Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

জামিন পেলেন বিএনপি নেতারা

ঢাকা, ৭ মে: হাইকোর্টে অবস্থান নেয়া বিএনপি নেতাদের জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মইনুল চৌধুরী এবং বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার জামিন মঞ্জুর করেছেন। মামলায় আসামিদেরকে আগামী সাত দিনের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পনের নির্দেশ দিয়েছেন জুনিয়র বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার। তিনি বলেছেন আগামী সাত দিনের মধ্যে আসামিদেরকে গ্রেফতার ও হয়রানি করা যাবে না। তবে সিনিয়র জজ মইনুল ইসলাম চার্জশিট না হওয়া পর‌্যন্ত জামিনের নির্দেশ দেন।

 

পাশাপাশি আসামিদের কেন স্থায়ী জামিন দেয়া হবে না, তা জানাতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করা হয়েছে এবং আগামী সাত দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

 

তবে এই মামলায় সংশ্লিষ্ট জামায়াত নেতাদের জামিন মঞ্জুর করা হয়নি।

 

শুনানি কালে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান। আর বিবাদীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ও ব্যারিস্টার রফিকুল হক।

 

এর আগে সকাল ১০ টায় বিচারপতি আনোয়ার উল হক এবং বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়ার বেঞ্চে বিএনপি নেতাদের আইনজীবীদের মাধ্যমে আবেদন জানাতে গেলে বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়া অসুস্থ থাকায় এই বেঞ্চে শুনানি সম্ভব হয়নি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ এই তথ্য জানান।

 

তবে হরতালের দিন সচিবালয়ে হাতবোমা বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের মামলায় গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা আগাম জামিন নিতে সোমবার সকালে হাই কোর্টে আবেদন করেছেন। রোববার বিকাল থেকে তারা নানা কায়দায় হাইকোর্টে অবস্থান নেন।

 

রোববার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আববাস, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ ১৮ দলীয় জোটের ৫/৬ জন নেতা আইনজীবীদের সঙ্গে হাই কোর্টে যান। তাদের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ছিলেন।

এর আগে বিএনপি নেতাদের জামিন শুনানিতে আদালত বিব্রতবোধ করায় সশরীরে জামিন নেয়ার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল, স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মীর শরাফত আলী সফু প্রমুখ আদালতে অবস্থান নেন।

রোববার বৌদ্ধ পূর্ণিমার ছুটি থাকায় গ্রেফতার এড়াতে বিএনপির নেতারা আদালতে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পরে আদালতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সবকটি গেটে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে।

রোববার বিকেল তিনটার পর থেকে বিভিন্ন কৌশলে তারা হাই কোর্ট ভবনে ঢুকে পড়েন। সোমবার তাদের জামিন আবেদনের বিষয়ে শুনানি হতে পারে।

রমনা জোনের উপ-কমিশনার নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “বিএনপি নেতাদের সুপ্রিম কোর্টে আসার খবর আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি। তবে আমরা অসমর্থিত সূত্রে জানতে পেরেছি দুপুর তিনটার দিকে হাই কোটের্র মাজার গেট দিয়ে তারা ঢুকেছেন।”

এরআগে গত ২ মে আগাম জামিন আবেদন শুনানি না করে ফেরত দিয়েছিল হাই কোটের্র দুটি বেঞ্চ। এর মধ্যে একটি বেঞ্চের বিচারকরা বিব্রতবোধ করেন।

বুধবার প্রথমে বিএনপি নেতাদের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করলে বিচারপতি এ কে এম শহীদুল হক ও বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমানের বেঞ্চ তা আমলে না নিয়ে ফেরত দেন। বিচারকরা বিব্রতবোধ করেন।

পরে আবার বিচারপতি এনায়েতুর রহিম ও শেখ মো. জাকির হোসেনের বেঞ্চে একই বিষয়ে শুনানির জন্য গেলে বিচারকরা আবেদনটি শুনানির ‘যোগ্যতা’ (পাওয়ার) আছে কিনা সে বিষয়ে অফিশিয়াল কোনো নোটিশ না পাওয়ায় শুনানি থেকে বিরত থাকেন।

উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল হরতালে সচিবালয়ে হাতবোমা বিস্ফোরণ এবং তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুরের মামলায় রাজধানীর শাহবাগ ও তেজগাঁও থানায় দুটি মামলা করে পুলিশ।

শাহবাগ থানার মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও আরো ২৭ জন এবং তেজগাঁও থানার মামলায় তাকেসহ ৪৪ জনকে আসামি করা হয়।

শাহবাগ থানা সূত্র জানায়, রোববার হরতাল চলাকালে সচিবালয় এলাকায় বোমা হামলার ঘটনায় রাতে একটি মামলা করেন এসআই হীরেন্দ্রনাথ প্রামানিক।

মির্জা ফখরুল ছাড়াও এ মামলায় আসামি করা হয়েছে- বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, আমানউল্লাহ আমানসহ মোট ২৮ জনকে।

ইতিমধ্যে এই মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির আহমেদ রিজভীকে গ্রেফতারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে তেজগাঁও থানার মামলায় আসামি করা হয়েছে- মির্জা ফখরুল, রুহুল কবীর রিজভী, এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আসম হান্নান শাহসহ মোট ৪৪ জনকে।

গত ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে বনানী থেকে গাড়ির চালকসহ নিখোঁজ হন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট বিএনপির সভাপতি এম ইলিয়াস আলী।

এ ঘটনায় বিরোধী দলের অভিযোগ, সরকারি বাহিনীর লোকজন ইলিয়াস আলীকে তুলে নিয়ে গেছে। আর ক্ষমতাসীন দলের দাবি, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার নির্দেশে ইলিয়াস আলী আত্মগোপনে আছেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট