Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

নতুন এজেন্ডা নিয়ে আসছেন হিলারি-প্রণব

(বার্তা২৪)ঢাকা, ৫ মে: বহু প্রতীক্ষিত সফরে আজ ঢাকা আসছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। বিকালে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখছেন তিনি। তাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি বেইজিং থেকে উড়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে ৪টার দিকে। আর হিলারি আসার মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা আসছেন প্রতিবেশী ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী। ম্যানিলা থেকে একটি বিশেষ বিমানে চড়ে আজ রাত ৯টায় হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি হিসাবে আগে দু’বার বাংলাদেশ সফর করলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে হিলারি ক্লিনটনের এটাই প্রথম সফর। ওবামা প্রশাসনের প্রভাবশালী এ রাজনীতিকের বাংলাদেশের প্রতি রয়েছে গভীর অনুরাগ। তিনি আসছেন ঢাকা- ওয়াশিংটন সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন বার্তা নিয়ে।

আর মনমোহন সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী বাঙালি নেতা প্রণব মুখার্জির সফরকে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রয়াস হিসাবেই দেখছে দু’পক্ষ। একই সঙ্গে দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর সফর বিনিময়কালে নেয়া সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনার সুযোগ হিসাবেও দেখা হচ্ছে।

ভিআইপি এ দু’নেতাকে অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুত ঢাকা। তাদের নিরাপত্তাসহ শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে। সফর দু’টি সফল করতে অগ্রগতি দলের সদস্যরা ইতিমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে চলেছেন। নেতাদ্বয়ের যাতায়াত, অবস্থান স্থল ও মিটিং ভেন্যুর সার্বিক প্রস্তুতি তারা দেখভাল করছেন।

দফায় দফায় পরিবর্তিত ও গোপনীয় সফরসূচি অনুসারে, শনিবার বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে আসবেন হিলারি। তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি। সেখান থেকে যাবেন মার্কিন দূতাবাসে। ৬টায় যাবেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে। পরে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। সেখানে যৌথ ঘোষণার পর হবে যৌথ সংবাদ সম্মেলন। রাত সাড়ে ৮টায় যাবেন বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনে সাক্ষাত করতে।

পরদিন রোববার সকাল সাড়ে ৯ টায় যাবেন রাষ্ট্রদূতের বারিধারার বাসভবনে। ড. ইউনূসের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন। সেখান থেকে বিকাল সাড়ে এগারোটায় যাবেন মার্কিন দূতাবাসে। স্থানীয় সুশীল সমাজ ও এনজিও ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পরে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে চলে যাবেন কলকাতার উদ্দেশ্যে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে নাগরিক প্রতিনিধি- হিলারি ক্লিনটনের সফরের সব আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় বিষয়ের পাশাপাশি দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি স্থান পাবে বলে বলে জানা গেছে। মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আলোচনা গুরুত্ব পেতে পারে। আসতে পারে সরকারের সুশাসনের প্রতিশ্রুতি এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের প্রসঙ্গও।

দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনীতি, আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার নিয়ে জানতে চাইবেন হিলারি ক্লিনটন। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীর গুম হওয়া আর পোশাক শ্রমিক অধিকার সংগঠন বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির (বিসিডব্লিউএস) সংগঠক আমিনুল ইসলামের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র খোঁজ নেবে। এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি, যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গও প্রাসঙ্গিকভাবে তোলা হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দু’দেশের নিয়মিত যোগাযোগে ‘অংশীদারি সংলাপ’-এর ঘোষণা আসবে এ সফরে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা রূপরেখা চুক্তি (টিকফা) সই হচ্ছে না। আর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হবে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং বিশেষায়িত মার্কিন সহায়তা তহবিল মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ অ্যাকাউন্টে (এমসিএ) অন্তর্ভুক্তিতে।

অপরদিকে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকীর আয়োজন উপলক্ষ হলেও ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী ঢাকা সফরকালে দু’দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা, অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রী এবং দেশের সিনিয়র সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সব আলোচনায় তিস্তার পানি বণ্টন, ট্রানজিট-কানেকটিভিটি, সীমান্ত প্রটোকল, সীমান্ত হত্যা পুরোপুরি বন্ধ এবং বন্দি প্রত্যর্পণের বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।

ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার (প্রতিমন্ত্রী) তারিক এ করিম জানিয়েছেন, প্রণবের সফরের এজেন্ডায় নতুনত্ব আছে। ঝুলে যাওয়া অনেক ইস্যুতে নাটকীয় অগ্রগতি আসবে বলেও আশা করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, ভারতের সঙ্গে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। প্রণবের সফরে বিষয়টি আসতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, গত সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরে নেয়া সিদ্ধান্ত, চুক্তি, প্রটোকল এবং ঘোষণা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা হবে। দু’দেশের সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে প্রণব মুখার্জির সঙ্গে।

সর্বোচ্চ সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ও ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির সফর ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে তাদের আগমন ও অবস্থানের  সম্ভাব্য জায়গাগুলো নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, তাদের সফর নির্বিঘ্ন করতে বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ সদস্যের বিশেষ নিরাপত্তা টিম ঢাকায় অবস্থান করছেন। এছাড়া হিলারির সঙ্গে আরও ২৪ জনের একটি নিরাপত্তা টিম আসবে। বিশ্রামস্থল (হোটেল)সহ  হিলারি যেতে পারেন এমন চারটি স্থান আগে থেকেই কর্ডন করে রাখা হয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল উইংয়ের কর্মকর্তারা নিরাপত্তার কৌশল নির্ধারণ করেছেন। এরই মধ্যে হোটেল রেডিসন, ওয়েস্টিন, সোনারগাঁসহ এর আশপাশের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ-র‌্যাবসহ সবক’টি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে প্রযুক্তির সহায়তা নেয়া হচ্ছে। সফরের দিন সকাল থেকে হিলারি ও প্রণব মুখার্জির ঢাকা ত্যাগের আগ পর্যন্ত হোটেল সোনারগাঁ থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক ঢেকে ফেলা হবে নিরাপত্তার চাদরে।

সফরের সময় হিলারি ও প্রণব মুখার্জি কোথায় অবস্থান করবেন, কোন কোন রাস্তা দিয়ে তাদের গাড়িবহর যাতায়াত করবে এবং যাতায়াতের সময় রাস্তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি হবে তা এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা চূড়ান্ত করেছে। এসব রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা।

ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হিলারির নিরাপত্তার স্বার্থে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে সোয়াত, সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন (এসপিবি), ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অপারেশন (আইএসও), বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটসহ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ ইউনিটগুলোকে।

একটি সিকিউরিটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করে গত এক সপ্তাহ ধরে বোম্ব ডিটেক্টর, বোম্ব জ্যামার, ভেহিকেল স্ক্যানার ডার্ক গ্লাস, আর্মার্ড পারসোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি) প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রপাতি নিয়ে তারা বিশেষ মহড়ায় অংশ নিয়েছে। বিমানবন্দর থেকে হোটেল পর্যন্ত লোকেশন মনিটরিংয়ের জন্য ব্যবহার হচ্ছে বিশেষ ধরনের যন্ত্র। গত এক সপ্তাহ ধরে সবক’টি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি চালাচ্ছেন।

হোটেলে হিলারি ও প্রণব মুখার্জির সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তায় থাকবে ব্যাগেজ ও লাগেজ সিস্টেম। এ সিস্টেমের অধীনে হোটেলের কোন বাসিন্দা বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে না। র‌্যাব ও গোয়েন্দাদের কাছে থাকবে অত্যাধুনিক বাইনোকুলার।

ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ জানান, হিলারি ও প্রণব মুখার্জিকে নগরবাসী আন্তরিকভাবেই বরণ করবেন। তাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে এসএসএফ ও পিজিআর থাকলেও ডিএমপি’র সবগুলো ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট