Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ঢাকায় হিলারি’র খোঁপা না বাঁধা নিয়ে মার্কিন মিডিয়ায় ঝড়

 ‘যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে,’ আমেরিকার আমজনতা নিশ্চয়ই গ্রামবাংলার এই বিখ্যাত প্রবচন জানেন না। কিন্তু তাদের কেউ কেউ এখন হিলারি ক্লিনটনকে লক্ষ্য করে আক্ষরিক অর্থেই তাই বলতে চাইছেন। তারা তাদের প্রিয় নেত্রীকে দু’চার কথা ইতিমধ্যেই শুনিয়ে দিতে ছাড়েননি। বাংলাদেশে এসে হিলারি ক্লিনটন চুল বাঁধেননি, খোলাচুলে তাকে সরকারি অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। এতে মার্কিনি প্রটোকল ক্ষুণ্ন হয়েছে! এই অভিযোগে মার্কিন মিডিয়ায় গত সপ্তাহ ধরে এক অভাবনীয় অথচ অম্লমধুর ধুন্দুমার তর্ক চলছে।
ঢাকায়ও যদিও হিলারিকে নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। তিনি চলে গেলেও তার রেশ মিলায়নি। কেউ বলছেন, হিলারি শুধু আমাদের চুলোচুলির রাজনীতির গিঁট খুলতে এসেছিলেন। কেউ বলছেন, নিজেদের স্বার্থের বাইরে তারা এক চুল নড়ে না। তবে বাংলাদেশের মানুষ তেমন জানতে পারছেন না যে, হিলারি নিজের চুল নিয়েই ভারি এক ফাঁপরে পড়েছেন। আমেরিকা প্রবাসী বাঙালিদের কেউ কেউ হয়তো বনলতা সেনকে মিস করছেন। তাদের মনে হয়তো প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে, হিলারির খোলা চুল নিয়ে মার্কিনিদের এই অসাধারণ চুলোচুলি দেখে ‘চুল তার কবেকার বিদিশার নিশা’-র দেশে এসে হিলারি কি তবে আপনভোলা হয়ে উঠেছিলেন ?
ঢাকায় তোলা খোলা চুলের হিলারির একটি আলোকচিত্র রয়েছে আলোচনা-সমালোচনার  কেন্দ্রবিন্দুতে। এ নিয়ে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন মিডিয়া রীতিমতো ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের মতো প্রভাবশালী পত্রিকার ভাষায়, হিলারিকে স্কুল বালিকার মতো লেগেছে। ‘দি আটলান্টিক’ অবশ্য অনুমোদন করেছে। জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল ফক্স নিউজ বলেছে, ‘ক্লান্ত ও পলায়নপর হিলারি।’ মার্কিনি ফ্যাশন সচেতনরা হিলারির ‘সাধারণ মেয়ে’ হয়ে ওঠাকে মানতে পারছেন না। তাদের যুক্তি বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী নারী, যে কিনা এমনকি ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন, তিনি কেন ক্ষণকালের জন্য হলেও আনুষ্ঠানিকতার ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে আসবেন? কেন তিনি খোলা চুলে বাইরে আসবেন? তবে গত কয়েক দিনের টানা বিতর্কের পরে হিলারির খোলা চুলে সাধারণ মেয়ের বেশকে জোরালো সমর্থন দিয়েছেন ব্রিস্টল পলিন। ২১ বছর বয়সী ব্রিস্টল আমেরিকার এক টিন হার্টথ্রব সেলিব্রিটি। ১৮ বছর বয়সে ‘সিঙ্গেল মাদার’ হওয়ার পর থেকে তিনি তরুণীদের আগাম গর্ভপাতের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছেন।  আলাস্কার সাবেক গভর্নর ও জন ম্যাককেইনের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী হওয়া খ্যাতিমান রিপাবলিকান নেত্রী সারাহ পলিনের জ্যেষ্ঠ কন্যা। ব্রিস্টল পলিন এই বয়সে আত্মজীবনী লিখে হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন। তার সেই বই এমনকি নিউ ইয়র্ক টাইমসের বেস্ট সেলার হয়েছে। শুক্রবার ব্রিস্টল তার ব্লগে বারাক ওবামার ব্লগে বিবাহের উদ্যোগের সমালোচনা করলেও হিলারি ক্লিনটনের মেকআপ না নেয়ার অবস্থানকে সমর্থন করেছেন।  লস এঞ্জেলস টাইমস ১১ই মে খোলা চুলের ব্রিস্টলের একটি বড় ছবি ছেপেছে।
ব্যক্তিগত ব্লগে ব্রিস্টল পলিন লিখেছেন, হিলারির সাধারণ সাজ আমার ভালই লেগেছে। বরং তিনি যে তার ধারেকাছে একজন মেকআপ আর্টিস্ট রাখেননি এবং নিজের যেমন ত্বক তেমনটা নিয়ে সন্তুষ্ট থেকেছেন সেজন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই। ব্লগে তিনি তার মা রিপাবলিকান দলীয় তারকা রাজনীতিক সারাহ পলিনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, মম ৯০ ভাগ সময় মেকআপ ছাড়াই কাটান।
উল্লেখ্য, ঢাকায় হিলারির ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের ঝটিকা সফরে সাধারণ সাজে তাকে দেখা গিয়েছিল। সেদিন তার চোখে ফ্যাশনদুরস্ত গগলস ছিল না। চোখে ছিল কালো রঙের সাধারণ ফ্রেমের একটি আটপৌরে চশমা। মেকআপ নেননি, ছিলেন নিরাভরণ, এমনকি লিপস্টিকের ছোঁয়াতেও ছিল রক্ষণশীলতা। এ রকম একটি আলোকচিত্রের নিচে শিরোনাম: ‘হিলারি ক্লিনটন: অঁ ন্যাচারাল।’ সেই আলোকচিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়তেই নজর কাড়ে মার্কিনি ফ্যাশনিস্টদের। এর তরঙ্গ শুধু যে মার্কিন মুল্লুকেই সীমাবদ্ধ থেকেছে তা  কিন্তু নয়। আটলান্টিকের অপর পাড়ের বৃটেনকেও হিলারির সাধারণ সাজ তরঙ্গায়িত করেছে।
ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার ছয় দিন পরে গত ১০ই মে বৃটেনের প্রভাবশালী দৈনিক টেলিগ্রাফে লস অ্যানজেলেস থেকে হিলারির রূপ অসচেতনতা নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। অ্যামি উইলিস লিখেছেন, হিলারির সাধারণ সাজ দেখে ফ্যাশন পণ্ডিতরা তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেন যে, তিনি ‘ক্লান্ত ও নিজকে প্রত্যাহার’ করে নিয়েছেন। মিসেস ক্লিনটন যিনি গত নভেম্বরে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তিনি আমেরিকার রাজনীতিতে তার নিজের অবস্থানকে গুটিয়ে নিতে আগ্রহী। তিনি গত ৭ই মে সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তার সমালোচকদের জবাব দিয়েছেন। হিলারি বলেছেন, ‘আপনি একটা জিনিস সহজে বুঝতে পারবেন যে, মানুষের জীবনে এমন মুহূর্ত কখনও  আসে যখন এসব বিষয় এমন কিছু নয় যার দিকে যথেষ্ট সময় ও মনোযোগ দেয়া জরুরি বলে প্রতীয়মান হতে পারে।’ হিলারি স্পষ্টতই ইঙ্গিত করেন যে, সাজসজ্জার বাহার এমন কোন বিষয় নয় যা থেকে মনোযোগ সরালে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে।
গত ৯ই মে মার্কিন টিভি নেটওয়ার্ক এবিসি নিউজের শিরোনাম হিলারি ক্লিনটন, ‘অঁ ন্যাচারাল: ক্লিনটন হিটস ব্যাক অ্যাট ক্রিটিকস।’ তিনি লিখেছেন, ‘এশিয়া সফরে গিয়ে হিলারি অনেক বড় বড় হরফের শিরোনামে পরিণত হয়েছেন। একজন চীনা অন্ধ ভিন্নমতাবলম্বীকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের পুরো কূটনৈতিক যুদ্ধাবস্থা উতরিয়েছেন তিনি। ভারতে গিয়ে তিনি ইরান থেকে তেল আমদানি কমাতে ভারতকে রাজি করাতে সচেষ্ট হয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় গিয়ে সাধারণ সাজ পরেছিলেন। আসলে সিএনএন এর জিল দোহার্টি তাকে এ নিয়ে প্রশ্ন করেন। তখন হিলারি ক্লিনটন বলেন, ‘আমি আমার জীবনের এই পর্যায়ে এসে নিজকে ভারমুক্ত মনে হচ্ছে। একটা স্বস্তি পাচ্ছি। জিল, শুনুন, আমার যখন ইচ্ছা হবে, তখন আমি আমার চশমাটা (ফ্যাশনবেল) পরবো। ভাল না লাগলে পরবো না। আমার যখন ইচ্ছে হবে তখন আমি আমার চুল বাঁধবো, আর যখন ইচ্ছা করবে না তখন আমি তা খোলা রাখবো।’ ডানা হাফস লিখেছেন, আমাদের সাবেক ফার্স্ট লেডি, সাবেক সিনেটর এবং বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী কতটা কি ফ্যাশন সচেতন সেটা নিয়ে যে বিতর্ক চলছিল, তাতে খোলা চুলে তার বাংলাদেশ সফর হলো সর্বশেষ দৃষ্টান্ত। ২০০৮ সালে হিলারির ছোট চুল ও স্যুটপ্যান্ট ছিল আলোচনার বিষয়।
ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটর পত্রিকায় স্টিফানি হ্যান্স-এর গত ১০ই মে’তে লেখার শিরোনাম: ‘হিলারি ক্লিনটন অঁ ন্যাচারাল ইজ নো কেট মিডলটন ইজ দ্যাট ওকে? কেট মিডলটন হলেন বৃটিশ রাজ সিংহাসনের উত্তরাধিকার প্রিন্স  উইলিয়ামের স্ত্রী। কেট মিডলটন একজন অনবদ্য ফ্যাশনদুরস্ত নারী হিসেবে বৃটেনের সর্বমহলে নন্দিত। রানী এলিজাবেথের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হয়েও কেট অনেক সময় তার সাধারণ সাজসজ্জার জন্য জনগণের নজর কেড়েছেন। এখন যুক্তরাষ্ট্রের পত্রিকায় হিলারিকে কেট মিডলটনের সঙ্গে তুলনা করে স্টিফানি নিবন্ধ লিখেছেন, সাধারণ সাজের হিলারি ক্লিনটন কেট মিডলটন নন। কিন্তু সেটা কি ঠিক আছে? তিনি লিখেছেন, প্লেনে চড়ে আমি ওয়াশরুমে গিয়ে যখন টুথব্রাশটা হাতে পাই, তখন আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি। হিলারি ক্লিনটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ৯৬টি দেশে  এ পর্যন্ত  প্রায় সতের শ’ ঘণ্টায় পৌনে আট লাখের বেশি মাইল পাড়ি দিয়েছেন। আমি তো বলবো, একজন নারী এরপরেও তার লিপস্টিক খুঁজে পান!

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


2 Responses to ঢাকায় হিলারি’র খোঁপা না বাঁধা নিয়ে মার্কিন মিডিয়ায় ঝড়

  1. khub gorom lagsilo mone hoi.....a jonno sodhu chul khola rakchilo... khola rekhechilo... sujog thakle ooonno kisu............ its very hot man.............!

    May 14, 2012 at 6:58 pm

    khub gorom lagsilo mone hoi…..a jonno sodhu chul khokhola rakchilo… khola rekhechilo… sujog thakle ooonno kisu………… its very hot man………….!

  2. motiur rahman shamim

    May 14, 2012 at 7:05 pm

    khub gorom lagsilo mone hoi…..a jonno sodhu chul khola rakchilo… khola rekhechilo… sujog thakle ooonno kisu………… its very hot man………….!