Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিপিসি ও পিডিবি প্রায় দেউলিয়া

 কুইক রেন্টাল ও রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভর্তুকি দিতে গিয়ে এখন দেউলিয়া হতে বসেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তেল কেনার জন্য বিপিসি বছরে ভর্তুকি দিচ্ছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। এর বড় অংশই যাচ্ছে ভাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে। ওদিকে ভাড়া কেন্দ্র থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করায় লোকসান দিচ্ছে পিডিবি। এ অবস্থায় সরকার ভর্তুকি কমাতে তেল দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো কমিয়ে দিয়েছে। তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। তারপরও খুব বেশি লাভ হচ্ছে না। কুইক রেন্টাল ও রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সঙ্কটে পড়েছে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ খাত। সরকার বিপিসিকে সরাসরি ভর্তুকি দেয়। তবে পিডিবিকে দেয় ঋণ। এ কারণে পিডিবি’র দেনার পরিমাণ বাড়ছে। লোকসান সামাল দিতে গিয়ে খারাপ অবস্থায় পড়েছেন তারা। সূত্র জানায়, এই অর্থবছর শেষে সরকারের তিন বছরে এ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী বছর পর্যন্ত এই দুই খাতে ভর্তুকি দিতে হবে আরও ৩৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সূত্র জানায়, চারদলীয় জোট সরকারের প্রথম তিন বছরে এই দুই খাতে ২৪০১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। এই সরকারের আমলে লোকসান দিতে হচ্ছে তার প্রায় ১৫ গুণ বেশি। পিডিবি ও বিপিসি’র কেউ কেউ মনে করেন, কুইক রেন্টাল ও রেন্টাল কেন্দ্র থেকে সরকার বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে ওইসব ব্যবসায়ী-শিল্পপতিকে মুনাফা লোটার সুযোগ দিয়েছেন। ২০০১-২০০৬ সালে এই সময়ে বিদ্যুতের দাম বেড়েছিল একবার, বর্তমান সরকারের আমলে দাম বেড়েছে পাঁচ দফা। আবারও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা চলছে। পিডিবি চেয়ারম্যান এস এম আলমগীর কবির বলেন, রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো কম দামে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। খরচ বেশি হওয়ায় কম দামে বিক্রিও করতে পারছে না। আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এ টাকার যোগান দিতে গিয়ে আমাদের ঋণের বোঝা বেড়ে যাচ্ছে। পিডিবি’র এক কর্মকর্তা বলেন, এখন আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্র করছে সরকার। এগুলো সরকারি ও বেসরকারি কেন্দ্র। কুইক রেন্টালের দাম অনেক বেশি পড়ে। এ কারণে আইপিপি থেকে কিছুটা কম দামে বিদ্যুৎ কেনা যাবে। বিপিসি’র সূত্র জানায়, বিদ্যুৎখাতে ব্যবহৃত ডিজেল তারা আমদানি করছেন ৮৬ টাকায়, বিক্রি করছেন ৬১ টাকা। ফার্নেস অয়েল আমদানি করছেন সাড়ে ৭২ টাকায়। বিক্রি করছে ৬০ টাকা। পিডিবি চেয়ারম্যান এএসএম আলমগীর কবির বলেছেন, চলতি অর্থবছরের পর আর কোন রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসবে না। এরপর যেগুলো আসবে সেগুলো সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র। রেন্টাল কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি ৩ থেকে ৫ বছর মেয়াদি। এই মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর ভর্তুকির পরিমাণও কমে আসবে।
বিপিসি’র চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগের চেয়ে জ্বালানি তেলের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। ভর্তুকি মূল্যে তাদের তেল সরবরাহ করতে হচ্ছে। এতে ভর্তুকি বেড়ে গেছে। তিন বছর আগে জ্বালানি তেলের চাহিদা ছিল ৩৬ লাখ টন। গত বছর তেলের চাহিদা ছিল ৪৮ লাখ টন, এ বছর আছে ৫৮ লাখ, আগামী বছর আরও বাড়বে। কুইক রেন্টালগুলো তেলে না চলে কয়লা ও গ্যাসে চললে জ্বালানি তেলের ওপর এতটা চাপ পড়তো না। প্রতি মাসে এখন ভর্তুকি ১ হাজার কোটি টাকা। বছরে ১২ হাজার কোটি টাকা। এ টাকা তো কোনভাবেই ওঠানো সম্ভব নয়।
সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বেসরকারি খাতের কুইক রেন্টাল ও রেন্টাল কেন্দ্রের জন্য চুক্তি সই করে। এসব কেন্দ্রের বেশির ভাগই তেলভিত্তিক। ইতিমধ্যে কেন্দ্র চালু হয়েছে প্রায় ২৩টি। সরকার এখন নতুন ধরনের বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৪টি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ১১টি কেন্দ্র চালু হওয়ার কথা। তবে ওইসব কেন্দ্রের বেশির ভাগই ভূমি উন্নয়ন কাজ এখনও শুরু করতে পারেনি। ১৩টি অর্থের সংস্থানও করতে পারেনি। তারা ব্যাংকের কাছে গেলেও ঋণ পাচ্ছেন না। এছাড়াও বিশ্বব্যাংকসহ বিদেশী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ঋণ দিতে আগ্রহী নন। এ কারণে আইপিপি প্রকল্প ঝুলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকার এ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে যে ধরনের বিদ্যুৎ উৎপাদন আশা করছে তা পূরণ না-ও হতে পারে। সূত্র জানায়, ১৩টি আইপিপির জন্য মেঘনাঘাট ও বিবিয়ানার দু’টি বাদে অন্য ১০টিই চলবে ফার্নেস অয়েলে। জামালপুরের একটি কেন্দ্র জ্বালানি গ্যাস ও তেল দিয়ে চলবে। তেল দিয়ে চলার কারণে এসব কেন্দ্রের বিদ্যুতের দামও বেশি পড়বে। সূত্র জানায়, সরকার কুইক রেন্টাল ও রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের লোকসান কমাতে আইপিপি উদ্যোগ নিলেও এসব কেন্দ্রের জন্যও ভর্তুকি দিতে হবে। সূত্র জানায়, ২৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ছয়টি কেন্দ্র সরকারি, বাকি কেন্দ্রগুলো বেসরকারি খাতের।  এর ১৭টি জ্বালানি নির্ভর ও ৯টি গ্যাসের পাশাপাশি তেলে চলবে। এসব কেন্দ্র থেকে ২১৩৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এ বিদ্যুৎ পুরোটাই পিডিবিকে বেশি দামে কিনতে হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল কেন্দ্রের মাধ্যমে কোন কোন ব্যবসায়ী-শিল্পপতি সুবিধা পেয়েছেন। তাদেরকে সুবিধা দিতে গিয়েই সরকারকে এত লোকসান দিতে হচ্ছে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. আকবর আলি খান বলেন, রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের কারণে সরকারকে অতিরিক্ত ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এর বোঝা চাপছে জনগণের ওপর। বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনগণের কাছ থেকে টাকা আদায় করে সরকার ঋণের বোঝা কমানোর চেষ্টা করছে। এটা স্থায়ী কোন সমাধান নয়।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরির কমিশনের  চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ হোসেন বলেন, আমরা চাইলেও সরকারকে নীতিনির্ধারণী ব্যাপারে বলতে পারি না। সরকার যখন কুইক রেন্টাল ও রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করে আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করে করেনি, তাদের মতো করে করেছে। এখন লোকসান কমাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। পিডিবিকে আমরা বলেছি. তাদেরকে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণে সচেষ্ট হতে এবং তাদের খরচ কিভাবে কমে তা জানাতে। এছাড়াও প্রকৃতপক্ষে খরচ কত টাকা তা জানানোর জন্য। তারা সব সময় দাম বেশি পড়ে, লোকসান হচ্ছে- এসব কথাই বলে। তিনি বলেন, আমি যে ব্যবস্থা নেবো তেমন কোন হাতিয়ার তো আমার নেই। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকারকে বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির ওপর জোর দিতে হবে। ভাড়া বিদ্যুতের ওপর ভরসা কমাতে হবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট