Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

অধিকার-এর অনুসন্ধান, র‌্যাব-ডিবি পরিচয়ে ইবির দু’ছাত্রকে তুলে নিয়ে গেছে

 র‌্যাব ও ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর গুম হয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’শিক্ষার্থী আল মুকাদ্দাস (২২) ও ওয়ালিউল্লাহ (২৩)। গতকাল মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। অধিকার জানায়, ৫ই ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১টায় ঢাকা জেলার সাভার থানার নবীনগর এলাকা থেকে র‌্যাব-৪ ও ডিবি পুলিশ সদস্য পরিচয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ্‌ বিভাগের চতুর্থবর্ষের ছাত্র আল মুকাদ্দাস এবং দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্স পরীক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তাদের সন্ধান মিলছে না। অধিকার-এর অনুসন্ধানে জানা যায়, পিরোজপুর জেলার খানা কুনিয়ারী গ্রামের আবদুল হালিম ও আয়েশা সিদ্দিকার ছেলে আল মুকাদ্দাস এবং ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া থানার পশ্চিম শৈলজালিয়া গ্রামের ফজলুর রহমান ও আফিফা রহমানের ছেলে ওয়ালিউল্লাহ। তারা দু’জনে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দু’জনই ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ২১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। অধিকার ঘটনাটি সরজমিনে তথ্যানুসন্ধানকালে কথা বলে- নিখোঁজ দুই ব্যক্তির স্বজন, প্রত্যক্ষদর্শী এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে। মুকাদ্দাসের চাচা মুহাম্মদ আবদুল হাই অধিকারকে জানান, গত ২রা ফেব্রুয়ারি তার সঙ্গে আল মুকাদ্দাসের মোবাইল ফোনে কথা হয়। মুকাদ্দাস তাকে জানায়, একটি দেশাত্ববোধক গানের অ্যালবাম বের করার জন্য ঢাকায় দু’দিন থাকতে হবে। আল মুকাদ্দাস বাংলামটরে জাফর নামে এক বন্ধুর বাসায় থেকে একটি স্টুডিওতে গান রেকর্ড করতে থাকে। ৩রা ফেব্রুয়ারি মুকাদ্দাসের আরেক বন্ধু ওয়ালিউল্লাহ প্রিন্টিং প্রেসের কাজের জন্য ঢাকায় আসে এবং একই সঙ্গে অবস্থান করে। দু’দিন ঢাকায় কাজ শেষ করে তারা বাড়ি যাওয়ার জন্য বাসে রওনা দেয়। ৬ই ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টার দিকে মুকাদ্দাসের ছোট বোন তাকে মোবাইল ফোনে জানায়, মুকাদ্দাসের মোবাইল বন্ধ এবং বিশ্ববিদ্যালয় বা বাড়িতে কোথাও তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি তখন পল্টন থানায় জিডি করেন। মুকাদ্দাসের আরেক বন্ধু সাইয়েদ আহমেদ তাকে জানায়, তারা কল্যাণপুর বাস কাউন্টার থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ পরিবহনে রাত সাড়ে ১১টায় ক্যাম্পাসের উদ্দেশে দেয়ার পর নবীনগর থেকে র‌্যাব ও ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাদের তুলে নিয়ে যায়। এ তথ্য পেয়ে দারুস সালাম থানায় আরও একটি জিডি করা হয়। হানিফ এন্টারপ্রাইজ পরিবহনের কল্যাণপুর কাউন্টারের সুপারভাইজার সুমন বলেন, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে হানিফ এন্টারপ্রাইজের গাড়ি নম্বর ৩৭৫০ কল্যাণপুর থেকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। গাড়িটি সাভারের নবীনগর এলাকায় পৌঁছালে রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে ৭-৮ জন লোক সে গাড়ির কাছে আসে। কয়েক জন লোকের পরনে ছিল ডিবি পুলিশের পোশাক, বাকিরা র‌্যাবের পোশাক পরিহিত ছিল। ডিবি সদস্যরা গাড়ির ভেতরে ওঠে এবং সি-১ ও সি-২ সিটের যাত্রী ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসকে জোর করে নামিয়ে নিয়ে যায়। সুমন মিয়া ডিবি পুলিশ সদস্যদের কাছে জানতে চান, তার যাত্রীদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? এক ডিবি সদস্য তাকে বলেন, দু’জনের নামে অভিযোগ আছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়া হবে। ওয়ালিউল্লাহর ভাই মুুহাম্মদ খালিদ সাইফুল্লাহ অধিকারকে জানান, কোথাও না পেয়ে দারুস সালাম ও আশুলিয়া থানায় জিডি করি। ১২ই ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট করি। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৫ই ফেব্রুয়ারি আদালত তিন সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজিপি, র‌্যাবের ডিজি, ডিসি-ডিবিসহ মোট নয়জনকে এ রুলের জবাব দিতে বলে। তিন সপ্তাহ পর উল্লিখিত ৯ জনই আদালতে জানান, নিখোঁজদের ব্যাপারে তারা কোন সন্ধান পাননি। আদালত তাদের জবাবে সন্তুষ্ট নয় বলে অধিকতর তদন্ত করতে আরও ৭ দিন সময় বাড়িয়ে দেন। ৭ দিন পর তারা নয়জন আবার আদালতে হাজির হয়ে এই বিষয়ে তাদের অপারগতা প্রকাশ করেন। আদালত আবারও ৭ দিনের সময় দিয়ে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের মোবাইল ফোনের কললিস্ট আদালতে হাজির করতে বলেন। ৭ দিন পর তারা ৯ জন হাতে লিখে কয়েকটি মোবাইল ফোন নম্বর আদালতে উত্থাপন করলে বিজ্ঞ আদালত অরিজিনাল কললিস্ট নিয়ে ১৪ই এপ্রিল হাজির হতে বলেন। ওই তারিখে তারা ৯ জন অরিজিনাল কললিস্ট আদালতে জমা দিতে ব্যর্থ হন। এরপর ১৮ই এপ্রিল আদালত আবারও ওই ৯ জনকে হাজির হতে বলেন। কিন্তু ওইদিন হরতাল থাকায় সেদিন আর শুনানি হয়নি। তিনি আরও জানান, রিট পিটিশন দাখিল করার পর থেকেই ডিবি পুলিশ সদস্যরা গভীর রাতে আবদুল হাইয়ের বাসায় বার বার অভিযান চালাচ্ছে এবং মোবাইল ফোনে এ বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্যও হুমকি দিচ্ছে। আাশুলিয়া থানার এসআই খায়রুল আলম অধিকারকে জানান, ৮ই ফেব্রুয়ারি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’ছাত্রের স্বজনরা থানায় জিডি করেন। জিডিতে উল্লখ করেছেন, র‌্যাব ও ডিবি পুলিশ সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে গেছে। জিডির প্রথম তদন্ত করেন এসআই তৌহিদুল ইসলাম। তিনি অন্যত্র বদলি হওয়ায় তদন্ত শুরু করেন এসআই খায়রুল ইসলাম। তিনিও বদলি হলে জিডি তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই জাকারিয়া। এসআই জাকারিয়া তদন্তের স্বার্থে অভিযোগকারীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে নিজেই বাদী হয়ে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর-৬১। এসআই খায়রুল আলম অধিকারকে আরও বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় তিনি এলাকার লোকজনের কাছে জানতে পারেন, ৫ই ফেব্রুয়ারি রাতে সাভারের নবীনগর এলাকায় র‌্যাব ও ডিবি পুলিশের পোশাক পরিহিত লোকজন তাদের দু’জনকে তুলে নিয়ে যায়। পুলিশের গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ ওহিদুজ্জামান অধিকারকে জানান, ডিবি পুলিশ সদস্যরা ৫ই ফেব্রুয়ারি নবীনগর এলাকা থেকে মো. ওয়ালিউল্লাহ এবং আল মুকাদ্দাস নামে কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। র‌্যাব-৪ এর
লে. কর্নেল আবদুল্লাহ্‌ ইবনে জায়েদ অধিকারকে জানান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে রিট করায় আদালত র‌্যাব এবং পুলিশসহ ৯ জনকে জবাব দিতে রুল জারি করেছেন। তাই র‌্যাব সদর দপ্তর এ ব্যাপারে জবাব দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাই তিনি এ ব্যাপারে কিছু বলবেন না বলে জানান।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট