Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

টিপাইমুখে সমীক্ষা চালাতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের সাব-কমিটি

দীন ইসলাম, নয়া দিল্লি থেকে: বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা না করে হিমালয় থেকে প্রবাহিত নদীগুলোর আন্তঃসংযোগ প্রকল্প নেবে না ভারত। টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের সমীক্ষা চালানোর জন্য দুই দেশের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে সাব-কমিটি গঠন
করা হয়েছে। এ কমিটি কাজ শুরু করেছে। গতকাল নয়া দিল্লির ওবেরয় হোটেলে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ পরামর্শক কমিশনের যৌথ সভা শেষে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা একথা বলেন। বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা জানান, এ সভায় সকল ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, ব্যবসা বাণিজ্য, কানেকভিটি, বিদ্যুৎ, পানি সম্পদ, নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, উভয় দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, সংস্কৃতি, পরিবেশ, শিক্ষাসহ দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তারা উভয়ে এ বৈঠককে অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে বলে উল্লেখ করে বলেন, আমরা দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের পর্যালোচনা করেছি। তারা বলেন, চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে সন্তোষজনকভাবে অগ্রগতি হয়েছে। বেশির ভাগই বাস্তবায়িত হয়েছে তবে যতটুকু বাকি রয়েছে তা শিগগিরই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তিস্তা চুক্তি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পানির বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আমরা তিস্তার সঙ্গে সম্পর্কিত রাজ্যগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি মতৈক্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, আমরা একটি সমঝোতায় পৌঁছে এ চুক্তি করতে পারবো বলে আশা করছি। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা না করে টিপাইমুখ প্রকল্পের ব্যাপারে ভারত কোন সিদ্ধান্ত নেবে না বলে আমাকে আশ্বস্ত করেছে। টিপাইমুখ প্রকল্পের উপর উভয় দেশের বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছে। এ ব্যাপারে একটি সাব গ্রুপও গঠন করা হয়েছে। তারা এখন সব বিষয় দেখাশোনা করছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী এসব টিম গঠন করা হয়েছে। ভারতকে  ট্রানজিট দেয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ কাজ করছে। যত দ্রুত সম্ভব এটার বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। সাম্প্রতিক তুলা রপ্তানির ক্ষেত্রে ইতিবাচক সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেন, এর ফলে বাংলাদেশের বস্ত্র ও পোশাক শিল্প লাভবান হবে। তিনি বলেন, ভারত ইতিমধ্যেই তাদের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশের অধিকার দিয়েছে। তিন বিঘা করিডোর সমস্যার সমাধান করেছে। পানি ও বিদ্যুৎসহ অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সহসাই সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তারা। এ বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তাকে সহায়তা করেন পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস, ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত টিএ করিম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা। তাকে সহায়তা করেন পররাষ্ট্র সচিব রঞ্জন মেথাইসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ডা. দীপু মনি আলোচনাকে অত্যন্ত সফল বলে উল্লেখ করে বলেন, আমরা সার্বিক বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করতে সক্ষম হয়েছি। আমি অত্যন্ত সন্তোষজনক মন নিয়ে ফিরে যাচ্ছি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা বলেন, আঙ্গরপোতা-দহগ্রামে বাংলাদেশের নাগরিকদের ২৪ ঘণ্টার যাতায়াতের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্ডার ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার কাজ চলছে। এটা বাস্তবায়িত হলে সীমান্তের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা হ্রাস পাবে। তাছাড়া অবৈধ এবং অপরাধীদের সীমান্ত এলাকায় কর্মকাণ্ড বন্ধ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সেক্টরে আমাদের সমঝোতার বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করেছি। বিদ্যুৎ সেক্টরের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ২০১৩ সালের মধ্যে গ্রীষ্মে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশকে দেয়ার আশা করা হচ্ছে। ২০১৬ সালের মধ্যে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শেষ করার আশা করছি। তিনি বলেন, সীমান্ত ম্যাপ তৈরির কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলেছে। আশা করছি এ কাজটি শিগগিরই শেষ হয়ে যাবে। বর্ডার ম্যানেজমেন্ট কাজ করতে শুরু করেছে। এর ফলে সীমান্তে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার কমে যাবে। মেঘালয়ের মতো ত্রিপুরা ও মিজোরামে আন্তর্জাতিক বর্ডার হাটের কার্যক্রম শুরু করার আশা করছি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট