Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

স্ত্রী’র পরকীয়ায় লাশ হলো রিয়াজুল

, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে: বুক চাপড়ে আর্তনাদ করছেন রিয়াজুলের মা। ভাই আর বোনেরা চোখে পানি নিয়েই ছুটছেন থানায়, এর ওর কাছে। রিয়াজুল হত্যার বিচার চান তারা। একই সঙ্গে তৎপর দুর্বৃত্তরাও। নানা হুমকি-ধামকিতে তটস্থ করে তুলছে রিয়াজুলের পরিবারকে। নিষেধ করছে বিচার চাইতে। জিআরপি তাদের সুরতহাল রিপোর্টে বলেছে, ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে রিয়াজুল। আর ময়নাতদন্তকারী ডাক্তার বলছেন, তার শরীরে যে জখমের চিহ্ন রয়েছে সেগুলো মৃত্যুর আগের। গ্রামের সহজ-সরল একটি পরিবারের সন্তান রিয়াজুল হত্যার বিচার পাওয়া নিয়ে তাই দেখা দিয়েছে সংশয়। সহজেই কি পার পেয়ে যাবে দুর্বৃত্তরা- এমন প্রশ্ন আর আলোচনা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সোহাতা-কাছাইট গ্রামজুড়ে। শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলো রিয়াজুল। বিয়ের ছয় মাসের মধ্যে ঘটলো মর্মান্তিক এ ঘটনা। তার মা ও ভাই-বোনদের অভিযোগ- স্ত্রী’র পরকীয়ার কারণেই খুন হয়েছে সে। ৯ই মে সকালে রিয়াজুলের লাশ পাওয়া যায় ভাদেশ্বরা গ্রামে রেললাইনের পার্শ্বে। মাথা, চোখের নিচে ও অণ্ডকোষে ছিল ধারালো অস্ত্রের আঘাত। জিআরপি লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়। ট্রেনে কাটা পড়ে অপমৃত্যু হয়েছে বলে মামলা হয় আখাউড়া জিআরপি থানায়। জিআরপি’র সুরতহাল রিপোর্টেও বলা হয়েছে, ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে রিয়াজুল। নিহতের পরিবার থেকে রিয়াজুলকে হত্যা করার অভিযোগ এনে আখাউড়া জিআরপি থানায় একটি এজাহার দেয়া হলেও সেটি আমলে নেয়নি জিআরপি থানা পুলিশ। আখাউড়া জিআরপি থানার ওসি হাসনাত খন্দকার বলেন, রিয়াজুলের দেহ পুরোপুরি ক্ষতবিক্ষত ছিল। আসলে সে কিভাবে মারা গেছে, ট্রেনের নিচে কাটা পড়েছে নাকি তাকে মেরে ফেলা হয়েছে তা এখনও আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। তার শরীরে অনেক আঘাতের চিহ্ন ছিল। সেগুলো কি মৃত্যুর আগের না পরের তাও আমরা স্পষ্ট করে বলতে পারছি না।  ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক ইত্যাদি রিপোর্ট এলে এসব বিষয় পরিষ্কার হবে বলে জানান জিআরপি’র ওসি। তিনি বলেন, রিপোর্ট যদি পজিটিভ হয় তাহলে হত্যা মামলা হবে। অপমৃত্যু মামলাটিই তখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। ওদিকে রিয়াজুলের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্নকারী জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রানা নূর শামস বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্টে আমরা সুস্পষ্ট করে কোন মন্তব্য করিনি। তবে রিয়াজুলের শরীরে যে আঘাতের চিহ্ন সেগুলো মৃত্যুর আগেই ছিল। আমরা স্পষ্ট করে কোন কিছু বলিনি। বিষয়টি উন্মুক্ত আছে। এখন দায়িত্ব পুলিশের। তারা তদন্ত করে বের করবে। ওদিকে রিয়াজুলের মা ও পরিবারের সদস্যরা জোর দিয়েই বলছেন, রিয়াজুলকে হত্যা করা হয়েছে। বিয়ের পর থেকে দাম্পত্য কলহ, স্ত্রীর পরকীয়া, পরকীয়া প্রেমিক ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বাড়িতে এসে শাসানো এবং হত্যা পূর্বাপর আলামতে সেটাই পরিষ্কার। গ্রামবাসীও বলছেন তাই। ৬ মাস আগে পার্শ্ববর্তী মাছিহাতা গ্রামের মুসলিম মিয়ার মেয়ে আজিমার সঙ্গে বিয়ে হয় রিয়াজুলের (২৫)। বিয়ের ২ মাস পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে শুরু হয় অশান্তি। সালিশ দেন-দরবার হয় এ নিয়ে অনেকবার। এসব কারণে আজিমা বেশির ভাগ সময়ই থেকেছে বাপের বাড়িতে। সালিশ বসিয়ে আজিমাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনলে ২-৪ দিন থেকেই সে চলে যেতো। রিয়াজুল মারা যাওয়ার ১৫-২০ দিন আগে আজিমা সর্বশেষ যায় তার বাপের বাড়িতে। স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসতে ঘটনার ৪ দিন আগে রিয়াজুল শ্বশুর বাড়িতে যায়। রিয়াজুলের লাশ পাওয়ার আগের দিন তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে তার দু-ভাই মাছিহাতা গ্রামে যান। ৮ই মে বিকালে প্রথমে যান মেঝভাই সানাউল। বাড়িতে যাওয়ার আগেই বাজারের পথে দেখা হয় রিয়াজুলের শ্যালক জসিমের সঙ্গে। সে সানাউলকে জানায়, তার ভাই কালকে যাবে। আজ তাদের বাড়িতে মেহমান এসেছে, আমোদ-ফূর্তি হচ্ছে। ওইদিন রাতে আবার যায় রিয়াজুলের বড় ভাই হেলাল। তাকে রিয়াজুলের স্ত্রী জানায়, রিয়াজুল চট্টগ্রামে গেছে। তারপরও হেলাল আজিমাদের ঘরসহ আশপাশের কয়েকটি ঘরে রিয়াজুলকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে চলে আসে বাড়িতে। আসার সময় আজিমা তাকে বলে, চিন্তা কইরেন না নিশ্চিন্তে বাড়িতে গিয়ে ঘুমান। পরদিনই পাওয়া যায় তার লাশ। রিনা নামে রিয়াজুলের এক ভাবী জানান, রিয়াজুল সেখানে যাওয়ার পর খোঁজখবর নেয়ার জন্য প্রতিদিনই তিনি ফোন দিতেন। কিন্তু কখনও রিয়াজুলের সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। ফোন ধরতো জসিম। রিয়াজুলের মৃত্যুর পর এই জসিমের ফোন থেকেই হুমকি দেয়া হচ্ছে তাদের। ১২ই মে বিকালে রিয়াজুলের আরেক ভাই আনাজুলের নাম্বারে ফোন করে বলা হয়, মামলা করলে খাইয়া ফালামু। জসিমের নাম্বার থেকে ফোন করে হুমকি দেয় অন্যরা। রাতে রিয়াজুলের বাড়িতে এসে রেললাইনের পাথর ছুড়ে মারা হয়। এপ্রিল মাসে সোহাতা গ্রামের শামছুল হকের ছেলে কাজল, মাজু মিয়ার ছেলে রাকিব, কাদির মিয়ার ছেলে নূরুল আলম রিয়াজুলের বাড়িতে এসে তার মাকে হুমকি দিয়ে যায়। বলে তোমার ছেলে বউ নিয়া ঠিকঠাকভাবে না চললে তারে মাইরা ফালামু। এই হুমকি দেয়ার পর রিয়াজুল ভয়ে বাড়ি ছেড়ে চট্টগ্রাম চলে যায় তার বোনের বাড়িতে। ৭-৮ দিন সেখানে থেকে আবার বাড়িতে ফিরে আসে। রিয়াজুলের মা, ভাই-বোনেরা জানান, কাজলের সঙ্গে আজিমার প্রেম ছিল আগে থেকেই।
কাজলের নানা বাড়ি আর আজিমাদের বাড়ি একই জায়গায়। এই সূত্রেই কাজল বিয়ের পর থেকে রিয়াজুলকে নানাভাবে শাসাতো। বলতো আজিমার কোন সমস্যা হলে সে পার পাবে না। আজিমাও সবসময় রিয়াজুল আনস্মার্ট বলে তাচ্ছিল্য করতো। পরকীয়া প্রেমের কারণে চিহ্নিত এই দুর্বৃত্তরা রিয়াজুলকে হত্যা করে লাশ রেললাইনের ওপর ফেলে রাখে বলে অভিযোগ রিয়াজুলের পরিবারের।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট