Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

চুক্তি ভঙ্গ করছে ভাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র

 ভাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো প্রতিনিয়ত চুক্তিভঙ্গ করছে। এজন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছে তারা। সরকার তাদের কারচুপি ধরতে পারলেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এ কারণে তারা দিনের পর দিন অনিয়ম করে যাচ্ছে। সূত্র জানায়, নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে তিন হাজার মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ যোগ হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। চুক্তির চেয়ে নয়শ’ থেকে এক হাজার মেগাওয়াট কম উৎপাদন করছে। ফলে এ খাতেই নয়শ’ থেকে এক হাজার মেগাওয়াটের ঘাটতি থাকছে নিয়মিত। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ২০১৬ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী তিন বছরে মোট পাঁচ হাজার ৫শ’ ৩৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি করে। ইতিমধ্যে ২৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৯শ’ ৯৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে। ৩ হাজার ৫শ’ ৩৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২৭টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন। এছাড়াও বিগত সরকারের সময়ের চুক্তির আওতায় ১৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এ সরকারের সময়ে ৯শ’ ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে। তা সত্ত্বেও সুফল মিলছে না। চাহিদা না মেটায় ফারাক রয়েই যাচ্ছে।
সূত্র জানায়, এ মওসুমে প্রতিদিন সারাদেশে গড়ে পাঁচ থেকে দশ ঘণ্টা, কোথাও ১২-১৩ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, নতুন চালু হওয়া কিছু কেন্দ্রের মেশিনের ক্ষমতা কম। কম দামি ও নিম্নমানের মেশিন ব্যবহার করা হয়েছে। সরকারের সবাই এটা জানলেও তারা নিম্নমানের ও পুরনো মেশিন ব্যবহার করার কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। আর এ কারণে সরকার কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে যে সুবিধা পাওয়ার কথা তা পাচ্ছে না। উল্টো এই প্রকল্প নানাভাবে বিতর্কিত হচ্ছে। এর সুফল না পাওয়ায় জনগণও কষ্ট পাচ্ছে, তাদের ভোগান্তি বাড়ছে। মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, তাদের কাছে তথ্য রয়েছে, নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন কম হওয়ার পেছনে তাদের পুরাতন মেশিন ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। এজন্য উৎপাদনে ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। এসব কেন্দ্র থেকে যতটা বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা ছিল তা উৎপাদন হচ্ছে না। তারা তেলের অজুহাত দেখিয়ে কম উৎপাদন করছে। তেল একটি কারণ হলেও তাদের বড় সমস্যা মেশিনপত্রের। সূত্র জানায়, সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ৪৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার কথা ২ হাজার ৯শ’ ৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কিন্তু তা হচ্ছে না। পিডিবি সূত্র জানায়, এসব কেন্দ্রের মধ্যে ২৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদন কম হচ্ছে প্রায় ৯শ’ থেকে এক হাজার মেগাওয়াট। সেই সঙ্গে গ্যাস সংকটের কারণে পুরনো ৮টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এক হাজার মেগাওয়াট এবং ২৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকায় ১ হাজার ২শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম উৎপাদন হচ্ছে। এছাড়া আরও কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বয়স বেশি হওয়ায় উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ২শ’ থেকে ৩শ’ মেগাওয়াট কম উৎপাদন হচ্ছে।
সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার তিন বছরের বেশি সময়ে প্রায় ২২ লাখ নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে। এ কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে ১ হাজার ৩শ’ ৪৫ মেগাওয়াট। সেচ মওসুমে এখন এ সেক্টরেই গড়ে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতর প্রয়োজন। একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ২০১০ সালের ৩১ ডিসেম্বরে তাদের কেন্দ্রটি চালু হয়। ১৪টি ইউনিটের তিনটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণে অনেক সময় লেগেছে। এজন্য ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম উৎপাদন হয়। তা ওই অবস্থা এখনও কাটাতে পারেননি। সূত্র জানায়, যেসব কেন্দ্রে ধারাবারিকভাবে বিদ্যুৎ কম উৎপাদন হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে- ফেনী (এসআইপিপি) কেন্দ্র, কুমারগাঁও রেন্টাল (১৫ বছর মেয়াদি), মহিপাল ফেনী (এসআইপিপি), ভোলা রেন্টাল (৩ বছর মেয়াদি), ফেঞ্চুগঞ্জ রেন্টাল (১৫ বছর মেয়াদি), শিকলবাহা রেন্টাল (৩ বছর মেয়াদি), ঠাকুরগাঁও রেন্টাল (৩ বছর মেয়াদি), শিকলবাহা পিকিং বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সিদ্ধিরগঞ্জ (১ম ও ২য় ইউনিট), ভেড়ামারা রেন্টাল (৫ বছর মেয়াদি), সিদ্ধিরগঞ্জ (৩ বছর মেয়াদি কুইক রেন্টাল), মদনগঞ্জ, ঘোড়াশাল, সিদ্ধিরগঞ্জ কুইক রেন্টাল, নোয়াপাড়া (কোয়ান্টাম), বাঘাবাড়ী পিকিং বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বেড়া পিকিং বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ফেঞ্চুগঞ্জ (সিসিপিপি), ফরিদপুর পিকিং বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গোপালগঞ্জ পিকিং বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বগুড়া রেন্টাল (৩ বছর মেয়াদি), হাটহাজারী পিকিং বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং আমনুরা (সিনহা পাওয়ার) কেন্দ্র।
পিডিবি’র এক কর্মকর্তা বলেন, সরকার বিদ্যুৎ নিয়ে পরিকল্পনা করলেও তারা তাদের হিসাবে নতুন গ্রাহক ধরেননি। নতুন গ্রাহককে না ধরার কারণে যেসব নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছে তাদের যে বিদ্যুৎ দেয়া হয়েছে তা হিসাবের বাইরে। নতুন সংযোগে এক হাজার ৩শ’ ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লেগেছে। সেই সঙ্গে সেচের জন্য আরও এক হাজার লাগছে। ২০১৫ সালের মধ্যে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে পরিকল্পনা করেছে তা এখন পরিবর্তন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ বাড়াতে হবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজেও একথা স্বীকার করেছেন। বলেছেন, বিদ্যুতের পরিকল্পনায় তারা হিসাবে ভুল করেছেন। সরকারের একটি পরিকল্পনা প্রণয়নে ভুল হিসাবের খেসারত দিচ্ছেন গ্রাহকরা।
এদিকে পিডিবি জানায়, যেসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করে চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে ডিসেম্বরের মধ্যেই বেশ কয়েকটি পুরোদমে চালু করা সম্ভব হবে। এগুলো চালু হলে পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আসবে। সেখানকার কর্মকর্তারা বলছেন, উৎপাদন বাড়লেও চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ দিতে পারছে না পিডিবি। ফলে লোডশেডিংও আশানুরূপ হারে কমছে না। এ নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে, তবে কাজ হচ্ছে না। এদিকে ৮ই মার্চ বিদ্যুতের লোডশেডিং নিয়ে সংসদ সদস্যরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তারা বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দাবি করেন। সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমদ বিদ্যুৎ সঙ্কটের জন্য বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে আক্রমণ করে গত আগস্টেও সংসদে বক্তব্য দেন। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে গত বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এবারও বিভিন্ন  স্থানে বিদ্যুতের দাবিতে মিছিল সমাবেশ হচ্ছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট