Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

অ্যাম্বুলেন্সই কেড়ে নিল দুই ভাইয়ের প্রাণ; দেশে ফিরেই লাশ হলেন প্রবাসী ইলিয়াস

দেশে ফিরতেই লাশ হলেন সুইজারল্যান্ড প্রবাসী ইলিয়াস উদ্দিন আহমেদ। সঙ্গে লাশ হলেন সহোদর ভাই নাসির উদ্দিন আহমেদও। ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী বড় ভাইকে ‘রিসিভ’ করে অটোরিকশা করে নবাবগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন নাসির উদ্দিন। তবে বনানী পৌঁছাতেই দ্রুতগতির একটি এম্বুলেন্স চাপা দেয় অটোরিকশাটিকে। মারাত্মক আহত অবস্থায় পুলিশ দুই সহোদর ভাইকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মৃতের স্বজনরা জানান, দু’দিন আগেই সুইজারল্যান্ড প্রবাসী ইলিয়াস তার স্ত্রীকে ফোন করে বলেছিলেন, সুইজারল্যান্ড আর ভাল লাগছে না, দেশে ফিরে আসছি। ক’দিনের মধ্যেই ইতালি যাবো। ইলিয়াসের শেষ ইচ্ছাটা পূরণ হলো না। ঢাকার রাস্তা তাকে দুনিয়া থেকেই কেড়ে নিয়ে গেল। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের বাইরে বিলাপ করছিলেন ইলিয়াসের স্ত্রী আকলিমা বেগম। তার আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠছিল মর্গের পরিবেশ। স্বজনরা তাকে সান্ত্ব্তনা দিতে গিয়ে নিজেরাও কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। ইলিয়াস উদ্দিনের বৃদ্ধ মা তখনও জানেন না- তার দুই সন্তান আর বেঁচে নেই। পুলিশ জানায়, এয়ারপোর্ট থেকে নবাবগঞ্জগামী সিএনজি বনানীর মাছরাঙা টিভি ভবন সংলগ্ন কবরস্থান রোডের মোড়ে পৌঁছলে উল্টো দিক থেকে আসা এম্বুলেন্স ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজিটি উল্টে গেলে দু’জন রাস্তার দু’পাশে ছিটকে পড়েন। তাদের ঢামেক হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন। আহত সিএনজি ড্রাইভার জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন। তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা এসআই ইমদাদ ইসলাম সৈয়দ গ্রামের বাড়িতে খবর দিলে হাসপাতালে ছুটে আসেন নিহতের স্বজনরা। চাচাতো ভাই আরাফাত ইসলাম জানান, ১২ দিনের ছুটি পেয়ে ভোরের ফ্লাইটে বাংলাদেশে আসেন ইলিয়াস উদ্দিন আহমেদ। আগের রাতে ফোনে তিনি দেশে ফেরার কথা জানান স্ত্রীকে। সিটিজেনশিপ নিয়ে ইতালি যাওয়ার ইচ্ছা ছিল তার। এ কারণেই মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে হঠাৎ করেই বাংলাদেশে আসা তার। ছোট ভাই রাতে খবর পেয়ে ভোরে এয়ারপোর্টে যান। ইলিয়াস উদ্দিন ১৭ বছর ধরে সুইজারল্যান্ডে ছিলেন। দু’মাস আগে বাংলাদেশে ছুটি কাটিয়ে চাকরিস্থলে ফিরে যান তিনি। ২০০২ সালে আকলিমা বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের একমাত্র মেয়ে ইমা স্থানীয় স্কুলে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। নাসির উদ্দিন ব্যবসা করতেন। তার বড় ছেলে শুভ নবম ও ছোট ছেলে মৃদু প্রথম শ্রেণীতে পড়ে। চার ভাই-তিন বোনের সংসারে এ দু’জন বড়। অপর দু’ভাইও সুইজারল্যান্ড প্রবাসী। তারা আজ দেশে ফিরলে নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে।
মা ছেলেকে দেখতে চান: দুপুর দেড়টার দিকে মর্গের সামনে আহাজারি করছেন মা নূরজাহান বেগম। আহত ছেলেদের দেখার জন্য ছোটাছুটি তার। মৃত্যুর খবর জানেন না তিনি। ‘ডাক্তারের নিষেধ আছে, এখন দেখা যাবে না, আপনি গেলে ওদের ক্ষতি হবে’- এমন নানা ছুতোয় স্বজনরা সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেন বৃদ্ধাকে। ‘ডাক্তার সবাইকে চলে যেতে বলেছেন’ বলে শেষ পর্যন্ত ওই বৃদ্ধাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। নিহতদের ভাগ্নে মানুরা বলেন, নানী হার্টের রোগী। মামা আহত হয়েছে শুনেই কয়েকবার জ্ঞান হারিয়েছেন। অন্য মামারা দেশে ফিরলে নানীকে মৃত্যুর খবর জানানো হবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট