Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বৃটেনে পতিতাপল্লী চালানোর দায়ে আজাদ মিয়া দণ্ডিত

বৃটেনে পতিতাপল্লী চালানো ও কিশোরীদের যৌনকর্মী হতে উস্কানি দেয়ার দায়ে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আজাদ মিয়ার ১৫ বছর  জেল হয়েছে। তিনি ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সের আরও চার কিশোরীকে তার পরিচালিত যৌনপল্লীতে নিয়োগ দেয়ার সময় তার অপকর্ম ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। তিনি দুই বালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের বিনিময়ে অর্থ পরিশোধ করেছিলেন বলেও আদালত প্রমাণ পান এবং এজন্য তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আজাদ চার সন্তান নিয়ে বিবাহিত জীবনযাপন করছিলেন। আজাদ মিয়া (৪৪) বৃটেনের কার্লিচেল স্পাইস অব ইন্ডিয়া নামে একটি হোটেল চালাতেন। এর উপরে তিনি তার যৌনপল্লী বসিয়েছিলেন। কার্লিচেল এলাকাটি স্কটল্যান্ড ও লেক জেলার মধ্যবর্তী স্থান বোচারগেটে অবস্থিত। লন্ডনের গোয়েন্দা ক্রিস্টি রবার্টসন আজাদ মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। তার কথায়, তার পেশাগত জীবনের সম্ভবত সবচেয়ে নিকৃষ্ট যৌন অপরাধের ঘটনা এটি। কার্লিচেল ক্রাউন কোর্টে এই তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে শুনানি চলার পরে ১৫ই মে ওই রায় ঘোষিত হয়। বিচারক পিটার হফ (কুইন্স কাউন্সেল) বৃটেনের নগরগুলোর অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়। তিনি বলেন, শিশুদের সুরক্ষার জন্য সরকারকে আরও অনেক পদক্ষেপ নিতে হবে। এই ঘটনা থেকে আমাদের সকলের শিক্ষা নেয়ার আছে। বাবা-মাকে শিক্ষা নিতে হবে যে, বাচ্চাদের মানুষ করার দায়-দায়িত্ব আসলে কার বা কাদের ওপর বর্তায়। কুম্বরিয়া পুলিশ বিভাগের গোয়েন্দা পরিদর্শক জিওফ হ্যাডেলস্টোন বলেন, জঘন্য অপরাধ সংঘটনের জন্য আজাদ মিয়া দণ্ডিত হয়েছেন। শুনানিকালে তথ্য প্রকাশ পায় যে, ১৫ বছরের এক কিশোরীকে শুধু টাকার লোভ দেখিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে উৎসাহিত করা হয়। একই সময়ে আজাদ মিয়া আরও এক তরুণীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে। ওই তরুণীটির বয়স ছিল তখন ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। সে ছিল হেরোইন আসক্ত। জুরিরা আরও শুনতে পান যে, বাংলাদেশী নাগরিকটি ঠাণ্ডা মাথায় সুপরিকল্পিতভাবে এই যৌন অপরাধগুলো করেছিলেন। ২০০৮ সালে আজাদ মিয়া এক কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করার পরে সে পুলিশের কাছে তার বিরুদ্ধে তিনবার নালিশ করেছিল। এ ঘটনা ঘটে আজাদকে পুলিশের আটকের তিন বছর আগে। এক নারী আদালতে বলেন, তার বয়স যখন ১৪ তখন থেকে যৌনতার জন্য আজাদ মিয়া তাকে অর্থ সরবরাহ শুরু করে। ১৮ বছর বয়সের আরেক তরুণী আদালতে বলেন, তার বয়স যখন ১৫ তখন থেকে আজাদ তাকে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে প্ররোচনা দিতে শুরু করে। এক পর্যায়ে সে জানতে পারে যে, আজাদ মিয়া তার মা ও নানীকেও তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ার প্রস্তাব দিচ্ছে। একদিন সে তার মায়ের সঙ্গে আজাদের টেলিফোন আলাপও শুনতে পায়। আজাদ তার মাকে বিনে পয়সায় একটি কাবাবের বিনিময়ে দেহ বিক্রির প্রস্তাব দেয়। তার নানীর বয়স ৬০ বছর। আজাদ তাকেও উত্ত্যক্ত করতে ছাড়েনি। এই তরুণী বলেছে, এসব ঘটনার বিষয়ে তিনি ও তার পরিবার একাধিকবার পুলিশকে জানালেও কোন ফল মেলেনি। আজাদ মিয়ার আইনজীবীরা আদালতে বলেন, এসব অভিযোগের স্বপক্ষে কোন প্রমাণ নেই। পুলিশের রেকর্ডেও কিছু মিলবে না। তবে আদালতকে বলা হয়েছে, ওই রেস্তরাঁয় কর্মরত বাংলাদেশীরা আজাদের কু-কর্মের দোসর ছিল। ২০০৬ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে একটি শিশুকে যৌন কাজে ব্যবহারের জন্য আজাদ মিয়াকে ৯ বছর, ২০০৫ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে একটি পতিতালয় পরিচালনার জন্য এক বছর এবং শিশুদের বেশ্যাবৃত্তিতে টেনে আনার অপপ্রয়াস চালানোর দায়ে পাঁচ বছর জেল দেয়া হয়। তবে অপর দুই কিশোরীকে ফুসলানোর একটি দায় থেকে তাকে রেহাই দেয়া হয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট