Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

উত্তাল জাহাঙ্গীরনগর ও বুয়েট: অনড় দুই ভিসি

ঢাকা, ২৭ এপ্রিল: দেশের দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছারিতার অভিযোগে তাদের পদত্যাগের দাবি ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। যেখানে শিক্ষার্থীরা ভিসিদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সেখানে ব্যতিক্রম এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকেরা ভিসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন। তবে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিই অনড়।

 

দেশের অন্যতম সেই দু’টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ভিসির পদত্যাগের দাবিতে বর্তমানে অশান্ত জাবি ও বুয়েট।

 

জানা গেছে, গত ১৮ মার্চ থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগরের উপাচার্য ড. শরীফ এনামুল কবিরের অপসারণের দাবিতে বিভিন্ন দল ও মতের শিক্ষকরা এক হয়ে শিক্ষক সমাজের ব্যানারে আন্দোলন করেছেন। তার অপসারণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।

 

১৫ এপ্রিল দুপুরে প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও শেষে সংক্ষিপ্ত সভায় তারা এ ঘোষণা দেন। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চলেবে। এর মধ্যে উপাচার্য পদত্যাগ না করলে ২১ এপ্রিল থেকে উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রাখা হবে। কাউকে কাজে যোগদান করতে দেয়া হবে না। অবরোধ কর্মসূচির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ কোনো একাডেমিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষকরা অংশ নেবে না।

 

জানা গেছে, গত বুধবার ভিসিপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ড. মো. আলী আকন্দকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় ওইদিন রাতেই দুই শিক্ষককে আটক করলে আন্দোলনরত শিক্ষক সমাজের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই রাতেই আন্দোলনরত শিক্ষকেরা ভিসির বাসভবন অবরুদ্ধ করেন। বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ভিসি অবরুদ্ধ হয়ে থাকেন।

 

ভিসির পদত্যাগের দাবিতে ভিসি ভবনের সামনে নির্মাণ করা হয় ‘উপাচার্য প্রত্যাখান মঞ্চ’। পরে ভিসিপন্থী ছাত্রলীগ হামলা করে ‘উপাচার্য প্রত্যাখান মঞ্চ’ ভেঙে ফেলে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবার সাংস্কৃতিক কর্মীদের মারধরের প্রতিবাদে রোববার দুই শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। শিক্ষার্থীরা ভিসির পদত্যাগের দাবিতে ‘সংহতি মঞ্চ’ গঠন করেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র থেকে সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে মিছিলটি বের হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ভিসির বাসভবনের সামনে এসে শেষ হয়। সোমবারও ‘সংহতি মঞ্চ’ মানববন্ধন করবে ভিসির পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে।

 

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সাংস্কৃতিককর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ ভিসির পদত্যাগ দাবি করেছেন। এদিকে জাবি’র শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় দোষীদের শাস্তির দাবি করেছে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককেরা ভিসি উৎখাতের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। সোমবারও আন্দোলনরত এবং ভিসিপন্থী শিক্ষকেরা দুই ফটকে অবস্থান নিয়েছেন। দু’পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছে। ক্যাম্পাসে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ভিসির বাসভবন এখনো অবরুদ্ধ।

 

এদিকে ক্যাম্পাসে শান্ত রাখতে গত শুক্রবার রাতে এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় আগামী ৫ মে থেকে এক মাসের গ্রীষ্মকালীন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

 

জাবি ভিসি অধ্যাপক ড. ড. শরীফ এনামুল কবির বলেন, “পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না। ‘শিক্ষক সমাজ’ আমার উন্নয়ন কাজ সহ্য না করে আন্দোলন যাচ্ছে।”

 

শিক্ষক সমাজের আহবায়ক এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন বলেন, “পেছনের দরজা দিয়ে উপাচার্যকে মুক্ত করার প্রক্রিয়া কতদিন বহাল রাখা যাবে, সেটি ভাবনার বিষয়। পুলিশ বসিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করা সম্ভব নয়।”

 

অপরদিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এস এম নজরুল ইসলাম ও প্রো-ভিসির পদত্যাগের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রো ভিসির ১৬টি অনিয়মের অভিযোগ ভিসির পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়েছে। ৭ এপ্রিল থেকে বুয়েটের শিক্ষক সমিতি কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবারও বুয়েটের কোনো ক্লাস নেননি শিক্ষকরা।

 

বুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনের জন্য ৪ এপ্রিল বুয়েটের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত বুয়েট ভিসির বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদে আচার্য, প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষক সমিতির সদস্য, এলামনাই সদস্য, ছাত্রছাত্রী, কর্মকর্তা কর্মচারীদের লিখিতভাবে শিক্ষক সমিতি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

৩১ মার্চ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় ভিসি ও প্রো-ভিসিকে সময় বেঁধে দেন শিক্ষক সমিতি। এজন্য ৭ এপ্রিল থেকে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি না মানায় আবারো আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন বুয়েটের শিক্ষক সমিতি। তবে বুয়েটের সার্বিক পরিস্থিতির পর্যালোচনায় ১১ এপ্রিল এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় আন্দোলনকারী শিক্ষকদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহবান জানানো হয়। এই সিন্ডিকেট সভায় কর্তৃপক্ষ প্রচলিত কোনো প্রশাসনিক নিয়মের ব্যত্যয় না ঘটিয়ে যাবতীয় কার্যাবলী সম্পাদন করে আসছেন বলে দাবি করা হয়।

 

১২ এপ্রিল শিক্ষক সমিতি তাদের দাবি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করার জন্য বলেছিলন। রোববার ১৫ এপ্রিল বুয়েটের শিক্ষক সমিতি তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়া ঘোষণা দিয়েছেন এক সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমে। অপর দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরার জন্য মানববন্ধন করেছেন।

 

বুয়েটের শিক্ষক সমিতি ও ভিসি প্রত্যেকেই নিজ নিজ দাবিতে অনড় রয়েছেন। কেউ কাউকে ছাড় দিতে চাচ্ছেন না। আর দু’পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে যুক্তি দেখাচ্ছেন। এতে অচল হয়ে পড়েছে বুয়েট। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, বুয়েট প্রশাসন এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করবেন।

 

ভিসি ও শিক্ষক সমিতি দুই পক্ষই ইতিমধ্যে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ১৫ এপ্রিল শিক্ষক সমিতি এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভিসি ও প্রো-ভিসি পদত্যাগ না করলে কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। অপরদিকে ভিসি ১৭ এপ্রিল শিক্ষক সমিতির দাবিকে অযৌক্তিক আজ্ঞা দিয়ে তা প্রত্যাহার করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন।

 

শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরার আহবান জানিয়েছেন দু’বার। ১২ এপ্রিল শিক্ষক সমিতি সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি শিক্ষকদের আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের জন্য বলেন। এই আহবান জানানোর ১০ দিন পর পুনরায় তিনি বুয়েট শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ক্লাসে ফেরার জন্য আহবান জানান। এছাড়াও ১১ এপ্রিল সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের কাজে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে। ৪ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর, প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীকে ভিসি প্রো-ভিসির পদত্যাগের দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

 

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভিসি অধ্যাপক ড. এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, “আমার পদত্যাগ কোনো সমাধান নয়। এর আগেও অনেকেই পদত্যাগ করেছেন যার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়নি। যেহেতু শিক্ষকদের দাবিগুলো যৌক্তিক নয় তাই আমার পদত্যাগের প্রশ্নই উঠে না।”

 

অপরদিকে শিক্ষক সমিতি এক সংবাদ সম্মেলনে ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এতে শিক্ষার্থীদের সেশনজটের আশঙ্কা প্রবল হয়েছে। ১৫ এপ্রিল বুয়েটের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষকরা ১৬ টি অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে ৭ এপ্রিল থেকেই কর্মবিরতি শুরু করেন। এতে অচল হয়ে পড়েছে দেশের অন্যতম প্রধান বিদ্যাপিঠ বুয়েট।

 

অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন হয়েছে কয়েকবার। শিক্ষক সমিতির অভিযোগ যেসব শিক্ষার্থী মানববন্ধন করেন তারা সাধারণ শিক্ষার্থী নয় তারা ছাত্রলীগে নেতাকর্মী। শিক্ষকদের দাবি, বুয়েট প্রশাসনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা তাদের পাশেই আছেন।

 

তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তারা শিক্ষকদের এই আন্দোলনে শিক্ষকদের পক্ষেই আছেন। তা না হলে কেন তারা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন না।

 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এম মজিবুর রহমান বলেন, “ভিসি ও প্রো-ভিসির পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবেই। ভিসি সমস্যা সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন। শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় শিক্ষকরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।”

 

বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক ড. এস এম নজরুল ইসলাম বার্তা২৪কে বলেন, “শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করছি। আলোচনা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। আশা করি সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।”

 

সাবেক দুই ভিসি, বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের দুই প্রতিনিধি ও সমিতির নেতারা রোববার রাতে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে উপাচার্যে সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ১ মে পরবর্তী বৈঠকের বসবে উভয়পক্ষ। শনিবার সমিতির সাধারণ সভায় প্রদানমন্ত্রীর হতক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষকরা।

 

এদিকে ২৯ এপ্রিল বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট