Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

জোহরা সেগাল: ১০০ বছরের তরুণী

মুম্বাই, ২৭ এপ্রিল: এভাবেই ভারতের কিংবদন্তী নৃত্যশিল্পী, থিয়েটার ও সিনেমা জগতের অভিনেত্রীর জোহরা সেগালের জন্মদিনে শুভেচ্ছা পাঠিয়েছেন বিতর্কিত লেখক সালমান রুশদি।

রুশদি তার টুইটারে লিখেছেন, “অভিনন্দন জোহরা খালা। অনেক ভালোবাসা। অনেক অভিনন্দন ১০০ বছরের তরুণী!”

শুক্রবার ছিল জোহরা সেগালের ১০০তম জন্মদিন। অভিনন্দনে ভেসেছেনে তিনি।

“আমি যখনই তাকে দেখি অভিভূত হই। তার অভিনয় ক্ষমতা দেখে বিস্মিত হই। অবিশ্বাস্য সব ট্রিটমেন্ট দেন যা এখনো আমরা পারিনি। মনে পড়ছে ৪২ ডিগ্রি গরমে ২০০৭ সালে যখন ‘চিনি কম’ ছবিটির শুটিং দিল্লির কুতুব মিনারে করছি, তখনও তিনি ছিলেন সবার মতোই সজীব। অবশ্য আমরা কিছুটা হলেও গরমে কাবু হয়েছিলাম। কিন্তু উনি দিব্যি এই গরমে নাচের শট দিলেন।”

টুইটারে বলছিলেন বলিউডের আরেক কিংবদন্তী অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন।

অভিনেত্রী শাবানা আজমি তার টুইটারে লিখেছেন, “জোহরা আপা আপনি সবার জন্য অনুপ্রেরণা। অন্তরের অন্তস্থল থেকে মুবারকবাদ।”

করন জোহর লিখেছেন, “শততম জন্মদিনে বেশি কিছু লিখতে চাই না, এক কথায় চমৎকার তরুণী। ওয়াও!”

অনুপম খের লিখেছেন, “ভারতীয় চলচ্চিত্রের সঙ্গে আপনার শতবর্ষ পূর্ণ হওয়া শুভেচ্ছা। শুভ জন্মদিন গ্রান্ড লেডি।”

অবিভক্ত ভারতের উত্তর প্রদেশে জন্ম নেয়া এই গুণী নৃত্যশিল্পীর ১৯১২ সালের এইদিনে বিত্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের এক বছরের মাথায় গ্লুকোমায় তার বাম চোখ নষ্ট হয়ে যায়। সে সময় সেটি চিকিৎসা করাতে ব্যয় হয় তিন লাখ পাউন্ড।

মুসলিম পরিবারে জন্ম নিলেও ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা করেন ইংরেজি মাধ্যমে। এইক্ষেত্রে তার মা বড় ভূমিকা রাখেন।

মার অনুপ্রেরণাতেই সংস্কৃতি পরিমণ্ডলে প্রবেশ করেন জোহরা। ১৯৩৫ সালে ভারতের বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী উদয় শংকরের সঙ্গে তার দলে যোগ দেন। তার সঙ্গে সমগ্র ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান সফর করে নিজেকে একটা বিশেষ পর্যায় নিয়ে যান এই গুণী নৃত্যশিল্পী। পরবর্তীতে দেশ ভাগ হলে তিনি তার সন্তানকে নিয়ে চলে যান পাকিস্তানের লাহোর। কিন্তু সেখানকার পারিপার্শিকতায় তিনি খাপ খাওয়াতে না পেরে এক বছর পর ফিরে আসেন দিল্লিতে। সেখানে তিনি পৃথ্বিরাজ কাপুরের পৃথ্বিবী থিয়েটারে মাসিক ৪০০ টাকায় যোগ দেন। এরপর অবশ্য তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

এরপর তিনি নিয়মিত হয়েছেন মঞ্চনাটকে আর নৃত্যে। বেশ চলছিল। ১৯46 সালে প্রথম ‘ধারতি কি লাল’ ছবির মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার বড় পর্দায় অভিনয়।

১৯৬৪-৬৫ সালে করেন ‘ডক্টর হু’ টিভি সিরিজ। এরপর করেন ‘থিয়েটার- ৬২৫’ নামের টিভি সিরিজ। এগুলো করে তিনি তখন ব্যাপক আলোচিত হন।

১৯৯৯ হাম দিল দে চুকে সানাম, ২০০১ সালে করেন “কাভি খুশি খাভি গাম, ২০০২ সালে ইংরেজি মুভি ‘ব্যান্ড ইট লাইক বেকহাম’, ২০০৭ সালে, ‘চিনি কম’ এর মতো ব্লকবাস্টার হিট ছবিতে তার অভিনয় তরুণ প্রজন্ম উপভোগ করেন।

প্রখ্যাত এই গুণী অভিনেত্রী ইতিমধ্যে ভারত সরকারের সর্বোচ্চ দ্বিতীয় পুরস্কার ‘পদ্মবিভূষণ’ পেয়েছেন।

এছাড়াও তিনি, ১৯৬৩ সালে সঙ্গীত-নাটক একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৮ সালে পদ্মশ্রী,  ২০০১ সালে কালিদাস সম্মানে ভূষিত হন।

শতবর্ষী এই নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রীকে নিয়ে ভক্তকুলের উদ্বেগ কাজ করতে পারে। কিন্তু তার পরিবার জানিয়েছে, “ধন্যবাদ যারা ওনাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আপনাদের আরো জানাচ্ছি, উনি বয়সজনিত কিছু সমস্যায় ছাড়া বেশ আছেন। দিব্যি হাঁটছেন, খাচ্ছেন, ঘুরছেন। সুতরাং নো টেইক টেনশন।” সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস/বিবিসি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট