Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিএনপিতে তার মতো নিকর্মার দরকার নেই, হুদার প্রতি সালাউদ্দিন কাদের

ঢাকা, ২৪ মে: মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ মামলায় আটক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী দলের আরেক নেতা সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার দল ত্যাগের সিদ্ধান্তকে মোবারকবাদ জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-১ এ তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের তৃতীয় সাক্ষী সিরাজুল ইসলাম ওরফে সিরু বাঙ্গালীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম মুলতবির পর বিকালে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলার সময় ব্যারিস্টার হুদা প্রসঙ্গে এই মন্তব্যও করেন।

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার আলটিমেটাম শুনে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, “নাজমুল হুদার মত এতো বড় নির্কমা নেতা বিএনপিতে দরকার নেই। তার চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে আমি মোবাররকবাদ ও সাধুবাদ জানাই।”

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আরো বলেন, “১৯৯৬ সালে বিএনপির ভরাডুবির কারণ ছিল হুদার মতো নেতারা। সে চলে গেলে বিএনপি আরো ভাল হবে। তার মত এত বড় নেতার বিএনপিতে দরকার নেই। তার বিদায়কে আমি খোদা হাফেজ জানাই।”

নাজমুল হুদার মত বিএনপিতে আরো যারা স্বার্থবাদী নেতা আছেন তারা চলে গেলে বিএনপি পরিশুদ্ধ হবে বলেও তিনি মনে করেন। তাদের চলে যাওয়ার মাধ্যমে দল সুসংহত, সংঘটিত ও শক্তিশালী হবে বলে ধারণা তার।

খালেদা জিয়া ৫ জুনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে সংলাপের আমন্ত্রণ না জানালে বিএনপি ছেড়ে চলে যাবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদা। এ খবরটি এক আইনজীবী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে শুনালে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী দুপুরে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে গাধা বলার পরে আবার তিনি তার চলে যাওয়াকে সাধুবাদ, মোবারকবাদ ও খোদা হাফেজ জানালেন।

ট্রাইব্যুনালে আটক সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিএনপি থেকে চলে যাওয়া সম্পর্কে বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিক ও তার আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম জিজ্ঞেসা করে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তখন তিনি এসব কথা বলেন। পরে আদালতের বাইরে এসে ট্রাইব্যুনালের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদেরকে এসব তথ্য দেন ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম। এ সময় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফারাত কাদের চৌধুরী ও তার ছোট ছেলে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের তৃতীয় সাক্ষী সিরাজুল ইসলাম ওরফে সিরু বাঙ্গালী (৬৪) তার জবানবন্দি পেশ করেন।

প্রায় পোনে দুই ঘণ্টার জবানবন্দিতে সিরু বাঙ্গালী প্রাদেশিক নির্বাচন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালো রাতের ঘটনার বর্ণনা দেন।

এরপর ট্রাইব্যুনাল তার জবানবন্দি অসমাপ্ত অবস্থায় আগামী ২৭ মে রোববার পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবি করেন।

সাক্ষী সিরাজুল ইসলাম তার জবানবন্দিতে বলেন, “১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে স্বাধীনতাবিরোধী ছাত্র সংগঠনের যে সব নেতারা ছিলেন তার মধ্যে প্রথম হলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। এ ছাড়া সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম, হামিদুল কবির চৌধুরী ওরফে খোকা, এনামুল হক মঞ্জুও ছিলেন। এর মধ্যে খোকা ছিলেন মুসলিম ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক।”

সাক্ষীর দীর্ঘ জবানবন্দির মধ্যে এই একটি জায়গায়ই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নাম উল্লেখ করেছেন। বাকি অংশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বর্ণনা দেন।

গত ১৪ মে থেকে আসামী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ড. আনিসুজ্জামানের জবানবন্দির মধ্য দিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

গত বছরের ১৪ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। আর ১৮ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ১৫ জানুয়ারি ২৫টি ঘটনায় নয় ধরনের ৭৭টি অভিযোগ উপস্থাপন করে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন পেশ করেন।

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ২০১০ সালের ১৯ ডিসেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক দেখানো হয়।

আগামী রোববার আবারো সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল-১ এ।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট