওদুদ আহমদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘প্রতিবেদন রিপোর্ট দিয়ে চরিত্র সাদা হয়ে যায় না। তার কথা এখন আর কেউ গ্রহণ করবে না। তিনি বলছেন আমাদের করা আইনে আমরাই ধরা খেয়েছি।’’

দ্রুত বিচার আইন সম্পর্কে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, ‘‘দ্রুত বিচার আইন কোনো রাজনীতিবিদদের ওপর ব্যবহারের জন্য করা হয়নি। এই আইন করা হয়েছিল দুই বছরের জন্য। কিন্তু এই আইনকে সংশোধন করে এর মেয়াদ আরো বাড়িয়েছে বর্তমান সরকার। অথচ তারাই এই আইনের বিরোধিতা করেছিল। এখন তারা বিরোধী নেতৃবৃন্দকে হয়রানি করতে এই আইন ব্যবহার করছেন।’’

দলে শীর্ষ নেতার গ্রেফতার হওয়ায় বিএনপি দুর্বল হয়নি দাবি করে মওদুদ বলেন, ‘‘সরকার যদি মনে করে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করে সরকারের লাভ হয়েছে আর বিএনপির ক্ষতি হয়েছে তাহলে তা ভুল হবে। এতোগুলো নেতা গ্রেফতার হওয়ায় বিএনপি এখন আরো সংগঠিত হয়েছে। আমরা যারা আগে নিষ্ক্রিয় ছিলাম তারা এখন আরো সক্রিয় হয়েছি।’’

এলডিপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. রেদোয়ান আহমেদের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মো. শাজাহান, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, জাগপার মহাসচিব খন্দকার লুৎফর রহমান, ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, এলডিপির সহ-সভাপতি জয়নুল আবেদীন জাহেদী, প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন মোস্তফা ও যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম।

এদিকে শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকাস্থ চরফ্যাশন মনপুরা জাতীয়তাবাদী ফোরাম কর্তৃক আয়োজিত মানববন্ধনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অতীতের সকল অবস্থাকে হার মানিয়েছে। দেশ এখন এক দলীয় বাকশালী শাসনে চলছে। গুম, খুন, হত্যা, অপহরণ ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে।

ফোরামের সভাপতি মোছলেহ উদ্দিন মৃধা’র সভাপতিত্ব অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর অব. হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, যুবদল সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপি’র সহস্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশারফ হোসেন, সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, বাংলাদেশ লেবার পাটি’র ঢাকা মহানগর সভাপতি আহসান উল্লাহ শামীম ও যুবদল চরফ্যাশন উপজেলা সভাপতি আশরাফুল ইসলাম দীপু।

মওদুদ আহমদ বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। দেশ আজ বিরোধীদল শূন্য। সংসদে বিরোধী দলের উপস্থিতি সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের গাত্রদাহের কারণ হয়। এ অবস্থা চলতে পারে না। রাজপথে যারা আন্দোলন করবে জনগণের পক্ষে কথা বলবে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানে রাজপথের সাহসী সৈনিক নাজিম উদ্দিন আলমসহ বিরোধী দল তথা ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়ে সরকার প্রমাণ করেছে তারা বাকশাল থেকে বেড়িয়ে আসতে পারেনি।

মেজর অব. হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, ৫৬ হাজার বর্গমাইল পরিবেষ্টিত স্বাধীন এই বাংলাদেশ ভারতীয় আধিপত্ত্ববাদীদের কাছে জিম্মি থাকতে পারে না।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট