Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিএনপিতে গ্রেফতার আতঙ্ক

ঢাকা, ৩০ এপ্রিল: প্রধান বিরোধীদলের মধ্যে চলছে গ্রেফতার আতঙ্ক। সরকার বিএনপিসহ জোট নেতাদের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা করার পর থেকেই এ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পর দলের দফতর সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আটকের পর থেকে এ আতঙ্ক আরো বেড়েছে।

দু’টি মামলা
তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অদূরে ফেলকন টাওয়ারের সামনে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে তেজগাঁও থানায় মামলা হয়েছে।

মামলায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি এমপি, এলডিপির সভাপতি অলি আহমেদকেও আসামি করা হয়েছে। মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদেরও আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় রোববার রাত পৌনে ১টার দিকে মৌচাক থেকে বিএনপি নেতা কামরুজাজামান রতনকে আটক করে পুলিশ। তাকে আজ তিন দিনের রিমাণ্ডে নেয়া হয়েছে।

সচিবালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাতেও শাহবাগ থানায় আরেকটি মামলা হয়েছে। ওই মামলাটিতেও মির্জা ফখরুলসহ ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। রোববার রাতেই থানার এসআই হীরেন্দ্রনাথ প্রমানিক বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। এই মামলায় অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য আসম হান্নান শাহ, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এমপি, আমানুল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, কর্নেল অব. অলি আহমেদ প্রমুখ।

এই দু’টি মামলায় মোট আসামি ৭৪ জন।

জামিনের জন্য বিশেষ বেঞ্চের আবেদন নাকচ
নেতাদের জামিন আবেদন শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একটি ম্পেশাল বেঞ্চ বসানোর আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন।

সোমবার বিকালে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় মওদুদ আহমেদ জানান, প্রধান বিচারপতি তাদেরকে জামিন আবেদন শুনানির জন্য হাই কোর্টের নিয়মিত বেঞ্চে যেতে বলেছেন।

বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতাসহ বিভিন্ন দলের নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি মামলার আগাম জামিন আবেদন শুনানি করার জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে একটি স্পেশাল বেঞ্চ বসানোর দাবিতে তাদের আইনজীবী দেখা করতে গেলে তিনি তাদের এ পরামর্শ দেন।

সোমবার বিকাল পাঁচটার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের নেতৃত্বে তিন আইনজীবী প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় মওদুদের সঙ্গে ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহাবুব হোসেন ও আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সবাই  
এই দুই মামলায় এখন বিএনপির নেতারা আক্ষরিক অর্থেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার একবারের জন্যও দলীয় কার্যালয়ে আসেননি। দল থেকে বলা হচ্ছে তিনি আত্নগোপনে আছেন।

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতারাও কথায় সরব হয়েছেন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু বলেছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন যে যতো বড় নেতাই হোন কেউ ছাড় পাবেন না। মাহবুবুল হক হানিফ বলেছেন এক মামলাতেই বিএনপি থেমে গেছে। ইতোমধ্যে পুলিশ বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে।

মওদুদ আহমদ বলেছেন, মামলাগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তবে বাস্তবতা হলো এই মামলার মাধ্যমে বিএনপি নেতাদের আওয়ামী লীগের কোণঠাসা করতে চাচ্ছে- এমনটা বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নিখোঁজ ইলিয়াসের উদ্ধারের কোনো খবর নেই। এর মধ্যে দলের সিনিয়র নেতাদের এই নাজুক পরিস্থিতি। এখন বিএনপি কী করবে সেটাই দেখার বিষয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট