Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

রাজধানীতে ছিনতাইয়ের মহোৎসব

ঢাকা, ১১ মে: রাজধানীতে ছিনতাইয়ের মহোৎসব চলছে। দিনেরাতে সমান তালে হচ্ছে ছিনতাই। প্রতিদিন অসংখ্য ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও একটিরও কূল-কিনার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি একই স্থানে একইভাবে বার বার এ ঘটনা ঘটার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কোনো ঘটনায়ই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার বা খোয়া যাওয়া টাকা বা অন্যান্য মূল্যবান জিনিস উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। অনুসন্ধানে এর সঙ্গে পুলিশ, ব্যাংকের লোকজন ও সরকারি দলের পরিচয়ে কিছু লোকজনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, দিনের বেলা বিভিন্ন ব্যাংকে টাকা জমারাখা বা উত্তোলনের পর এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। গত সাত দিনে যাত্রাবাড়ী এলাকায় এ রকম চারটি ঘটনা ঘটে। বুধবার দুপুরে যাত্রাবাড়ীর মিরহাজীরবাগ এলাকায় জামাল এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. জামালের  (৪৫) পায়ে গুলি করে চার লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনতাই হয়। তিনি  স্থানীয় ইসলামী ব্যাংকে টাকা জমা যাচ্ছিলেন। নতুন রাস্তার কাছে আসলে দুটি মোটরসাইকেল যোগে ৪/৫ জন ছিনতাইকারী তার বাম পায়ে গুলি করে টাকার ব্যগটি ছিনিয়ে নেয়।

অপরদিকে গত সোমবার দুপুরে একই এলাকার শহীদ ওমর ফারুক সড়কে আবুল হোসেনের (৩৫) ডান পায়ে গুলি করে ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারিরা। তিনি স্থানীয় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী। ঢাকা নিয়ে ব্যাংকে যাওয়ার সময় ছিনতাইকারীরা এলোপাথাড়ি গুলি করে এ ঘটনা ঘটায়।

এদিকে, গত মঙ্গলবার দুপুরে নিউমার্কেট থানা এলাকার এ্যলিফ্যান্ট রোডের ইস্টার্ন মল্লিকার সামনে ব্রাক ব্যংক থেকে আড়াই লাখ টাকা তুলে নীলক্ষেত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসছিলেন দুই ব্যবসায়ী। গাউসিয়া মার্কেটের সামনে আসার পর একটি সাদা রঙয়ের মাইক্রোবাস থেকে নেমে ৭/৮ যুবক নিজেদের ডিবি পরিচয় দিয়ে তাদের গাড়িতে তুলে নেয়ার চেষ্টা চালালে তারা বাধা দেন। এক পর্যায় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এর মধ্যে টাকাসহ একজনকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। অন্যজনকে মেরে সেখানে ফেলে রেখে যায় তারা। তাদের হাতে ইয়কিটকি ও মাইক্রোবাসে ডিবি লেখা থাকায় লোকজন তাদের রক্ষায় আসেনি। এমনকি টহল পুলিশও দর্শকের ভূমিকা পালন করে। গাড়িতে তুলে নেয়া ব্যবসায়ীকে চোখ বেধে খিলগাঁও এলাকায় ফেলে রেখে যায়। থানায় গিয়ে অভিযোগ জানানোর পর তারা বিষয়টি দেখবে বলে জানান। ওই ব্যংকটির ম্যনেজারের কাছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। একই এলাকায় এর আগে ব্যংক থেকে টাকা নিয়ে বের হওয়ার পর পৃথক ঘটনায় ২৩ লাখ ও ১৮ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ একজনকে অটক করা হলেও পরে বিষয়গুলো ধামাচাপা পড়ে যায়।

রাতের বেলা ছিনতাইয়ের কৌশল ভিন্ন। এসময় প্রাইভেটকার বা মোটরসাইকেলে থাকা ছিনতাইকারীরা রিকশারোহীদের হাত থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। আর পথচারীদের অস্ত্র ঠেকিয়ে সঙ্গে থাকা সব কিছু ছিনিয়ে নেয়।

কাকরাইল-শান্তিনগর-মৌচাক-রাজারবাগ এলাকায় গত ১৫ দিনে নয়টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। শান্তিনগর পাঞ্জেরী পাবলিকেশনস’র এক কর্মকর্তা রাত ৯টার দিকে হেটে পুরারা পল্টনের বাসায় আসছিলেন। হঠাৎ দুই যুবক এসে তাকে বলে, ‘‘ ভাই, আমি রাজা, আমাকে চিনতে পারছেন না।’’

একথা বলে একটু পাশে নিয়ে অস্ত্রের মুখে আটকে সঙ্গে থাকা টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়।

রাত ১০টার দিকে কাকরাইলের এসএ পরিবহনের অপর পাশ থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী বিপ্লব মালিবাগের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় এক যুবক এসে হাসি মুখে বলে, ‘‘ভাই কেমন আছেন। আপনি এসএ পরিবহনে চাকরি করেন না।’’ তিনি না বললে ওই লোক বলে, ‘‘ না আপনি এসএ পরিবহনে চাকুরি করেন। একটু দুরে ৩/৪ জন লোক দেখিয়ে বলে, ওখানে রাজা ভাই আছে। সে আপনাকে ডাকছে। সেখানে গেলে তাকে সবাই তাকে ঘিরে ধরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সঙ্গে থাকা ল্যাপটপ, মোবাইলফোন ও টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

একই এলাকায় প্রতিদিনই নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল দিয়ে রিকশারোহীদের ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, সন্ধ্যার পর পরই হাবিবুল্লা বাহার কলেজের সামনে বেইলিরোড-শান্তিনগর মোড়-মৌচাক মার্কেটের সামনেসহ এই এলাকায় নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেড়ে যায়। সরকারি দলের বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মী পরিচয় দেয়ায় এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না পুলিশ। একই সঙ্গে এই অভিযোগও প্রবল যে এদের সঙ্গে পুলিশও সরাসরি জড়িত।

এদিকে ছিনতাইকারীদের সঙ্গে পুলিশের এক শ্রেণীর সদস্যদের যোগাযোগ আছে বলে জানিয়েছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। এর সঙ্গে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও সরকার দলীয় সংগঠনের কর্মীরাও জড়িত রয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র আরো জানায়, ফকিরেরপুল, কদমতলী, ফার্মগেট, মহাখালী ও গুলিস্তান এলাকায় ছিনতাই হওয়া এ সব মোবাইল ও ল্যপটপ বিক্রির হাট বসে। এসব স্পট থেকে মোটা অংকের টাকা পায় পুলিশ। তাছাড়া ইন্টারনেটের মাধ্যমেও বিক্রি হয় এসব পণ্য।

একজন ভুক্তভোগী বললেন, পুলিশ যে ছিনতাই-চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকে তা পুরনো খবর। নতুন খবর হলো, পুলিশ কোনো ছিনতাইকারীকে ধরবে না-এটা এখন তারা সিদ্ধান্তই নিয়েছে।

ছিনতাইয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ শাখার উপপুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমান আগের তুলনায় কী সংখ্যক ছিনতাই বেড়েছে সে পরিসংখ্যানটি বার্তা২৪ ডটনেট’র কাছেই জানতে চান। এতেই স্পষ্ট হয়ে যায় এ বিষয়ে পুলিশের কোনো আগ্রহ নেই। গত সাতদিনের পরিসংখ্যান জানালে তিনি বলেন, ‘‘ব্যাংক থেকে বলেন টাকা বেশি টাকা লেনদেনের জন্য পুলিশের সহায়তা নিলে এ জাতীয় ঘটনা অনেকাংশে কমতো।” এরপর তার গৎবাঁধা গতানুগতিক জবাব, “ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।”

রাতে নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেলে ছিনতাইয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘নম্বরপ্লেট বিহীন মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। অনেক সময় অনেক প্রভাবশালীরা এ কাজটি করেন।” তিনি এর জন্য পুলিশের তৎপরতার চেয়ে জনগনের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়ার নসিহত করেছেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট