Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

৩৩ নেতার মামলায় ৯ আগস্টের মধ্যে রায়?

জামিনের তীব্র বিরোধিতার পরে রাষ্ট্র এখন ৩৩ নেতার দণ্ড নিশ্চিত করার দিকে ঝুঁকছে কিনা সেই প্রশ্ন ক্রমশ জ্বলন্ত হয়ে উঠছে। আইনে অনেক কিছু বলা থাকে। কিন্তু রাষ্ট্র হলো প্রসিকিউশন বা মামলার মূল নিয়ামক শক্তি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের ভূমিকার কারণে অনেক সময় আদালতের কিছু করার সুযোগ সীমিত বা প্রশস্ত হয়ে পড়তে পারে। বাস পোড়ানোর মামলায় দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের অতিউৎসাহী ভূমিকা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলকে বিস্মিত করেছে।
এমনকি জামিনের বিরোধিতা শুধু আদালত কক্ষে রাষ্ট্রের আইনজীবীরাই নন, টিভি চ্যানেলে গিয়ে করছেন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভিতে তিনি জামিন না পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এমন দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, যাতে মনে হতে পারে, তার ও তার সরকারের কাছে কথিত মতে অপরাধ সংঘটনের অকাট্য প্রমাণ আছে।
অনেকে তাই গাড়ি পোড়ানোর মামলাটিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরোধী দল দমনের এক অবিস্মরণীয় হাতিয়ার হিসেবে ইতিমধ্যেই গণ্য করতে চাইছেন। রাষ্ট্র এই মামলার অগ্রগতির বিষয়ে ম্যারাথন দৌড়ে আছে। কারণ ১১ দিনে অভিযোগপত্র ও ২২ দিনে অভিযোগপত্র গ্রহণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে অন্য কোন মামলায় জামিন প্রদান প্রশ্নে হাইকোর্ট বিভাগের দু’টি বেঞ্চের বিভক্ত রায় এবং দু’টি তৃতীয় বেঞ্চ গঠন এবং জামিনের পক্ষে তাদের অভিন্ন রায় প্রদানের ঘটনা ঘটেনি। হাইকোর্ট বিভাগে দু’টি সংখ্যাগরিষ্ঠের রায় সত্ত্বেও নিম্ন আদালতের জামিন নাকচের ঘটনাও ইতিহাসে এই প্রথম। বিশেষ করে গত ২২ বছরের নির্বাচিত সরকারের আমলে এবারের ঘটনার কোন নজির নেই।
রাজনৈতিক নিষ্ঠুরতার অনেক উদাহরণ রয়েছে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে জেনারেল এরশাদের পতনের আগে। এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে খণ্ডন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জেল হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার উল্লেখ করে তার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন কয়েকটা দিন নিম্ন আদালত থেকে জামিনে ছিলেন বলে বিএনপি নেতারাই দাবি করেছেন। এমনকি মাহবুব উদ্দিন খোকনের আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের পর জনাব খোকন ২০শে মে পর্যন্ত জামিন পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই জামিনকে কিছুতেই নিম্ন আদালতের দেয়া ‘জামিন’ বলে মানতে চান না আইন প্রতিমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টতই দাবি করেন, নথি আসেনি বলে খোকন সাহেবকে সময় দেয়া হয়েছিল। কিন্তু নিম্ন আদালত তাকে জামিন দেয়নি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন যে, গাড়ি পোড়ানোর মামলাটি অ-জামিনযোগ্য ধারায়। তাই আদালত জামিন মঞ্জুর করতে পারেন না। শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার শীর্ষ শিরোনামেও এই অ-জামিনযোগ্য ধারার বিষয়টি বড় হরফে ছাপা হয়েছে। কিন্তু যে সত্য বড় করে ছাপা হয়নি তা হলো ২০০২ সালের ওই আইনটিতে আদালতকে জামিন না দিতে নয়, বরং দিতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। গাড়ি পোড়ানোর অপরাধ ফৌজদারি কার্যবিধিতে অজামিনযোগ্য করা হয়েছে। আইনটির ১৩ ধারা জামিন সংক্রান্ত। এটি তাই বলছে, ফৌজদারি কার্যবিধিতে যা-ই বলা থাকুক না কেন, রাষ্ট্রকে যুক্তিসঙ্গত শুনানির কারণ দিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে আদালত কিংবা আপিল আদালত যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জামিন দেয়া ন্যায়সঙ্গত হবে তাহলে তার কারণ লিপিবদ্ধ করে আদালত জামিনের আদেশ দিতে পারবে।
৩৩ নেতার বিচার যে সত্যিই সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে হবে তা এখন অনেকেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন। অনেকেই বলছেন, এই মামলাটি আর দশটা মামলার মতো মুলতবি হবে না। ঘন ঘন তারিখ পড়বে না। আইনে বলা আছে, হাতেনাতে ধৃত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ এবং তার সাত কার্যদিবসের মধ্যে চার্জশিট দাখিল এবং তার পরের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার করতে হবে। যদি আসামিদের হাতেনাতে ধরা না যায় তাহলে অভিযোগ দাখিল ও দায়েরের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে বিচার করতে হবে। না করলে কি হবে তা অবশ্য আইনে বলা নেই। সাধারণত রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী সংশ্লিষ্ট মামলা হলে আপিল কোর্ট নানা আইনি প্রশ্নে রুল জারি করেন এবং মামলা স্থগিত করে রাখেন।
আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। বিরোধী দলের নেতাদের আইনজীবীরা আপিল কোর্ট বা হাইকোর্টে যাবেন। কিন্তু প্রত্যাশিত প্রতিকার না-ও পেতে পারেন। অভিযুক্তদের কারাগারে আটকে রেখে এবারে বিচার হতে পারে।
৩৩ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালত ২১শে মে গ্রহণ করেছেন। এই ৩৩ নেতার কেউ ‘হাতেনাতে’ ধৃত হননি। এই কারণে আদালত বিচার করতে ৬০ কার্যদিবস সময় পাবেন। এ মামলার মোট আসামি ৪৫ জনের মধ্যে ৪২ জনই বিরোধীদলীয়। এখন আদালতকে ৩৩ নেতাকে জামিন দিয়ে বা না দিয়ে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার করতে হবে। পঞ্জিকার হিসাবে অনধিক আগামী ৯ই আগস্টের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার ডেডলাইন থাকছে বিচারকের সামনে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরোধী দল দমন কোন নতুন বিষয় নয়। তবে এবারের পরিস্থিতি চরম ভাবাপন্ন হতে চলেছে। ৩৩ জন উল্লেখযোগ্য নেতাকে একসঙ্গে একই মামলায় জড়ানো এবং তাদের কারাগারে পাঠিয়ে বিচার প্রক্রিয়া চালু করার নজির আগে ঘটেনি। যদিও নজির সৃষ্টি নিয়ে দুই বড় দলের নেতারা ইতিমধ্যে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। তবে অনেকে বলছেন, ৩৩ নেতার মধ্যে অন্তত অর্ধডজন সংসদীয় আসনের এমন নেতা রয়েছেন, যারা সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে হারিয়ে দিতে পারেন। সংবিধানে বলা আছে, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে কমপক্ষে দু’বছর দণ্ডিত হলে এবং মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হলে কেউ সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হতে পারবেন না।
২০০২ সালের ওই আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী আদালত কমপক্ষে দুই এবং সর্র্বোচ্চ পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিতে পারবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট