Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ইলিয়াসের বাড়ির গেইটে লাগানো হচ্ছে কাউন্টার সিসিটিভি

নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর বাড়ির গেইটে পুলিশের স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা নজরদারি করার জন্য কাউন্টার সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। নানামুখী ষড়যন্ত্র ও আতঙ্ক মোকাবিলার জন্যই নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করবেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর পরিবারের সদস্যরা। বনানীর ‘সিলেট হাউজ’-এ বসবাসরত ইলিয়াস আলীর পারিবারিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। গতকাল দুপুরে বনানীর ২/১ নম্বর সড়কে গিয়ে দেখা যায়, তিন নম্বর বাড়ি সিলেট হাউজের সামনে একেবারেই ফাঁকা। গলির প্রবেশ মুখে একটি চায়ের দোকান ছিল, সেটি পুলিশ উঠিয়ে দিয়েছে। গলিতে যাতায়াতকারী লোকজনকে নজরদারি করার জন্য বাড়ির প্রধান ফটকের ওপরের দেয়ালে বিপরীতমুখী দু’টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। বাইরে থেকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশকারী ও বাড়ি থেকে বের হওয়া লোকজনের ওপর নজরদারি করার জন্য প্রধান ফটকের দু’পাশে আরও দু’টি সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গুলশান জোন পুলিশের সহকারী কমিশনার শাহনেওয়াজ খালেদ বলেন, ইলিয়াস আলীর পরিবারের সদস্যদের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে এসব সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ২৪ ঘণ্টাই মনিটরিং করা হচ্ছে। তবে ইলিয়াস আলীর ঘনিষ্ঠ স্বজনরা জানান, ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়া, মধ্যরাতে তার বাড়িতে ডিবি পুলিশের হানা দেয়া এবং বর্তমানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা। এর নেপথ্যে শক্তিশালী চক্র সক্রিয়। তারা নানা চাল চেলে ইলিয়াস আলীর পরিবারকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলছে। আতঙ্কিত ও হয়রানি করছে। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ ঘটনা ভিন্ন দিকে নেয়ার জন্যই নতুন কোন ছক তৈরি করছে বলে তাদের আশঙ্কা। এ আতঙ্ক দূর করতেই ইলিয়াস আলীর স্বজনরা নিজেদের উদ্যোগে সিলেট হাউজে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাবেন। ইলিয়াস আলীর ঘনিষ্ঠ এক স্বজন বলেন, পুলিশের সিসিটিভি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং নিয়ে তাদের মনে নানা সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তারবিহীন এসব ক্যামেরা কোথা থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে তা-ও জানেন না তারা। এ কারণে তাদের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছেন না নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর স্বজনরা। বনানী থানার ওসি (তদন্ত) কাজী মাইনুল হোসেন বলেন, সিসিটিভি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে রয়েছেন গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার শাহনেওয়াজ খালেদ। তিনিই এসব ক্যামেরা মনিটরিং করেন। ইলিয়াস আলীর ঘনিষ্ঠ ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, ইলিয়াস আলীর পরিবারের সদস্যরাও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিরাপত্তার দিক চিন্তা করেই স্থায়ীভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এদিকে বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালক আনসার আলী নিখোঁজ হওয়ার পর ৩৫ দিন পেরিয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বনানী থানার ওসি (তদন্ত) ও নিখোঁজ ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা কাজী মাইনুল হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক এ পর্যন্ত তদন্ত বিষয়ক ১৫টি প্রতিবেদন আদালতে পেশ করা হয়েছে। গত ২০শে মে সর্বশেষ প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। তবে ওইসব প্রতিবেদনে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালকের নিখোঁজ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কোন তথ্য নেই। কারা, কি কারণে তাদের তুলে নিয়ে গেছে সে সম্পর্কেও কোন তথ্য দিতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা। এদিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত টিমও ইলিয়াসের ব্যাপারে কোন তথ্য জানতে পারেনি। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি মশিউর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও ইলিয়াস আলী কিংবা তার গাড়িচালক নিখোঁজ রহস্যের তাৎপর্যপূর্ণ কোন তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত আছে। প্রযুক্তি ও গতানুগতিক দুই পদ্ধতিতেই তদন্ত কাজ চলছে। ইতিমধ্যে তাদের সন্ধানে পেশাদার অপরাধীদের পাকড়াও করা হয়েছে। কারা হেফাজতে থাকা ছিনতাইকারীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৭ই এপ্রিল দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানী বনানী থানাধীন সাউথ পয়েন্ট স্কুল সংলগ্ল ২ নম্বর সড়কে পরিত্যক্ত অবস্থায় ইলিয়াস আলীর প্রাইভেটকার উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু ইলিয়াস আলী ও চালককে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট