Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিদেশী ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে গণবিজ্ঞপ্তি জারি ৪টি প্রতিষ্ঠান ভুয়া

বিদেশী ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে সতর্ক করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (শিক্ষা-১) মো. স্বাক্ষরে বুধবার ওই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। গণবিজ্ঞপ্তিতে চারটি প্রতিষ্ঠানকে ভুয়া বলা হয়েছে। এছাড়া একটির মান প্রশ্নসাপেক্ষ বলে মন্তব্য করা হয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রশংসা করা হয়েছে গণবিজ্ঞপ্তিতে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী এক তদন্ত রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ওই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। কমিটি ১২টি প্রতিষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করে রিপোর্ট দিয়েছিল। ভুয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি, ইউএসএস, নর্থ আমেরিকান ইউনিভার্সিটি, চ্যান্সেরী একাডেমী অব ইংলিশ ল ও  দি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এরমধ্যে ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি, ইউএসএস ধানমন্ডির আর/এ-তে অবস্থিত। রোডনম্বর ৫/এ এবং বাড়ি নম্বর ৫৭। নর্থ আমেরিকান ইউনিভার্সিটি লালমাটিয়ার ৩/৩’র এইচ/ই ঠিকানায় অবস্থিত।  দি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি উত্তরার ৪২ রবীন্দ্র সরণির ৭ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত। চ্যান্সেরী একাডেমী অব ইংলিশ ল’ ধানমন্ডি আর/এ এর ৪ নম্বর রোডে ১৪ নম্বর বাড়িতে অবিস্থত। গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়- মহামান্য হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং ৭৪০৭/১১ এর অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের আলোকে ঢাকা শহরে পরিচালিত বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে পরীবিক্ষণ করে মতামত ও সুপারিশসহ প্রতিবেদন দানের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে ২০১১ সালের ৩রা নভেম্বর একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদন জনসাধারণের অবগতির জন্য গণবিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হলো। উল্লেখ্য, এ তালিকাটি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্যক্রম চলছে। পরবর্তীতে আরও প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে। গত ৩০শে জানুয়ারি কমিটির রিপোর্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বিদেশী ডিগ্রির ভুয়া সার্টিফিকেট দেয়া হচ্ছে। কমিটির পর্যবেক্ষণে ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি, ইউএসএস সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটি পূর্বে দেয়া অবস্থানে নেই। তার স্থানে অন্য প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে কমিটির মন্তব্যে বলা হয়েছে, এটি একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মতো। নর্থ আমেরিকান ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এটি তার অবস্থানে নেই। মন্তব্যে বলা হয়, এটিও ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মতো। দি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে পর্যবেক্ষণে বলা হয়, উত্তরার রবীন্দ্র সরণিতে এর বাংলাদেশ ক্যাম্পাস অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে কমিটির মন্তব্যে বলা হয়, এটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মতো। ধানমন্ডির ৪ নম্বর রোডে অবস্থিত চ্যান্সেরী একাডেমী অব ইংলিশ ল’ সম্পর্কে কমিটির মন্তব্যে বলা হয়, এটি সম্পূর্ণ একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান। একে কোন স্কুল এমনকি কোচিং সেন্টারও বলা যায় না। উইলিয়ামসবার্গ, ম্যানচেস্টার নামে শিক্ষার্থী ডিপ্লোমা ও এলএলবির ডিগ্রি দেয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের। ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদ্য অধ্যাপক মুহিবুর রহমান। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আবদুল মান্নান আখন্দ, বুয়েটের প্রো-ভিসি অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক সহিদ আখতার হোসেন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ইউসুফ আলী মোল্লা যুগ্ম সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সচিব মো. খালেদ (সদস্য সচিব)। বাংলাদেশে বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার বিষয়ে ৭ দফা সুপারিশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি। ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মুহিবুর রহমানের নেতৃত্বাধানী কমিটি ৩০শে জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়। এরমধ্যে রয়েছে- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ২০১০-এ বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে বিধি প্রণয়নের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কয়েকটি স্টাডি সেন্টার সরকারের অনুমোদন নিয়ে বিধিসম্মতভাবে বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে আগ্রহী। তাদের যথেষ্ট উন্নতমানের অবকাঠামো রয়েছে। সুতরাং বিধিমালা প্রণয়ন করে তাদেরকে এই সুযোগ দেয়া যেতে পারে। ইউজিসি হতে এ বিষয়ে খসড়া প্রণয়ন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।  যত দ্রুত সম্ভব উক্ত বিধি প্রণয়ন করে প্রতিষ্ঠানসমূহকে আইনের আলোকে তদারকি ও তত্ত্বাবধায়নের আওতায় নিয়ে আসা জরুরি। তবে খসড়া বিধিমালায় স্টাডি সেন্টারের জন্য ন্যূনতম ৩ হাজার বর্গফুট জায়গার প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিটি ন্যূনতম ১০ হাজার বর্গফুট করার সুপারিশ করছে। এছাড়া বিধিমালা প্রণয়নের পর আইনের আওতায় আসা এসব প্রতিষ্ঠান সমূহের কার্যক্রম তদারকি ও তত্ত্বাবধানের কাজে কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত ফরমেটটি ব্যবহার করা যেতে পারে। উপরের ২টি পরিস্থিতিতে বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ঢাকা শহরে ডিগ্রি প্রদানকারী অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুতের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। এই উদ্দেশে কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির সঙ্গে মন্ত্রণালয় চুক্তি করতে পারে।  আদালতের স্টে অর্ডারের ভিত্তিতে যেসব প্রতিষ্ঠান এদেশে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার প্রদত্ত ডিগ্রির মান যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কোন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই আবাসিক এলাকায় স্থাপিত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকা শহরের ভিআইপি সড়ক, ব্যস্ত সড়ক ও আবাসিক এলাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা যাবে না এ মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা বাঞ্ছনীয়। যে স্টাডি সেন্টার (চ্যান্সেরী একাডেমী অব ইংলিশ ল’) সম্পর্কে মহামান্য আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। পরিদর্শন প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই প্রতিষ্ঠানটিতে কোন রকম শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার নজির পাওয়া যায়নি। কমিটি মনে করে যে, এ ধরনের আর অনেক ভুয়া প্রতিষ্ঠান অবৈধ শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইউজিসি ও সরকারের প্রজ্ঞাপন এবং আইনের বিধান উপেক্ষা করে স্টাডি সেন্টার এর বিজ্ঞাপন প্রদান অব্যাহত রয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে বলে কমিটি মনে করে। ঢাকা শহরে পরিচালিত ডিগ্রি প্রদানকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিবীক্ষণপূর্বক মতামত প্রদানের জন্য কমিটি একাধিক টিম বিভক্ত হয়ে মোট ১২টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে। কমিটির সদস্য অধ্যাপক সহিদ আখতার হোসেন ও অধ্যাপক ইউসুফ আলী মোল্লা চলতি বছরের ২রা জানুয়ারি ভূঁইয়া একাডেমী, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি, ইউএসএ এবং নর্থ আমেরিকান ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করেন। অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও অধ্যাপক ইউসুফ আলী মোল্লা ৩রা জানুয়ারি লন্ডন কলেজ অব লিগ্যাল স্টাডিজ, ভূঁইয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, চ্যান্সেরী একাডেমী অব ইংলিশ ল’ এবং সেফস পরিদর্শন করেন। অধ্যাপক আবদুল মান্নান আকন্দ দি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করেন। অধ্যাপক মুহিবুর রহমান  পেরদানা কলেজ অব মালয়েশিয়া, ক্যামব্রিয়ান কলেজ এবং লন্ডন স্কুল অব কমার্স পরিদর্শন করেন। মো. খালেদা ইউনিভার্সিটি অব নিউ ক্যাসেল পরিদর্শন করেন।  ভূঁইয়া একাডেমীর মন্তব্যে বলা হয়, প্রচুর অবকাঠামো এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি মনোমুগ্ধকর। কিন্তু এর পারিপার্শ্বিক পরিবেশ নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। লন্ডন কলেজ অব লিগ্যাল স্টাডিজ সাউথ (এলসিএলএস) সম্পর্কে বলা হয়, প্রচুর অবকাঠামো কার্যকরী মানুষদের সমন্বয়ে এটি একটি জীবন্ত প্রতিষ্ঠান। ভাল ব্যবস্থাপনা দ্বারা কলেজটি পরিচালিত। ক্যামব্রিয়ান ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিষয়ে কমিটির মন্তব্যে বলা হয়- ফাউন্ডেশন কোর্সটি দ্বারা শিক্ষার্থীরা মালয়েশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে পারবে। এটি লিংককইং ইউনিভার্সিটি দ্বারা স্বীকৃত। সরকারের নির্দেশের প্রতি সম্মান দেখিয়ে বর্তমানে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির কারিকুলাম স্ট্যান্ডার্ড নিশ্চিত করতে পারেনি। পেরদানা কলেজ অব মালয়েশিয়ান সম্পর্কে মন্তব্যে বলা হয়, ফাউন্ডেশন কোর্স মালয়েশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ভর্তিতে শিক্ষার্থীদের সক্ষম করবে। এটি মালয়েশিয়ান ইউসিএসআই দ্বারা স্বীকৃত। সরকারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে নতুন কোন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির কারিকুলাম স্ট্যান্ডার্ড নিশ্চিত করতে পারেনি। লন্ডন স্কুল অব কমার্স সম্পর্কে মন্তব্যে বলা হয়, পরীক্ষার প্রশ্ন কার্ডিফ মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি দ্বারা করা হয় এবং মূল্যায়নও ওই ইউনিভার্সিটির শিক্ষকদের দ্বারা করা হয়। ওই ইউনিভার্সিটি থেকেই শিক্ষার্থীরা সার্টিফিকেট পেয়ে থাকে। টান্সক্রিপটে স্টাডি সেন্টারের নাম থাকে। ভূঁইয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি সম্পর্কে বলা হয়, মনে হয় এটি একজন মানুষ দ্বারা পরিচালিত। যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষা এটি সরবরাহ করতে পারে না। সেফস সম্পর্কে বলা হয়, এটি প্রশ্নবিদ্ধ প্রতিষ্ঠান। নিউ ক্যাসেল ল’ একাডেমী সম্পর্কে বলা হয়, কোচিং সেন্টার বা টিউশন প্রোভাইডার হিসেবে এটি মন্দ নয়। তদন্ত কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি বুয়েটের  অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। বাকি দায়িত্ব সরকারের। তদন্ত কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে আমরা তদন্ত পরিচালনা করেছি। তিনি বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সরকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপরও তারা চটকদার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। অধ্যাপক ফরিদ বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট