Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

রয়টার্সের রিপোর্ট, রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে বাংলাদেশে আসছেন হিলারি

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন শনিবার বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে এক সপ্তাহেই দ্বিতীয়বারের মতো কঠিন কূটনৈতিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ঢাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি গত কয়েক বছরের মধ্যে এখন সবচেয়ে খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০০০ সালে তার স্বামী সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের বাংলাদেশে সফরের পর গত ১২ বছরের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ব্যক্তিত্ব। বিল ক্লিনটনের ওই সফরের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দারিদ্র-পীড়িত দেশটির সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক উষ্ণ হয়। চীন সফরে অন্ধ মানবাধিকার কর্মী চেন গুয়াংচেনকে নিয়ে উভয় সঙ্কটে পড়ার পর ২৪ ঘণ্টার ঢাকা সফরেও হিলারিকে একই পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। গতকাল বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ রিপোর্ট প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে- ঘন ঘন  রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন বাংলাদেশে একটি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বাঁকা-প্রতিপক্ষ খালেদা জিয়া (দু’জনেই ‘ব্যাটলিং বেগম’ হিসেবে পরিচিত) কয়েক দশক থেকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য লড়াই করে আসছেন। হিলারি সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সরকারের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গেও বসবেন। হিলারির ঢাকা সফরটি গত বছরের শেষের দিকে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক প্রধানের পদ থেকে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসকে সরিয়ে দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয় ওয়াশিংটন। ফলে পিছিয়ে যায় সফরটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর দেলোয়ার হোসাইন বলেন, এ সফরটি বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এর আগে ইউনূসের বিষয় নিয়ে মুলতবি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, মনে হচ্ছে ওই পরিস্থিতি কেটে গেছে। হিলারির সফরটি এমন একটি সময়ে হচ্ছে যখন হরতালের পরও নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর কোন হদিস মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ রয়ে গেছে। খালেদার বিএনপি ও হাসিনার আওয়ামী লীগ ইলিয়াসের গুম হওয়াকে কেন্দ্র করে পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে। এর প্রতিবাদে ও হরতালে ৫ জন মারা গেছে। যাদের তিনজন গুলির কারণে মারা যান। এটা হাসিনার গত তিন বছরের শাসনামলের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক সহিংসতা। ইলিয়াস আলী গত মাসে গুম হন। তার আঘাতপ্রাপ্ত গাড়ি ও মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে তার বাসার কাছেই একটি জায়গায়। সরকার বিষয়টি প্রমাণ করতে নির্দেশ দিয়েছে। তবে পুলিশ এই গুম হওয়ার ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। বিএনপি ইলিয়াস আলীকে সুস্থ ও জীবিত অবস্থায় উদ্ধার চায়। না হলে বিষয়টিতে তারা এক দফা আন্দোলনে যাবে এবং সরকার পতন ও নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করবে। তবে বিএনপির দাবিতে হাসিনার সরকার কোন ভাবান্তর দেখায়নি। ২০১৩ সালের শেষ হওয়ার আগে নির্বাচনের কোন সম্ভাবনাও নেই। হিলারি রাজনৈতিক নেতাদের নিখোঁজ হওয়া ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষের চাপের মুখে পড়তে পারেন। একইসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিষয়েও তাকে চাপ দেয়া হতে পারে বিরোধী পক্ষ থেকে। এদিকে হিলারির সফরের সময় বিরোধী দল কোন বাধার সৃষ্টি করবে না ও সহিংস কর্মসূচি দেবে না বলে জানিয়েছে। এ অঞ্চলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিক থেকে পিছিয়ে পড়ছে। ৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এ অবস্থা দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, আরও বেশি অস্থিতিশীলতা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যআয়ের দেশে পরিণত হওয়ার টার্গেটকে লক্ষ্যচ্যুত করবে। অর্থনীতির প্রফেসর ইউনূস কয়েক দশক আগে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। তাকে তার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় এই বলে যে, ৭০ বছর বয়স হওয়ার পরও অবৈধভাবে তিনি ১০ বছর পদটি ধরে রেখেছেন। যেখানে ৬০ বছর হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। দেশ বিদেশের ইউনূসের বন্ধুরা একে সরকারের হিংসা ও হাসিনার জন্য ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেন- এমন আশঙ্কায় করা হয়েছে বলে মনে করছেন। গরিবের ব্যাংকার বলে পরিচিত ইউনূসের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। এই সফরে ঢাকায় তার সঙ্গেও বৈঠক হতে পারে হিলারির। যদিও বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকার মার্কিন দূতাবাস বলেছে, সফরে আলোচনার বিষয়বস্তু এখনও চূড়ান্ত নয়। বিরোধী পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হিলারির সফরকে লাইনচ্যুত করতে পারে এমন কোন কিছু তারা করবে না। বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ বলেছেন, আমরা এমন কিছু করবো না যে হিলারির সফরকে বাধাগ্রস্ত করে। কর্মকর্তারা বলেছেন, সফরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য-বৃদ্ধি, দক্ষিণ এশিয়াসহ যে কোন জায়গায় সন্ত্রাস দমনে সহায়তা ও এনার্জি বিষয়ে সহযোগিতার বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হিলারির সফর হাসিনার সরকারের জন্য আশীর্বাদ হবে। কেননা তারা চাচ্ছে ভোটারদের খুশি রাখতে ও নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে। সফরটি বিদেশে বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা একইসঙ্গে ভারত ও চীনে সফর করছেন হিলারি-বলেছেন প্রফেসর হোসাইন। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশি সহায়তা চায় অর্থনৈতিক উন্নতি ও অধিক বিনিয়োগের মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাস করার জন্য। এজন্য দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার চায়। গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা বাংলাদেশকে আগামী ৫ বছরে এক বিলিয়ন ডলার দিয়ে সহায়তা করবে। ওয়াশিংটন বাংলাদেশের সঙ্গে টিফকা (ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম এগ্রিমেন্ট) চুক্তি স্বাক্ষর করতে চায়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট