Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘নিজের তদন্ত কমিটি নিজে করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সুরঞ্জিত’

ঢাকা, ১৭মে: বিএনপির ৩৩ নেতাকে নিন্ম আদালতে আটকের প্রতিবাদে ডাকা হরতালের সমর্থনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম এর উদ্যেগে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে।

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, “পদত্যাগকারী সাবেক রেলমন্ত্রী একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি নিজের দুর্নীতির তদন্ত কমিটি নিজেই করেছেন। আর ওই তদন্ত কমিটির প্রধান করেছেন রেলের ডিজিকে।”

 

বৃহস্পতিবার সকালে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে  হরতালের সমর্থনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সিনিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া।

 

উপস্থিত পুলিশকে লক্ষ্য করে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, “আপনারা জাননে কোনো তদন্ত কমিটি করতে হলে যিনি দুর্নীতি করেছেন তার উপরস্থ কোনো কর্মকর্তা ওই ব্যক্তির তদন্ত করতে পারেন। আর আমরা দেশের মানুষরা দেখলাম কিভাবে নিজের দুর্নীতির প্রমাণ ঢাকতে নিজে নিজেই তার তদন্ত করলেন সুরঞ্জিত বাবু।”

 

তিনি আরো বলেন, রেলমন্ত্রীর পদত্যাগের পর প্রধানমন্ত্রী তাকে আবারো মন্ত্রীত্ব দিলেন। রেজিগনেশন অনুযায়ী রেলমন্ত্রী রিজাইন করলেন আর প্রধানমন্ত্রী তার দায়িত্ব নিলেন। প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে রেলমন্ত্রীও দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।”

 

তিনি আরো বলেন, “যে মুহূর্তে দেশের সকল মানুষ দুর্নীতি, দুঃশাসানের প্রতিবাদে রাজপথে ঠিক সেই সময়ে বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে গুম করলো সরকার। জনগণ যখন তেল,গ্যাস ও পানির দাবিতে আন্দোলন করছে, ঠিক সেই সময় এ নাটক করে  আন্দোলকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সরকার এ কাজ করেছে।”

 

ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া আরো বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একটি বৃহৎ দল। এই দলের লাখ লাখ নেতা। কাকে রেখে কাকে গ্রেফতার করবে সরকার। নেতাদেরকে গ্রেফতার নির্যাতন করে আন্দোলন থামানো যাবে না। কয়জনকে গ্রেফতার করবেন সরকার। কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতার করে কোন আন্দোলন থামাতে পারবেন না। জাতীয়তাবাদী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

 

পুলিশ অন্যায়ভাবে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে। এর ফলে মানুষ বুঝতে পারছে পুলিশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের মত আচরণ করছে।”

 

তিনি আরো বলেন,“একটি গণতান্ত্রিক দেশের পুলিশ অগণতান্ত্রিক আচরণ করছে। আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ বাধা দিয়ে গেট থেকে বের হতে দেয়নি।”

 

এ সময় বক্তারা আরো বলেন, “সরকার গুমের রাজনীতি শুরু করেছে। এখন কোনো মানুষই নিরাপদ নয়।”

 

বক্তারা আশংকা প্রকাশ করে বলেন, যে কোনো সময় আমরাও গুম হয়ে যেতে পারি। এজন্য  আমাদের সচেতন হতে হবে।

 

হরতালের সমর্থনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সামনে থেকে মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান গেট দিয়ে বাইরে বের হতে চাইলে পুলিশের বাধার কারণে বাইরে বের হতে পারেনি।

 

মিছিলটি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সামনে থেকে মাজার গেট হয়ে আপিল বিভাগের সামনে দিয়ে মূলগেটের হয়ে প্রেস ক্লাবের দিকে যেতে চাইলে মূল গেটেই পুলিশ তাদের বাধা দেয়।

 

মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অন্যদের মধ্যে আরো  বক্তৃতা করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, গাজী কামরুল ইসলাম সজল, আশরাফুজ্জামান, মির্জা আল মাহমুদ প্রমুখ।

 

সুপ্রিম কোর্ট জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম এর উদ্যোগে আয়োজিত মিছিলে নেতৃত্ব দেন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া।

 

এদিকে বিএনপির ঢাকা হরতালের দিনেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ একটি মামলার শুনানি হয়েছে। তবে হাই কোর্টের আরো কয়েকটি বেঞ্চ বসলেও আইনজীবী না থাকায় কোনো শুনানি হয়নি।

 

অন্যদিকে পুরাতন হাই কোর্টে স্থাপিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত  ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ এ মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আব্দুল আলিম, কামারুজ্জামান ও সালাউদ্দিন কাদেরের মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল।

 

কিন্তু সকালে তাদের আইনজীবীরা উপস্থিত না থাকায় চার জনেরই শুনানি রোববার পর্যন্ত পিছিয়েছে। আগামী ২০ মে যদি পরিস্থিতি এমন (হরতাল) থাকে, আজকের মতো হয় তবে তাদেরকে পুলিশ প্রটেকশন দিয়ে আনা হবে বলেন  ট্রাইব্যুনাল।

 

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট