Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

প্রত্যক্ষদর্শীদের খোঁজ মিলছে না

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের খোঁজ মিলছে না। তাদের বর্ণনা গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই কেউ নিখোঁজ হয়েছেন। কেউ অসুস্থতার কথা বলে কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়েছেন। আবার কেউ আতঙ্কে আত্মগোপন করেছেন। গতকাল রাজধানীর বনানী থানা ও  সাউথ পয়েন্ট স্কুলসংলগ্ন ২ নম্বর সড়কের ঘটনাস্থল সরজমিনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বনানী থানার ওসি মামুন-অর রশীদ বলেছেন, ইলিয়াস নিখোঁজ রহস্য উদঘাটনে তিনজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়া কাউকে আটক কিংবা গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ ব্যাপারে নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরাও লিখিত কোন অভিযোগ করেনি। ডাব বিক্রেতা রহমত আলী বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে আমার ছেলে সোহেল রানা নিখোঁজ। তার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কোথায় আছে তাও জানি না। তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার সাদাপোশাকের পুলিশ সদস্যরা সোহেলকে ধরে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে আমি বনানী থানায় গিয়ে একজন অফিসারের রুমে তাকে দেখতে পাই। এ সময় ওই অফিসার আমার ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন। ওই রাতে কি দেখেছিল তার বর্ণনা শুনছিলেন। সোহেল বলেছে, ইলিয়াস নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাস্থলের পাশের একটি চৌকিতে সে শুয়েছিল। ধস্তাধস্তি ও চিৎকারের শব্দ শুনে এগিয়ে গিয়েছিল। তখন অস্ত্রধারী কয়েকজন এক ব্যক্তিকে টানাহেঁচড়া করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যেতে দেখেছে। সে যা দেখেছিল তার সবই বলেছে পুলিশের কাছে। রহমত আলী বলেন, ওই সময় তার জন্য খাবারও নিয়েছিলাম। কিন্তু সে খাবার নেয়নি। বলেছে, পুলিশ তাকে খাইয়েছে। পরে বিকালের দিকে ছেলেকে আনতে আবারও থানায় যাই। তখন থানা থেকে বলা হয়, সোহেলকে ওরা ছেড়ে দিয়েছে। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ। তিনি আরও বলেন, মনে হচ্ছে ওই রাতের ঘটনা দেখেই আমার ছেলে অপরাধ করেছে। এ কারণে তাকে কেউ ধরে নিয়ে গেছে। এর আগে গত রবি ও সোমবার বনানী থানা পুলিশ সোহেল রানাকে দু’দফায়  জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ওই জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পর পুলিশ আবারও তাকে ধরে নিয়ে যায়। বনানী থানা পুলিশ জানিয়েছে, ইলিয়াস নিখোঁজ হওয়ার সময় ওই এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছিলেন এএসআই মাহবুব। তিনি নিখোঁজ ঘটনার অনেক কিছুই দেখেছিলেন। এ তথ্য জানাজানি হওয়ার পর তিনি আতঙ্কিত হয়ে থানা থেকে ছুটি নিয়েছেন। অসুস্থতার কথা বলে বাড়ি চলে গেছেন। বনানী থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন বলেন, অসুস্থতার কারণে ৩/৪দিন আগেই মাহবুব ছুটি নিয়ে বাড়ি গেছেন। গতকাল তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। বনানী থানার এসআই সাইদুর রহমান বলেন, ২ নম্বর সড়কে গাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে এএসআই মাহবুব বেতার বার্তায় থানায় জানিয়েছিলেন। পরে আমিও ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। গাড়িটি উদ্ধার করে থানায় এনেছিলাম। এদিকে নিখোঁজ ঘটনার প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী নূরানী টাওয়ারের সিকিউরিটি গার্ড লুৎফর রহমানের খোঁজও পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি ১৮ই এপ্রিল সকালে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে ওই রাতের নিখোঁজ ঘটনার বর্ণনা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, দুটি গাড়ির টক্কর শোনার পরই লোকজনের ধস্তাধস্তি ও চিৎকারের শব্দ শুনেছিলাম। এর কিছুক্ষণ পরেই হলুদ রঙের একটিসহ আরও দুটি গাড়ি দেখেছিলাম। নূরানী টাওয়ারের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অঙন ডেভেলপার কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, ওই তথ্য প্রকাশের পর লুৎফর রহমান নানা আতঙ্কে ভুগতে থাকেন। একপর্যায়ে চাকরি ছেড়ে চলে যান। অঙন ডেভেলপার কোম্পানির এক কর্মকর্তা বলেন, শুধু লুৎফর নন, মাহফুজ নামে আরও এক সিকিউরিটি গার্ড গোয়েন্দা আতঙ্কে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। সাউথ পয়েন্ট স্কুল সংলগ্ন বিভিন্ন পণ্যের দোকানদাররা জানান, ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ ঘটনার অনেক প্রত্যক্ষদর্শী আছে। কিন্তু পুলিশ ও গোয়েন্দাদের হয়রানির কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। এক চা বিক্রেতা বলেন, ঘটনার সময় ওই রাতে বেশ জোরেই নানা শোরগোলের শব্দ পাওয়া গেছে। অথচ এর প্রায় দু’শ’ গজ দূরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছে। তারাই বলতে পারবে প্রকৃতপক্ষে কি ঘটেছিল ওই রাতে।
ইলিয়াসের অপেক্ষায় লুনা: এদিকে নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পরও বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও তার গাড়ি চালক আনসার আলীর সন্ধান মেলেনি। গতকাল তদন্ত সংশ্লিষ্ট র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কেউ তদন্তের অগ্রগতির কোন তথ্য জানাতে পারেনি। বনানী থানার ওসি মামুন-অর রশীদ বলেন, আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক তদন্তকাজের প্রতিবেদন নিয়মিতভাবে মহানগর মুখ্য হাকিমের কাছে পেশ করা হচ্ছে। তবে ইলিয়াস আলী ও তার চালকের নিখোঁজ রহস্য উদঘাটনের ক্ষেত্রে তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। ইলিয়াসের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, ইলিয়াস নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই ভাবী (তাহসিনা রুশদীর লুনা) একটি রাতও ঘুমাননি। সারারাত জেগে ভাবতে থাকেন- হয়তো কোন গভীর রাতে ফিরে আসবে তার স্বামী।
বিভ্রান্তিকর তথ্যদাতা কারা: তখন ছিল দুপুর ১২টা। বনানীর ২/১ নম্বর সড়কে ৩ নম্বর সিলেট হাউজের অতিথি কক্ষে ইলিয়াসের স্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন গণমাধ্যমের কর্মীরা। তিনি অসুস্থ থাকায় গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন ইলিয়াসের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক কর্মী ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী। ইলিয়াস ও তার পরিবারের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার পরপরই সাংবাদিকরা চলে যান। এ সময় সেখানে উপস্থিত অপরিচত এক যুবক নিজেকে আকাশ বলে পরিচয় দেয়। হিলালীকে এক পাশে ডেকে নিয়ে বলে, ইলিয়াসের সন্ধান আছে তার কাছে। ইলিয়াসের স্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেলেই সন্ধান পাওয়া যাবে। একথা শুনেই তিনি ধমক দেন ওই যুবককে। পরে দ্রুত সটকে পড়ে সে। রফিকুল ইসলাম বলেন, এদের খপ্পরে পড়েই ভাবী বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। ওই চক্র আবারও চেষ্টা করছে নতুন করে ফাঁদে ফেলতে। ইলিয়াসের স্বজনরা জানান, দুদিন আগে কবিরাজবেশী কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি এসেছিল। তারা প্রস্তাব করেছিল একটি তাবিজ ভাবির ঘরে অন্যটি বাসার বাইরে রাখা হলে ইলিয়াস ফিরে আসবে। তাদের ধারণা- অপহরণকারী চক্র নানা কৌশলে এ বাড়ি থেকে তথ্য নিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বাসা ঘিরে ২৪ঘণ্টাই গোয়েন্দারা নজরদারি করছে। তবে ইলিয়াসের বাড়ি কিংবা অন্য সদস্যদের নিরাপত্তার দায়িত্বে কোন পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


2 Responses to প্রত্যক্ষদর্শীদের খোঁজ মিলছে না

  1. Md. KHOHON

    April 29, 2012 at 7:27 pm

    Elias Ali Kothay ase ta Sorkar Bhalo jana. Ami mona kori sorkarer uchit taka Firia. Nahela Deser Korun Abtha Hotepare.

    *Nijthaka Bolachi*

  2. Md. KHOHON

    April 29, 2012 at 7:49 pm

    Elias Alir prokho Dosshider Aoamiligar sontrasir nite pare.