Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ওবামার তুলনায় মিট রমনি অতিমাত্রায় দুর্বল প্রার্থী

নিউ ইয়র্ক, ৬ মে: আমেরিকার আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অন্যতম দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন এখনও কিছুটা বাকি। কিন্তু নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট যুদ্ধ মনোনয়ন পাওয়ার আগেই জমে উঠেছে। ডেমোক্রাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও রিপাবলিকান সাবেক ম্যাচাচুসেটস গভর্নর মিট রমনি নিজ নিজ পক্ষে ভোট টানতে বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের বক্তব্য তুলে ধরছেন। তবে বেশ কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, ইস্যুভিত্তিক প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট ওবামা তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মিট রমনির চেয়ে অনেক এগিয়ে আছেন ।

যুক্তরাষ্ট্রের এ বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রধান ইস্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে, অর্থনীতি, বিদেশনীতি ও ইমিগ্রেশন। অর্থনীতি নিয়ে গত কয়েকবছরে প্রেসিডেন্ট ওবামার নানামুখী পদক্ষেপ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে কিছুটা বিতর্ক থাকলেও, বিদেশনীতি ও ইমিগ্রেশন প্রশ্নে তিনি মিট রমনির চেয়ে অনেক এগিয়ে। এরই প্রতিফলন দেখা যায় এ সপ্তাহে পরিচালিত বিভিন্ন মতামত জরিপে।

ফক্স নিউজ জনমত জরিপ, সিএনএন জনমত জরিপ, ওয়াশিংটন পোস্ট ও এবিসি নিউজের যৌথ জরিপ-সবগুলোতেই প্রেসিডেন্ট ওবামা বেশ কয়েক পয়েন্টে রমনির চেয়ে এগিয়ে।

জরিপে রমনিকে একজন অতিমাত্রায় দুর্বল প্রার্থী উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে অর্থনীতি, বিদেশনীতি, সামাজিক রক্ষণশীলতার প্রশ্নে বক্তা এমনকি নির্বাচনী ক্যাম্পেইন সবদিক থেকেই ডেমক্র্যাট প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ওবামার চাইতে রিপাবলিকান প্রার্থী মিট রমনি একজন দুর্বল প্রার্থী। প্রেসিডেন্ট ওবামা ক্ষমতা গ্রহণের পর আমেরিকার অর্থনীতির অবস্থা ছিল বিপর্যস্ত। বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ১০ পার্সেন্ট। প্রেসিডেন্ট ওবামা ক্ষমতা  গ্রহণের পর গত তিন বছরে অর্থনীতির চাকা অনেকটা সচল করতে সক্ষম হয়েছেন। আমেরিকার বেকার সংখ্যা এখন গড়ে ৮ পার্সেন্ট। এছাড়া প্রতি মাসেই সৃষ্টি হচ্ছে নতুন চাকরির বাজার। জজ ডব্লিও বুশ ক্ষমতা গ্রহণের পর সবচাইতে বেশি চাকরি হারিয়েছিল ওয়াইহো অঙ্গরাজ্য। ওয়াইহোতে এখন বেকারত্বের সংখ্যা হচ্ছে ৭.৯ পার্সেন্ট। কিন্তু মিট রমনি ম্যাসামুসেটসের গভর্নর থাকাকালীন সেই অঙ্গরাজ্যে নতুন কোনো চাকরির বাজার সৃষ্টি করতে পারেননি। বরং সেখানে উল্টো কর্মচারী ছাটাই বা বরখাস্ত হয়েছিল সেটা এখন ইতিহাস হয়ে আছে।

বিদেশনীতি প্রশ্নে এক বিতর্কে মিট রমনি রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের এক নম্বর ভূ-রাজনৈতিক শত্রু হিসাবে উল্লেখ করাটাও অনেক ভোটারের কাছে তাকে হাস্যকর করে তুলেছে। এ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ওবামা মিট রমনিকে আক্রমণ করে বলেন, তিনি এখনও সেই ১৯৭৫ সালেই রয়ে গেছেন।

ম্যাসাচুসেটের গভর্নর থাকাকালীন রমনির ‘উদারনীতি’ সকলের জানা আছে। সিনেটর রিকসেনটোরাম একবার রমনিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “ম্যাসাসুটসের গভর্নর নির্বাচনের সময় আপনি বলেছিলেন, আপনি একজন লিবারেল। এরপর সেখানকার সিনেট নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে আপনি বলেছিলেন, আমি মোডারেট, আর এখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে আপনি বলছেন, আপনি কনসারভেটিড। আগামীকাল আপনি কি বলবেন?”

প্রাইমারি লড়াইয়ের সময় একবার কংগ্রেসম্যান রন পলের ৩৫ পার্সেন্ট সমর্থক বলেছিলেন, নভেম্বরের নির্বাচনে তারা মিট রমনিকে ভোট দিবেন না। এরা সবাই মনে করেন, সব ধরনের যোগ্যতা থাকার পর প্রার্থীকে হতে হবে একজন চৌকষ বক্তা। যেরকম বক্তা ছিলেন, প্রয়াত রোলান্ড রিগ্যান, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট ওবামা। কিন্তু মিট রমনির বক্তা হিসেবে কোনো খ্যাতি নেই।

অর্থনৈতিক অবস্থার দিক থেকেও মিট রমনি অতিশয় দুর্বল। নিজস্ব প্রচারের জন্য যেখানে প্রেসিডেন্ট ওবামার কাছে রয়েছে ২১ মিলিয়ন ডলার, সেখানে মিট রমনির হাতে আছে মাত্র ৭ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ওবামা একবার স্বল্প সময়ে ৪২ বিলিয়ন ডলার ফান্ড রেইজিং করে আমেরিকার সব প্রেসিডেন্টের রেকর্ড ভঙ্গ করেছিলেন।

মিট রমনি আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার লক্ষে সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন দেশের অর্থনীতির ওপর। মিট রমনির বিজ্ঞাপনের ভাষা হলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে হলে একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি তিনি।

তবে ওবামা এই প্রচারণার জবাব দিয়েছেন বেশ কড়াভাবেই। বিদেশে বিনিয়োগ ও সুইস ব্যাংকে অর্থ জমানোর তথ্য উল্লেখ্য করে ওবামা তার এক বিজ্ঞাপনে বলেছেন, মিট রমনি যুক্তরাষ্ট্রে নয় বরং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেই কর্মসংস্থানে বেশি আগ্রহী। একারণেই তিনি তার কোম্পানির সিইও থাকাকালে ভারতীয় ও মেক্সিকান কোম্পানির মাধ্যমে সার্ভিস নিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সুইস ব্যাংকে অর্থ জমিয়েছেন।

ওবামা তার বিজ্ঞাপনে আরো বলেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪৪ লাখ মানুষ কর্ম হারায়। আর ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ ২০১২ পর্যন্ত ওবামার শাসনামলে প্রায় ৪১ লাখ নতুন কর্মসংস্থান করা হয়েছে।

ভার্জিনিয়ায় এক ফান্ড রেইজিং অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ওবামা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন একসাথে উপস্থিত হন। এ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন মিট রমনিকে আক্রমণ করে বলেন, তিনি যা করতে চাচ্ছেন তার পূর্বসূরীরাও তাই করেছেন। যার ফলে আমেরিকাকে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়তে হয়।

অর্থনীতি নিয়ে ওবামাকে মিট রমনির আক্রমণ যে খুব যুৎসই হচ্ছে না তার প্রতিফলন দেখা যায় জনমত জরিপে। ওয়াশিংটন পোস্ট ও এবিসি জনমত জরিপে দেখা যায় ৪৯ শতাংশ ভোটার মনে করে ওবামা বর্তমান অর্থনেতিক সমস্যা সমাধানে ভালো। অন্যদিকে মাত্র ৩৯ শতাংশ ভোটার মনে করে মিট রমনেই অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে ভালো কাজ করতে পারবেন।

ফক্স নিউজ জনমত জরিপে দেখা যায়, অধিকাংশ ভোটার মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা ও মিট রমনি দুজনের কেউই বর্তমান অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে পরিপূর্ণ নয়। তবে মহিলা ভোটারদের ৪৭ শতাংশ মনে করেন ওবামা এক্ষেত্রে মিট রমনির চেয়ে যোগ্য। আর কর্মরত মায়েদের ৫৫ শতাংশ মনে করেন, ওবামা মিট রমনের চেয়ে অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে অনেক বেশি যোগ্য। মাত্র ৩২ শতাংশ কর্মজীবী মা মিট রমনকে যোগ্য মনে করেন।

অন্যদিকে সিএনএন পরিচালিত জরিপেও দেখা যায় প্রেসিডেন্ট ওবামা তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মিট রমনির চেয়ে প্রায় ৯ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। প্রায় সব জরিপেই বলা হয় মহিলা, মধ্যবিত্ত এবং নিম্নমধ্যবিত্তদের মধ্যে ওবামার জনপ্রিয়তা মিট রমনির চেয়ে অনেক বেশি।

সিএনএন জরিপে প্রায় ৫২ শতাংশ ভোটার মনে করেন আজ যদি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়, সেক্ষেত্রে তারা প্রেসিডেন্ট ওবামাকেই বেছে নেবেন। ৪৩ শতাংশ ভোটার অবশ্য মিট রমনিকেই প্রেসিডেন্ট হিসাবে পছন্দ করেছেন।

সব মিলিয়ে প্রত্যেকটি জরিপেই ওমাবার চেয়ে অনেক বেশি দুর্বল প্রার্থী হিসেবে মিট রমনিকে উল্লেখ করা হয়েছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট