Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

রেলওয়েগেট কেলেঙ্কারি অসম্পূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন

আশরাফ খান: দায়সারা রিপোর্ট দিয়েছে তদন্ত কমিটি। রেলমন্ত্রীকে অর্থ কেলেঙ্কারির দায় থেকে মুক্তি দিয়েছে। বস্তাভর্তি টাকা নিয়ে মন্ত্রীর বাসার উদ্দেশে যাওয়ার ব্যাপারটি নিশ্চিত হয়েছে কমিটি। এই টাকা যে অবৈধ উপায়ে অর্জিত সে সন্দেহও তারা লিখিতভাবে প্রকাশ করেছেন। তবে এ অর্থ নিয়োগ বাণিজ্যের কিনা তদন্ত করার দায়িত্ব চাপিয়েছে দুদক-এর কাঁধে। রেলওয়েগেট কেলেঙ্কারির তদন্ত প্রতিবেদন গতকাল রোববার রেলপথ সচিবের কাছে জমা দিয়েছে কমিটি। রেলওয়েগেট কেলেঙ্কারি ফাঁসের মূল হোতা ড্রাইভার আলী আজমের জবানবন্দি ছাড়া এই প্রতিবেদন অসম্পূর্ণ রয়ে গেল। কমিটি তার প্রতিবেদনে বলেছে, রেলওয়েগেট কেলেঙ্কারির সঙ্গে মন্ত্রীর সংশ্লিষ্টতা তারা খুঁজে পাননি। জবানবন্দি, জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে তারা এ ব্যাপারে কোন তথ্যপ্রমাণ পাননি। মন্ত্রীর অনুমতি ছাড়া, তিনি ঘুমিয়ে আছেন জেনেও রেলের পূর্বাঞ্চলের জিএম ও কমান্ড্যান্টের এত রাতে ৭০ লাখ টাকাবাহী গাড়িতে করে মন্ত্রীর বাসায় যাওয়ার ঘটনাকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিটি। এ জন্য সরকারি কর্মচারী আপিল শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করার সুপারিশ করেছে। বরখাস্তকৃত এপিএস ওমর ফারুকের দাবি অনুযায়ী গাড়িতে থাকা ৭০ লাখ টাকার উৎস সম্পর্কে ফারুক যে তথ্য দিয়েছে কমিটি তাতে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছে। তার দাবির সঠিকতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য কমিটি দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ করেছে। তদন্ত কমিটি সূত্রে এসব খবর জানা গেছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আবু তাহের গতকাল রোববার সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনা রেলমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র বলে তাদের কাছে মনে হয়নি। তবে ঘটনাটি অস্বাভাবিক।
এদিকে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও কিছু অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্টদের লিখিত জবানবন্দি ও জিজ্ঞাসাবাদেও অসঙ্গতি রয়েছে। ফারুকের ভাষ্য অনুযায়ী ৭০ লাখ টাকা তার এবং ঘটনার পরদিনই তিনি ব্যাংকে তার একাউন্টে তা জমা দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে আগের রাতে এত বড় অঙ্কের টাকা গাড়িতে করে মন্ত্রীর বাড়ি যাওয়ার প্রয়োজন হলো কেন? কার জন্য তারা এ টাকা বয়ে নিচ্ছিলেন? এ প্রশ্ন কমিটি ফারুককে করেনি। তদন্ত প্রতিবেদনেও তা নেই। মন্ত্রী ঘুমিয়ে আছেন জেনেও তিনি দুই কর্মকর্তাকে সঙ্গী করে কার সঙ্গে, কি উদ্দেশে দেখা করার জন্য মন্ত্রীর বাড়ি যাচ্ছিলেন- কমিটি এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখেনি। কমিটি সূত্রে বলা হয়েছে, ফারুক লিখিত জবানবন্দিতে দাবি করেছেন, শ্যালকের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা ধার নিয়েছেন। স্বর্ণ বিক্রি করে পেয়েছেন ২০ লাখ টাকা। বাকি টাকাও তিনি ধার করেছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দিয়েছেন ফারুক। পূর্বাঞ্চলীয় রেলের জিএম ইউসুফ আলী মৃধা লিখিতভাবে জানিয়েছেন, শায়েস্তাগঞ্জ রেল লাইন চালু করার কর্মসূচি নির্ধারণের জন্য তিনি এপিএসকে সঙ্গে নিয়ে মন্ত্রীর বাড়ি যাচ্ছিলেন। অফিস সময়ে না গিয়ে রাতে, তা-ও মন্ত্রী ঘুমিয়ে আছেন জেনেও কেন গেলেন- কমিটির এই জিজ্ঞাসার সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি তিনি। রেল পুলিশের অস্ত্রধারী কমান্ড্যান্ট এনামুল হককে নিরাপত্তার জন্য সঙ্গে নেয়া হয় কিনা সে প্রশ্নের জবাব দেননি জিএম। এ অর্থ নিয়োগ বাণিজ্যের কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি তা স্বীকার করেননি।
৯ই এপ্রিল ঘটনার রাতে দায়িত্বরত সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল ইসমাইল, দু’জন গার্ড কমান্ডারসহ চারজন সদস্য তদন্ত কমিটির কাছে লিখিত জবানবন্দি দিয়েছেন। বিজিবি’র ডিজির সঙ্গেও কথা বলেন তারা। তিনবার তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গাড়িতে সংসদের স্টিকার ছিল বলে বিজিবি সদস্যরা গাড়িটি ভিতরে ঢুকতে বাধা দেননি বলে জানান। গাড়িতে চিৎকার, হৈচৈ শুনে তারা সেখানে যান। গাড়িতে অবৈধ ‘৩০ লাখ’ টাকা রয়েছে বলে তারা শুনতে পেয়েছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে ও লিখিত জবানবন্দিতে জানান। অবৈধ টাকা জেনেও ব্যাগ চেক করেননি কেন এ জিজ্ঞাসার জবাবে তারা বলেন, অবৈধ অস্ত্র ছাড়া অন্য কিছু চেক করা তাদের এখতিয়ারবহির্ভূত। ফারুক ব্যাগে থাকা টাকা তার ব্যক্তিগত বলে দাবি করেন। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তারা তাদের আটকে রাখেননি। গেটে বসতে দেন। পুলিশে সোপর্দ করেননি কেন জানতে চাইলে বলেন, পুলিশে দেয়ার মতো কোন অপরাধ তারা সংঘটিত করেননি। ঘটনা ধরা পড়ার পর সরকারের উচ্চতর পর্যায় থেকে বিজিবি’র ডিজিকে ফোন করা হয়েছিল কিনা কমিটি সে প্রশ্নও করেনি। কমিটি সূত্রে জানা যায়, ৭০ লাখ টাকা যে ফারুকের তার পক্ষে দালিলিক তথ্যপ্রমাণ তিনি দিয়েছেন। তবে তার এ দাবি সম্পর্কে কমিটির সন্দেহ রয়েছে। এই অর্থ নিয়োগ বাণিজ্যের বা অন্য কোন দুর্নীতির কিনা দুদক, এনবিআরকে তার তদন্ত করতে বলেছেন। ডিজি বলেন, এই টাকার সঙ্গে রেলের দুই কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনায় মোট ১৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কমিটি প্রধান আবু তাহের বলেন, গাড়ির চালক আলী আজম ছাড়া অন্য সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই আজম পলাতক রয়েছেন। তিনি বলেন, ড্রাইভারকে উপস্থিত হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। বাড়ির ঠিকানায় চিঠি দেয়া হয়েছে। তিনি আসেননি। আলী আজমের বক্তব্য ছাড়াও কমিটি সঠিকভাবে প্রতিবেদন তৈরি করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
রেলের ডিজির নেতৃত্বে গত ১১ই এপ্রিল তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দুই সদস্যের এই কমিটির সদস্য হলেন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শশী কুমার সিংহ। ২০ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা। এক দফায় ৫ দিন সময় বাড়ানো হয়। কমিটি গতকাল রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফজলে কবিরের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। নিয়োগ বাণিজ্য, নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি বিষয়ে তদন্ত করার জন্য রেলের দু’টি পৃথক তদন্ত কমিটি কাজ করছে। এই ঘটনায় জিএম ইউসুফ আলী মৃধা ও কমান্ড্যান্ট এনামুল হককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। চাকরিচ্যুত হন এপিএস ওমর ফারুক তালুকদার। সকল দায় নিজের কাঁধে নিয়ে রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পদত্যাগ করেন। পরে অবশ্য তাকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট