Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ইলিয়াস পুত্র আবরার বললেন, আল্লাহই এখন আমাদের ভরসা

নূরুজ্জামান: বাবাকে ফিরে পেতে আল্লাহই এখন আমাদের শেষ ভরসা। তার জন্য নামাজ পড়েছি। সুস্থতার জন্য মোনাজাত করেছি। গতকাল জুমার নামাজ শেষে এসব কথা বলেছেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর বড় ছেলে আবরার ইলিয়াস। মসজিদ থেকে বের হয়ে বনানীর বাড়ি সিলেট হাউজে প্রবেশের মুখে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাবাকে খুঁজে বের করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বাত্মক চেষ্টার কথা বলেছিলেন। এতো কিছুর পরও আমার বাবার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এখন একমাত্র আল্লাহ’র ওপরেই আমরা ভরসা করছি। বাবাকে ফিরে পাওয়ার আশায় প্রহর গুনছি। ইলিয়াস আলীর লন্ডন প্রবাসী ছোট ভাই আছকির আলী বলেন, ঘটনার সময় আমি লন্ডনে ছিলাম। কারা, কি কারণে ও কিভাবে আমার ভাইকে ধরে নিয়ে গেছে কিছুই বুঝতে পারছি না। এ ব্যাপারে কাউকে জিজ্ঞাসাও করতে পারছি না। কারও মুখের দিকে ঠিকমতো তাকাতে পারি না। তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীর ভাগ্যে গুম বা অপহরণ যা-ই হোক সরকারের সে রহস্য উদঘাটন করা উচিত। ইলিয়াসের ভায়রা নাজিম উদ্দিন তপন বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে বুক বেঁধে আছি। আমাদের বিশ্বাস তার সর্বাত্মক চেষ্টার ফলে ইলিয়াস আলী ফিরে আসবেই। আবরার ইলিয়াস বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার জন্য আমাকে কেউ কিছু বলে না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর মনে হয়েছিল বাবাকে ফিরে পাবো। এরই মধ্যে দুদিন পেরিয়ে গেছে। এখন সব আশা নানা ধরনের আশঙ্কায় পরিণত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বাবার জন্য সবার পড়ালেখা বন্ধ রয়েছে। কেউ স্কুলে যাচ্ছে না। ছোট বোন সাইয়ারা নাওয়াল প্রতিদিনই বাবার কথা জিজ্ঞাসা করে। জানতে চায়- বাবা কোথায় গেছে, কেন গেছে। কবে ফিরে আসবে। আবরার বলেন, আমরা কেউই ওর প্রশ্নের জবাব দিতে পারি না। এড়িয়ে যাই। মন ভুলানোর চেষ্টা করি। বাবার জন্য চিন্তা করতে করতে মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদিকে ইলিয়াসের অপেক্ষায় আছেন সিলেট হাউজের নিরাপত্তাকর্মী, চালক ও কর্মচারীরাও। তারা বলেন, ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই বাড়িটিতে শূন্যতা ভর করেছে। সবাই আতঙ্কিত, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। প্রতিদিনই তাদের মনে হয়- আজকে বুঝি ফিরে আসবেন তিনি। বাড়ি ভাড়া দেয়ার জন্য সিলেট হাউজের প্রধান ফটকে ঝুলছে ‘টু লেট’ সাইন বোর্ড। কিন্তু কাউকে ভাড়া দেয়া হচ্ছে না। বাড়ির বৃদ্ধ নিরাপত্তাকর্মী বলেন, বাড়ির কারও মন ভাল নেই। এজন্য কেউ ভাড়া নিতে এলেও ভাড়া দেয়া হচ্ছে না। বাড়ির সামনের চা দোকানদার আক্ষেপ করে বলেন, সাহেব নিজের পছন্দ মতো বাড়িটি তৈরি করেছেন। অথচ ১০ দিনও বাড়িতে ঘুমুতে পারলেন না। ইলিয়াস আলীর ছেলে লাবিব ইলিয়াস বলেন, ২-৩ দিনের মধ্যে বাবাকে খুঁজে না পেলে আবারও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। স্বজনরা জানান, তদন্ত কর্মকর্তারা এখন আর বাসায় আসেন না। কোন খবরও দেন না। ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ১৫ দিন পর গত ২রা মে লুনাসহ পরিবারের সদস্যরা গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় ইলিয়াসের স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনার সঙ্গে তার দুই ছেলে লাবিব ইলিয়াস ও আবরার ইলিয়াস, মেয়ে সাইয়ারা নাওয়াল, ইলিয়াসের ছোট ভাই আসকির আলী, বোন দিনারা শারমিন এবং পারিবারিক বন্ধু ড. রফিকুল ইসলাম হেলালী উপস্থিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই ইলিয়াস আলীকে উদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। গত ১৭ই এপ্রিল মধ্যরাতে রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেল থেকে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালক আনসার। বনানীর সাউথ পয়েন্ট স্কুল সংলগ্ন ২ নম্বর সড়কে পাওয়া যায় ইলিয়াসের প্রাইভেটকার। ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালকের সন্ধান মেলেনি। এমনকি তদন্ত কর্মকর্তারাও নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারের পথ খুঁজে পাননি। বনানী থানার তদন্ত কর্মকর্তা কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, সবার প্রত্যাশা মাথায় রেখেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে নিখোঁজ ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। সম্ভাবনাময় সব কৌশল প্রয়োগ করে থানা পুলিশের পাশাপাশি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আশাব্যঞ্জক কোন খবর পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত ৬টি প্রতিবেদন আদালতে পেশ করা হয়েছে। তদন্ত বিষয়ক সপ্তম প্রতিবেদনটি আজ আদালতে পেশ করা হবে। ইলিয়াস আলী বাসা থেকে কখন বের হয়েছিলেন, তার সঙ্গী কারা ছিলেন, কারা তার প্রাইভেটকার অনুসরণ করে হোটেল রূপসী বাংলায় গিয়েছিলেন এবং ফেরার সময় কারা ছিলেন সপ্তম প্রতিবেদনে তাই উল্লেখ করা হয়েছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানান। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি মশিউর রহমান বলেন, তদন্তের ১৭তম দিনে এসেও কোন ভাল খবর দিতে পারছি না। আশাও ছাড়ছি না। গত ১৭ই এপ্রিল দিবাগত মধ্যরাতে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালক আনসার আলী নিখোঁজের পর ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা বনানী থানায় একটি জিডি করেন। ওই জিডি তদন্তের সূত্র ধরে থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবের একাধিক টিম বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করলেও ইলিয়াসকে খুঁজে পাননি তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল বলেন, সর্বাধিক গুরুত্ব ও আন্তরিকতা দিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে র‌্যাব। এজন্য মাঠে একাধিক টিম কাজ করছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে কোন তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট