Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও টিফা আদায়ের ‘যাতা’ হলেন ইউনূস

ঢাকা, ৬ মে: সদ্য সমাপ্ত ঢাকা সফরে হিলারি ক্লিনটন তার বক্তব্য ও সফরসূচির মাধ্যমে আবারো স্পষ্ট করলেন যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকে বহাল রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দেয়া আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ছিল না, ছিল একটি ‘উপায়’ মাত্র। ঐতিহাসিক দুটো সুবিধা আদায়ের জন্য বাংলাদেশকে চাপের মধ্যে রাখতে ‘যাতা’ (লিভারেজ) হিসাবে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদের ইস্যুটিকে ব্যবহার করেছে ওবামা প্রশাসন। সফল সফর শেষে রোববার দুপুরে ভারতের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন হিলারি।

এর আগে সফর শুরুর দিন গত শনিবার বার্তা২৪ডটনেট একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকে বহাল রাখার ব্যাপারে টানাপড়েনের কারণে নয়, বরং কৌশলগত অংশীদারিত্ব সংলাপ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক রুপরেখা চুক্তির প্রস্তুতির কারণেই আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর বিলম্বিত হয়েছে।

ইউনূস ইস্যুতে টানাপড়েন নয়, চুক্তির প্রস্তুতি
এ সময়ের মধ্যে দেশটির সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও. ব্লেক কয়েকবার ঢাকা সফরে আসেন। হিলারির সদ্যসমাপ্ত সফরে সঙ্গী হিসাবে আসার আগে সর্বশেষ ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সফর করেন রবার্ট ও. ব্লেক। পরের মাসের ৫ তারিখে আসেন উপ-সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী ড. জেমস এ শিয়ার। গত ১৯ এপ্রিল প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ-আমেরিকা সামরিক অংশীদারিত্বের সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ৪ এপ্রিল ঢাকায় আসেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক বিষয়াদি’র অধঃস্তন মন্ত্রী ওয়েন্ডি আর শেরম্যান।

এ দীর্ঘ প্রস্তুতির মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রসহ সামগ্রিক কৌশলগত ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব বাড়াতে যৌথ একটি ফোরাম গঠনের বিষয়টিতে ঐক্যমত হয়। ‘বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত অংশদারীত্ব সংলাপ’ শীর্ষ দলিলটি চূড়ান্ত হবার পরে বাংলাদেশের অনুরোধে কৌশলগত শব্দটি বাদ দেয়া হয়। শনিবার যে দলিলটি স্বাক্ষর করেছেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বাংলাদেশে আমেরিকার বিনিয়োগের বিশেষ সুরক্ষায় টিফা’র আদলে প্রণীত ‘বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা রুপরেখা চুক্তি’ বা টিকফা হিলারির এ সফরে চূড়ান্ত হলেও স্বাক্ষরিত হয়নি। কৌশলগত অংশীদারিত্ব সংলাপ ফোরামে’র দলিলে বাংলাদেশের অনুরোধে যেভাবে ‘কৌশলগত’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়েছে, তেমনি টিফা চুক্তির নামে আমেরিকার প্রস্তাব অনুযায়ী ‘সহযোগিতা’ শব্দটি যোগ করে কোঅপারেশনে’র ‘সি’যুক্ত করে টিকফা করা হয়েছে।

এ অঞ্চলে চীনের প্রভাব কমাতে ও বাংলাদেশে আমেরিকার বিনিয়োগ সুরক্ষায় এ কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও টিফা চুক্তির জন্য আমেরিকার দুই দশকের বেশি সময় ধরে চেষ্টা করে আসছিল। এ দুই উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে চীনের আমদানিকৃত জ্বালানির প্রধান সরবরাহ পথে নজরদারি ও বঙ্গোপসাগরে জ্বালানি ব্যবসায়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে চায় আমেরিকা।

চীনের প্রভাব কমানোর পথে এই দুই ঐতিহাসিক সুবিধা আদায়ে বরাবরের মতই ‘মানবাধিকার’ ও ‘গণতন্ত্রে’র গতানুগতিক ‘যাতা’ ব্যবহার করে আসছিল আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সরকারের বিরুপ অবস্থানের বিষয়ে নজিরবিহীন চাপ প্রয়োগ এ ক্ষেত্রে দেশটিকে সাফল্য এনে দিল। এ ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ‘হুমকি’তে পড়ার কথাও বলেছিলেন দেশটির সহকারির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও. ব্লেক।

ইউনূসের সঙ্গী গুম ও মানবাধিকার
কৌশলগত অংশীদারিত্বে যুক্ত হওয়া ও টিফা চুক্তিতে চূড়ান্তভাবে একমত হওয়ার বিপরীতে দেশে আশংকাজনক হারে চলমান গুম ও মানবাধিকার লংঘন এবং ড. ইউনূস ইস্যুতে ওবামা প্রশাসনের নিরবতা’র ‘সুবিধা’ পেল বাংলাদেশ সরকার।

সফরকালে গুম ও মানবাধিকার লংঘন বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সুনির্দিষ্টভাবে  কোনো ধরনের আলোচনা করেননি আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। শুধু যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সাধারণভাবে বলেন যে, ‘‘যেকোনো গুম ও কর্মীদের ওপর নির্যাতন (অ্যানি ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স অ্যান্ড টর্চার অন অ্যাক্টিভিস্ট) গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।’’

একইসঙ্গে ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারেও সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনায় যাননি তিনি। মোটা দাগে তিনি সরকার ও বিরোধী দলীয় নেত্রীকে বলেন যে, গ্রামীণ ব্যাংক একটি ‘অসাধারণ প্রতিষ্ঠান’ এবং এর কার্যক্রমের ক্ষতিকারক কিছু হোক তা আমেরিকা চায় না। সরকারের তরফে তাকে আশ্বস্ত করা হয় যে, ড. ইউনূসের অপসারণের পর এখন ব্যাংকটির জন্য নতুন প্রধান খোঁজা হচ্ছে।

এমনকি নিজের ‘ব্যক্তিগত বন্ধু’ বলে পরিচিত ড. ইউনূসের সঙ্গেও পৃথকভাবে দেখা করেননি হিলারি ক্লিনটন। দখলকৃত আফগানিস্তানে আমেরিকার স্বার্থ উন্নয়নে কর্মরত বাংলাদেশী এনজিও ব্রাকের প্রধান ফজলে হাসান আবেদের সঙ্গে যৌথভাবে ড. ইউনূসকে ৪৫ মিনিটের সাক্ষাত দেন তিনি।

ঢাকাস্থ রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে আবেদ ও ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে আমেরিকান সেন্টার-এর পৃষ্ঠপোষকতায় চালিত আমেরিকাপন্থি তরুণদের একটি সমাবেশে যোগ দেন তিনি। সেখানে এক প্রশ্নের জবাবে মোটা দাগে তরুণদের উদ্দেশ্যে হিলারি বলেন যে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীকে গ্রামীণ ব্যাংক প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘‘আমি এরকম কিছু চাই না যা  কোনো না কোনোভাবে একটি অসাধারণ আদর্শ প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’’

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট