Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘কিভাবে বাধ্য করতে হয় বিএনপি জানে’

 তত্ত্বাবধায়ক ও বিরোধী দল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে বিরোধী দলের নেতারা বলেছেন, নির্দলীয় সরকারের দাবি মানতে সরকারকে বাধ্য করার কৌশলও বিরোধী দলের জানা আছে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে। রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই এই দাবি আদায় করা হবে।
বিরোধী দলের নেতারা পৃথক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। গতকাল সকালে চিকিৎসক সমাবেশে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিরোধী দলকে কীভাবে সঠিক পথে আনা যায়, তা তিনি জানেন। আমরাও প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নিতে সরকারকে বাধ্য করার কৌশলও বিরোধী দলের জানা আছে।  তিনি বলেন, বাংলাদেশে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের বিষয়ে ‘বিশ্ব জনমত’ সৃষ্টি হয়েছে। এই দাবিটি এখন  কেবল বিএনপি কিংবা ১৮ দলীয়  জোটের দাবি নয়, এটি জনগণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এই দাবিতে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ও ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি ঢাকায় এসে বলে গেছেন, বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হবে, যাতে সব দল অংশ নিতে পারে।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, দানব রূপের তত্ত্বাবধায়ক মানুষ আর চায় না। বিরোধী দলকে কিভাবে সঠিক পথে আনা যায়, তা জানা আছে। তার এই বক্তব্যের জবাবে মওদুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে  স্বৈরাচারী মনোভাবের প্রকাশ  পেয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে বর্তমান সরকারকে বাধ্য করা হবে।
বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কারাবন্দি নেতাদের মুক্তি, নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর সন্ধান এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে এই অনুষ্ঠানে মওদুদ বলেন, সরকারের বদলে দেশে ব্যক্তি শাসন চলছে। প্রতিটি সাংবিধানিক সংস্থা যেমন বাংলাদেশ কর্ম কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ক্ষমতায় চলছে না। সরকারের রাজনীতির আধিপত্যের অধীনে তারা কাজ করছে।
বিএনপিকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা এবং নির্বাচন করতে না দেয়ার জন্যই শীর্ষ নেতাদের মিথ্যা মামলায় প্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সরকার ‘এই কৌশলে’  বেশিদিন বিএনপি নেতাদের কারাগারে রাখতে পারবে না।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মওদুদ বলেন, হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সরকার ভেবেছে, এতোগুলো  নেতাকে জেলে রেখে আন্দোলন বন্ধ করে দেবে, তা কোনদিন সফল হবে না।
দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার  ঘোষণা দেয়ায় তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মওদুদ বলেন, আমি তার শুভ কামনা করছি। তবে তাকে বলতে চাই, একটি বিভাগীয় তদন্তে তিনি নিজেকে ‘ক্লিন’ বলে দাবি করলেও কোন লাভ হবে না। কারণ ঘুষ কেলেঙ্কারির যে কলঙ্ক সুরঞ্জিতের গায়ে লেপন হয়েছে, তা কখনই দেশের মানুষের মন থেকে মুছে যাবে না।
ড্যাব-এর সভাপতি অধ্যাপক একেএম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে- বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ইউসুফ হায়দার, কলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক সদরুল আমিন, চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলাম, যুবদলের সভাপতি সৈয়দ  মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সানাউল্লাহ মিয়া, আবদুল আউয়াল ঠাকুর বক্তব্য রাখেন।
এদিকে অন্য এক অনুষ্ঠানে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য  লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছিল। সে গণতন্ত্র আজ ভূলুণ্ঠিত। গণতন্ত্রের ভাষায় সবাইকে কথা বলতে দিতে হবে। সংলাপ করতে হবে। কিন্তু  সে সংলাপ হচ্ছে লাঠি দিয়ে অত্যাচার করে ও মিথ্যা মামলা দিয়ে। গতকাল সকালে জাতীয়  প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ ১৮ দলীয়  জোটের নেতাদের মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী নাগরিক মঞ্চ আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশে ইতিপূর্বে কখনও এতো উঁচুমাপের রাজনৈতিক নেতাদের আটক করা হয়নি। এবং তাদের জামিন আবেদন নাকচ করা হয়নি।
বর্তমান সরকারকে চরম স্বৈরাচারী ও জালিম সরকার বলে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবশ্যই প্রবর্তন করতে হবে। আর এর মাধ্যমেই নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত হতে পারে। জাতীয়তাবাদী নাগরিক মঞ্চের সভাপতি ড. নয়ন বাঙালির সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপি নেতা এডভোকেট  খোরশেদ আলম মিয়া ও হুমায়ুন কবির প্রমুখ।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক ছাত্রদল ফোরাম আয়োজিত  আরেকটি মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘ক্ষমতার এতো অপপ্রয়োগ আগে কখনও  দেখিনি। দেশ এখন মারাত্মক সঙ্কটের মুখে। প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে একের পর এক হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। তার এ হুমকিতে জনগণ ভীত নয়।’
তিনি বলেন, জাতীয় এত নেতা হুকুমের আসামি হতে পারেন না। বিচার বিভাগে দলীয়করণের কারণে জুনিয়র বিচারপতিরা সিনিয়রদের রায় মানছেন না। সিনিয়ররা জোট নেতাদের জামিন দিলেও জুনিয়ররা জেলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট