Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘৫৫ বছরের অর্জন ৫৫ সেকেন্ডে শেষ হয়ে যাবে না’

এক মাস নিভৃতবাস করে ফের রাজনীতিতে ফেরার ঘোষণা দিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি জানিয়েছেন, রেলওয়েগেট কেলেঙ্কারির ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তে আইনগত ও নৈতিক দিক দিয়ে নির্দোষ প্রমাণ হয়েছেন। এখন থেকে তিনি জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাছে যাবেন। রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন। ৫৫ বছরের রাজনীতির অর্জন ৫৫ সেকেন্ডে শেষ হয়ে যাবে না বলেও তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন। আবারও রেল যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হলে তাতে কোন আপত্তি থাকবে না বলেও জানিয়েছেন। গতকাল সকালে ঝিগাতলার নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এসব কথা বলেন। গত ১৬ই এপ্রিল রেল ভবনে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নবগঠিত রেল যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। ওই দিন তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন তার এপিএসের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় তিনি নির্দোষ প্রমাণ হওয়ার আগ পর্যন্ত রাজনীতি এবং অন্য সব সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে বিরত রাখবেন। এই ঘোষণার ঠিক এক মাস পর রাজনীতিতে ফেরার ঘোষণা দিলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের প্রতি নিজের দুঃখবোধের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমার ৫৫ বছরের রাজনীতির অর্জন ৫৫ সেকেন্ডে শেষ হয়ে যাবে না-আমি ভেবেছিলাম মিডিয়া এই বিষয়টি অনুভব করবে। কিন্তু তা না করে ঢালাও অভিযোগ তুলে আমাকে এবং আমার পরিবারকে হেয় করা হয়েছে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ওই ঘটনার পর আমার পদত্যাগ ছিল এদেশের রাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। পদত্যাগ করে আমি পতাকা নামিয়ে বাসায় ফিরেছিলাম। এরপর আমি দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হলেও পতাকা তুলিনি। কোন সরকারি অফিস, গণতান্ত্রিক সভা, সমাবেশে অংশ নেইনি। তদন্তের স্বার্থেই আমি আমার চরিত্রের বিপরীত থেকে নিভৃতচারী থেকেছি। বিভাগীয় তদন্তে সার্বিক দিক বিচার করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এই তদন্তে ব্যাপক টার্মস অব রেফারেন্স নেয়া হয়েছে। সামগ্রিক ঘটনার তদন্ত হয়েছে। তারা বলেছেন, এই ঘটনায় আমার কোন সম্পৃক্ততা ছিল না। মন্ত্রী হিসেবে আমার কোন সম্পৃক্ততা ছিল না। এটি গণমাধ্যমেও এসেছে। এতে প্রমাণ হয়েছে-আমি নির্দোষ। সংবাদ সম্মেলন শেষ করে পতাকাবাহী গাড়িতে করেই মন্ত্রী সুরঞ্জিত সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ৯ই এপ্রিলের ঘটনাকে ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে দেয়া তার আগের বক্তব্যে এখনও স্থির অবস্থানে আছেন জানিয়ে বলেন, আমি এখনও তাই মনে করি। আর না হলে পৃথিবীর এত জায়গা থাকতে ওই (পিলখানার বিজিবি সদর দপ্তর) জায়গায় ঢুকবে কেন? তবে এনিয়ে আমার সব বলতে হবে কেন? এই দায়িত্ব গণমাধ্যমের। আশা করি অনুসন্ধিৎসু গণমাধ্যম তা খুঁজে বের করবে।
জনগণই তাকে মূল্যায়ন করবে দাবি করে আওয়ামী লীগের এই উপদেষ্টা বলেন, রাজনীতিবিদদের মূল্যায়নের ভার জনগণের হাতে। জনগণই আমাকে মূল্যায়ন করবে। জনগণ সাময়িকভাবে বিভ্রান্ত হলেও আমার বিষয় এখন সবার কাছে পরিষ্কার হয়েছে। মন্ত্রী গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা আমার ড্রয়িং রুম, বেডরুমটি দেখে যান। আমি কেমন জীবনযাপন করি তা-ও দেখে যান। আমি সাত বার এমপি হয়েছি। একবার মন্ত্রী মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলাম। কিন্তু আমি এখনও ৪০ বছর আগের বিয়ের যে খাট পেয়েছিলাম তাতেই ঘুমাই। ঝিগাতলায় যে জমি কিনেছিলাম সেখানেই আছি। মন্ত্রী হয়েও আমি এখানেই থাকছি। এই এলাকার মানুষ দলমত নির্বিশেষে আমাকে ভালবাসে। অনেক সময় অনেক ঘটনা ঘটে। বোমা ফোটে। কিন্তু আমার বাসার সামনে কেউ এ ধরনের কাজ করতে পারে না। গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, আমি ৫৫ বছর যাদের সঙ্গে কাজ করেছি তারা আমাকে নিয়ে কত বিদ্রুপ করলো, কার্টুন করলো। নিউজ ছাপলো। এক সম্পাদক প্রশ্ন তুললেন আমার কলকাতায় কয়টি বাড়ি আছে। আমার খুব কষ্ট হয়েছে। উনি কলকাতার বাড়ি কেন খুঁজলেন? তা না করে যদি লন্ডনে আমার কয়টি বাড়ি আছে তা খুঁজতেন তাহলে খুশি হতাম। আমি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেই তিনি আমার কলকাতার বাড়ি খুঁজেছেন। আমি যদি প্রশ্ন করি লাহোরে উনার কয়টি বাড়ি আছে?
নিজের পদত্যাগের ঘটনাকে ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ইতিহাসের সাক্ষী আপনারাও, আমিও। নিজ বাসার আঙিনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় সুরঞ্জিত উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, আমার ঘরে আপনাদের জায়গা দিতে পারলাম না। সেখানে জায়গা কম। তাই বাইরে বসেছি। তবে আপনাদের ভিতরে নিয়ে যাবো। আপনারা দেখবেন আমি কেমন জীবনযাপন করি। এসময় তার পাশে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন খান ও ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগের একজন নেতা ছাড়া দলীয় কেউ ছিলেন না।
নিজের ছেলে সৌমেন সেনগুপ্তকে নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে তিনি বলেন, সে কানাডায় মাস্টার্স করে এসেছে। অন্যরা বিদেশ যায়। আমি তাকে দেশে নিয়ে এসেছি। সে রাজনীতি করে না, রাজনীতি পছন্দও করে না। সাবেক স্বৈরশাসকের সময় আমাকে যখন জেলে নেয়া হয়েছিল তখন ওর বয়স ছিল ছয় বছর। ওই ঘটনার পর রাজনীতির প্রতি সে বিমুখ। একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সে লাইসেন্স নিয়েছে। একা নয় তার সঙ্গে আরও ২২ জন আছে। কিন্তু একটি পত্রিকায় লেখা হলো সে পাঁচ কোটি টাকায় লাইসেন্স নিয়েছে। পরে অন্যরা এই সংবাদ করেছে। আমার সুনাম নষ্ট করার জন্য, আমার রাজনৈতিক অবস্থানকে নষ্ট করার জন্য এর সঙ্গে আমার পরিবারকে জড়ানো হয়। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের সংবিধানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা আছে। তবে তা যদি কোন ব্যক্তির মানহানির পর্যায়ে যায় সেটি তো উদ্দেশ্যমূলক হবে।
তিনি বলেন, ৫৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে আমার কাছে জনসেবাই ছিল বড়। জনগণ আমাকে নিয়ে কি ভাবে সেটিই আমি ভাবি। জনগণ ভাবে আমি একজন সোজাভাবে কথা বলার লোক, মাথা খাড়া করে কথা বলার লোক।
সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন যারা নীতি-নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেন, ৬৫ সুটকেস নিয়ে যখন বিদেশে গিয়েছিলেন (বিরোধী দলের নেতাকে উদ্দেশ্য করে) তখন প্রশ্ন তোলেনি কেন? সর্বোচ্চ পথে থেকে যখন কালো টাকা সাদা করা হয় তখন কেন প্রশ্ন তোলা হয়নি? এই কারণে একটি দলের সর্বোচ্চ পদে থাকা যাবে না- এই প্রশ্ন কি কেউ তুলেছে?
তিনি বলেন, এই সরকারই শেষ সরকার না। তবে অতীতে কেউ কোনদিন পদত্যাগ করেনি। আমাদের সরকার, শেখ হাসিনার সরকার বলেই তা সম্ভব হয়েছে। আমি আশা করি ভবিষ্যতে যারাই আসবে তারা এই পথই অনুসরণ করবে।
রেলের দু’জন কর্মকর্তা যারা মন্ত্রী থাকা অবস্থায় তার অধীনে ছিলেন তাদের মাধ্যমে তদন্ত কতটা স্বচ্ছ হয়েছে এমন প্রশ্নে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, এর চেয়ে ভাল, সুষ্ঠু তদন্ত কোন ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে এর আগে আর হয়নি। আগের মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেয়া হলে ফিরে যাবেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার কাজ আমি করেছি। এটি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব। তিনি সরকারের প্রধান এবং জোট নেত্রী। তিনি যা করেন সেটিই মেনে নেবো। আমি সিলেট থেকে এসে তার সঙ্গে দেখা করবো।
ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় দেশের সব রাজনীতিবিদ মর্মাহত
সিলেট অফিস জানায়, ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় দেশের সব রাজনীতিবিদ মর্মাহত উল্লেখ করে মন্ত্রী ও সিনিয়র রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, আমরা চাই ইলিয়াস সশরীরের জনতার মধ্যে ফিরে আসুক। এ সময় তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় কিছু কিছু গুমের ঘটনা ঘটেছে। আর ইদানীংকালে কয়েকটি গুমের ঘটনা ঘটে গেলো। তিনি বলেন, সাগর-রুনি হত্যা নিখুঁত হাতের নিখুঁত খুন। আলামত বলে দিচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যা। তিনি গতকাল বিকালে সিলেটের রেজিস্ট্রারি ময়দানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আওয়ামী লীগ নেতা ইফতেখার হোসেন শামীমের নাগরিক শোক সভায় ভাষণ দানকালে সিলেটের সব দলের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে কিছু দিন আগে যে ষড়যন্ত্র, সাগর-রুনি হত্যা এবং ইলিয়াস গুমের ঘটনায় একটি কালো হাতের ছায়া রয়েছে। প্রত্যেকটি ঘটনা দুটি দলের মধ্যে সহিংসতা বাড়ানোর জন্যই করা হচ্ছে- যারা গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করতে চায়। তাই সহিংসতায় না গিয়ে এ মুহূর্তে দুটি রাজনৈতিক দলের সংলাপ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তিনটি উক্তি ব্যবহার করে তিনি বলেন, শামীমের মৃত্যু সিলেটবাসী তথা বাংলাদেশের মানুষের কাছে পর্বতের মতো। সিলেটের রাজনীতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হলো। শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ৩০টি বছর শামীম দলের হাল ধরেছে। আমাকে ১২ বছর আগে রাজনীতিতে গ্রহণ করেছে সে। আওয়ামী লীগের সব নির্বাচন ৩০টি বছরই শামীম পরিচালনা করেছে। আমার দেখা ১২টি বছর সে দলকে নিবিড়ভাবে ধরে রেখেছে। শামীমের পিতা আমার পিতার সহকর্মী ছিলেন। শামীম চলে যাওয়ার শূন্যতা কোন দিনই পূরণ হবে না। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য কঠোর আইন এমনকি ফাঁসির আইন করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। আর কোন মহাসড়ক নয়। সরকার চাইছে দুটি লেনের সড়ককে চার লেনে এবং চার লেনের সড়ককে ৬ লেনে করতে। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের সভাপতিত্বে শোকসভায় বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল হক হানিফ, সিলেট-২ আসনের এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ,  সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. সালেহ উদ্দিন, সিলেটের জেলা প্রশাসক খান মো. বিলাল, ন্যাপের সভাপতি আবদুল হান্নান, জাসদের সভাপতি কলন্দর আলী, জাতীয় পার্টির জেলা সম্পাদক ইশরাকুল হক শামীম প্রমুখ।
কোর্ট পয়েন্টকে শামীম চত্বর করা হবে, ঘোষণা মেয়রের: জীবিত থাকাকালে একদিন মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও ইফতেখার হোসেন শামীম বসে গল্প করছিলেন। এমন সময় ইফতেখার হোসেন শামীম বলেন, কে কখন মরবো- জানি না। যদি আমি আগে মরি তবে আমাকে কোর্ট পয়েন্টের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখবেন। অর্থাৎ সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে যেন তার নামে কিছু করা হয়। তখন মেয়র বলেছিলেন, আমি আপ্রাণ চেষ্টা করব। গতকাল শামীমের শোকসভায় কেঁদে কেঁদে মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এ কথা বলেন। এ সময় তিনি সবার কাছ থেকে শামীমের নামে কিছু করার মতামত নেন। এ সময় সবাই তাকে মতামত দেন। মেয়র কামরান বলেন, পরে আমরা সিদ্বান্ত নিয়ে কিছু করার উদ্যোগ নেব।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


2 Responses to ‘৫৫ বছরের অর্জন ৫৫ সেকেন্ডে শেষ হয়ে যাবে না’

  1. neaz

    May 18, 2012 at 12:26 am

    hi sur babu… ebar 70X2 lac sara r kono kaj korbay na….ei baba 70X3 lac 70X4 lac solbay…ha..ha…
    tir abar pira gelo…

  2. neaz

    May 18, 2012 at 12:29 am

    langtar orjon 55 scd keno 55 bosoray o jai na..