Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সরকারি দলে যুদ্ধাপরাধী নিয়ে আবেদন করেছেন কিনা: ট্রাইব্যুনাল

ঢাকা, ২০মে: ক্ষমতাসীন দলে যে সব যুদ্ধাপরাধী আছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে একটা আবেদন করেছেন কি?’ মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক বিএনপি নেতা আব্দুল আলিমের  শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল-২ এটা জানতে চান।

 

এ সময় ক্ষমতাসীন দলে কোনো যুদ্ধাপরাধী থাকলে তাদের ‘চিহ্নিত’ করে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকেউটরের কাছে  (ডিফেন্স) আসামিপক্ষকে তদন্তের জন্য আবেদন করতে বলেছেন ট্রাইব্যুনাল-২।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “আমি আব্দুল আলিমের বিষয়ে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপনের সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যারা আছেন তাদের মধ্যে যুদ্ধাপরাধী আছে এমন যুক্তি উপস্থাপন করলে ট্রাইব্যুনাল নিয়ম মতো চিফ প্রসিকিউটরের কাছে আবেদন করতে বলেন। যেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারেন।”

 

রোববার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি  এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যোর ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন না করার পক্ষে তার আইনজীবীর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

 

যুদ্ধাপরাধের মামলায় বিএনপির সাবেক এমপি ও মন্ত্রী আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে রোববার তার আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এ অভিযোগের করেন। অভিযোগ করে তিনি বলেন, “সরকারি দলে যুদ্ধাপরাধী থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।”

 

শুনানির সময় তাজুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমার মক্কেল বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হবার  কারণেই  তার বিরুদ্ধে এ বিচার হচ্ছে।’’

 

জবাবে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীর বলেন, ‘‘প্রসিকিউশন বলছে, সরকারি দলে কেউ নেই। আপনারা বলছেন, আছে। তাহলে দেখিয়ে দিচ্ছেন না কেন? সরকারি দলে কেউ থাকলে তাকে দেখিয়ে দেন। আবেদন না করলে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়, তা কীভাবে বুঝবেন?’’

 

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, ‘‘এই বিচার যে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে, সরকারি দলে অনেক যুদ্ধাপরাধী  রয়েছেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।’’

 

আদালত বলেন, ‘‘ক্ষমতাসীন দলে যারা আছে, তাদের বিরুদ্ধে (তদমত্ম করতে চেয়ে) একটা আবেদন করেছেন কি?’’

 

আইনজীবী তাজুল বলেন, ‘‘এটাতো সরকারেরই দায়িত্ব। এই বিচার তারা করছে। এটা নিরপেক্ষ প্রমাণ করতে তাদেরই উচিত দল মত নির্বিশেষে সবাইকে বিচারের আওতায় আনা।’’

 

‘‘আমরা আবেদন করলে তো সেটা যাবে প্রধান প্রসিকিউটরের কাছে। তিনিই ঠিক করবেন, এর তদন্ত হবে কি-না। আর প্রসিকিউশন তো রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট’’, আলীমের আইনজীবী বলেন।

 

এরপর তাজুল বলেন, “এ ধরনের আবেদন করার বিষয়টি তারা ভবিষ্যতে ভেবে দেখবেন।”

 

এ মামলা থেকে আলীমকে অব্যাহতি দেয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়ে তাজুল বলেন, “আইনের ১৬ (৩) ধারা অনুসারে সব অপরাধ সুনির্দিষ্ট করতে হবে। কখন, কোথায়, কীভাবে, কার প্রতি অপরাধ হয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনোটিতেই এর সবগুলো সুনির্দিষ্ট করতে প্রসিকিউশন ব্যর্থ হয়েছে।”

 

তিনি বলেন, “একাত্তরের মূল অপরাধীরা সুনির্দিষ্ট। তাই তাদের বাদ দিয়ে তাদের সহায়তাকারীদের বিচার করা যায় না।”

 

ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘‘আমাদের আইনে অপরাধে সহায়তা করাও একটি আলাদা অপরাধ। তাই এ বিচার চলতে পারে।’’

 

আসামিপক্ষের যুক্তি দেখানো শেষে প্রসিকিউশনের যুক্তি-তর্ক শুনানির জন্য সোমবার দিন পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

 

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় গত বছর ২৭ মার্চ জয়পুরহাটের বাড়ি থেকে বিএনপি নেতা সাবেক মন্ত্রী  আব্দুল আলীমকে আটক করা হয়।

 

ওই বছরই ৩১ মার্চ ১ লাখ টাকায় মুচলেকায় ছেলে ফয়সাল আলীম ও আইনজীবী তাজুল ইসলামের জিম্মায় জামিন দেয় ট্রাইব্যুনাল-১। পরে  কয়েক দফা জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়।

 

গত মার্চে আলীমের মামলাটি দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করার পর ২৪ এপ্রিল এ আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয়।

 

জয়পুরহাটের ওই সব এলাকার ঘটনার মধ্যে তার বিরুদ্ধে তিন হাজার ৯০৯ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে সাত ধরনের ২৮টি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।

 

এ সময় তিনি বলেন, “আমার মক্কেলেরর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধের উপাদান নেই। কোনো তথ্য প্রমাণ নেই এবং দেরি করে বিচার শুরু করারও কোনো ধরনের ব্যাখ্যা নেই। তাই অভিযোগ গঠনের বিরোধীতা করছি।”

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট