Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন চায় আমেরিকা

ঢাকা, ৫ মে: হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক নেতাদের নামে মামলা ও আদালতে প্রতিকার না পাওয়া দুঃখজনক। এর প্রতিকার হওয়া উচিত। যাতে সবাই শান্তিতে থাকতে পারে। হিলারি আরো বলেন, আগামীতে সব দলের অংশ গ্রহণে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন চায় আমেরিকা।

শনিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী সাংবাদিকদের একথা জানান।

শমসের মবিন বলেন, “হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক হয়েছে।”

তিনি বলেন, “হিলারি প্রথমেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি জানতে চান। জবাবে খালেদা জিয়া তাকে বলেন, নির্বাচন গণতন্ত্রের একটি স্তম্ভ। সেজন্য আগামী জাতীয় নির্বাচন যেন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। তিনি বলেন, নির্বাচনে সবাই অংশ নিতে না পারলে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।”

শমসের মবিন জানান, হিলারি বলেছেন, এ বিষয় নিয়ে তিনি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সরকারকে তিনি বলেছেন আগামীতে যাতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সকলের অংশগ্রহণমুলক নির্বাচন হতে পারে তা আমেরিকা চায়। এজন্য বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়া সংসদের ভেতরে ও বাইরে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

শমসের মবিন বলেন, “হিলারি বলেছেন, তিনি অবহিত আছেন যে দেশের জনগণের মধ্যে একটি ভয়-ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ইলিয়াস আলীর নাম উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। হিলারি সরকারের কাছে বলেছেন ইলিয়াস আলীকে যেন স্ব-শরীরে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়।”

হিলারি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কারিগরী, সামাজিক, নিরাপত্তাসহ বহুপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে। আগামীতে এই সম্পর্ক কিভাবে বাড়ানো যায় সে ব্যাপারে বিএনপি’র বক্তব্য কী? জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, পোশাক শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪০ ভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা রয়েছে। এই সুবিধা আরো বাড়াতে পারলে রপ্তানি আরো বাড়বে।

খালেদা জিয়া বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিকের সংখ্যা অনেক বেশি। এই খাত সমৃদ্ধি লাভ করলে নারীরা স্বাবলম্বী হবে। নারীর ক্ষমতায়ন বাড়বে।

খালেদা জিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশে বিনিযোগ বাড়ানোর আহবান জানিয়ে হিলারিকে বলেছেন, আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

খালেদা জিয়া আরো বলেছেন, আমরা জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সামাজিক ও অর্থনীতিক উন্নয়নে কাজ করতে পারবো। এ জন্য সবার প্রতি আমি উদাত্ত আহবান জানিয়েছি।

হিলারি বলেন, তিনি জানেন যে, বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বাংলাদেশে নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়ন ও অগ্রগতিতে তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামীতে ক্ষমতায় গেলে খালেদা জিয়া এ প্রক্রিয়া আরো এগিয়ে নেবেন।

জালানি খাতে আমেরিকার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, এ খাতে আমাদের ঘাটতি আছে। আগামীতে তা পূরণ করতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে পরিকল্পনা হাতে নেবো।

হিলারি ক্লিনটন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে চার বছর সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় বেগম খালেদা জিয়া তাকে অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন আগামীতে হিলারি আরো উচ্চ দায়িত্ব অর্থাৎ আমেরিকার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হলে খুশি হবেন। জবাবে হিলারি বলেন, এ পদের জন্য তিনি আগামীতে চেষ্টা করবেন।

হিলারি খালেদা জিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া আমেরিকায় গেলে তার সঙ্গে দেখা এবং কথা হবে। খালেদা জিয়া হিলারিকে আবারো বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি হিলারির মাধ্যমে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

এসময় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী রবার্ট ব্লেক এবং ঢাকায় নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান ও সাবিহ উদ্দিন আহমেদ।

এক প্রশ্নের জবাবে শমসের মবিন জানান, “ড. ইউনূস প্রসঙ্গে হিলারির সঙ্গে খালেদা জিয়ার কোনো আলোচনা হয়নি।”

অপর এক প্রশ্নের জবাবে শমসের মবিন বলেন, “হিলারি ক্লিনটনকে খালেদা জিয়া বলেছেন তার দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বৈঠকে থাকার কথা ছিল। কিন্তু সরকার তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ায় তিনি এখানে আসতে পারেননি। এর জবাবে হিলারি বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক এর পরিবর্তন হওয়া উচিত। যাতে সবাই শান্তিতে থাকতে পারে।”

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট