Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বার্সার পথে রিয়ালও

একটা রোমহর্ষক নাটকের জন্য যে ধরনের মাল-মসলার প্রয়োজন, তার কোনোটারই অভাব ছিল না বুধবারের বার্নাব্যু স্টেডিয়ামে। পেন্ডুলামের মতো ম্যাচের ভাগ্য কখনও রিয়াল মাদ্রিদের দিকে দুলেছে তো আবার কখনও বায়ার্ন মিউনিখের দিকে। নির্ধারিত সময়ের পরও চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনালে চেলসির বিপক্ষে কোন দল খেলবে, তার নিষ্পত্তি হলো না। হলো টাইব্রেকার নামক ভাগ্যের খেলায়। ২-১ গোলে ম্যাচ জিতেও আলিয়াঞ্জ এরিনার টিকিট নিশ্চিত করতে টাইব্রেকারের মুখোমুখি হতে হলো রিয়াল মাদ্রিদকে। সেখানেই জমে উঠেছিল চূড়ান্ত নাটক। স্পট কিক মাস্টার রোনালদো, সাবেক ফিফা বর্ষসেরা ব্রাজিলিয়ান তারকা কাকা এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন দলের সেরা ডিফেন্ডার সার্জিও রামোসের ব্যর্থতাই ডোবাল রিয়ালকে। ১২০ মিনিট আর টাইব্রেকার নামক ভাগ্যের খেলা শেষে জয়ী দলটির নাম তাই বায়ার্ন মিউনিখ। ১৯ মে নিজেদের মাঠ আলিয়াঞ্জ এরিনায় চেলসির মুখোমুখি হবে বায়ার্নই।
বাস্তেইন শোয়েনস্টাইগারের শটটির সঙ্গে সঙ্গেই স্তব্ধ হয়ে গেল সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়াম। ডেভিড আলাবা এবং মারিও গোমেজ বোকা বানাতে পেরেছিলেন রিয়াল গোলরক্ষককে। তার আগেই স্বাগতিকদের স্বপ্ন ধ্বংস করে দেন রোনালদো আর কাকা। শুরুতে পেনাল্টি শটে রিয়ালকে এগিয়ে দেওয়া রোনালদো টাইব্রেকারে এসে হয়ে গেলেন ভিলেন। দুই বিশ্বসেরা ফুটবলারের শট ঠেকিয়ে দিয়ে নায়ক হয়ে যান বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নিউর। তবে একই সময় রিয়ালের স্বপ্নও বাঁচিয়ে রাখেন অধিনায়ক গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াস। ফিলিপ লাম আর টনি ত্রুক্রজের শট ঠেকিয়ে দেন তিনি। রিয়ালের হয়ে জাভি আলোনসোর শট শুধু বায়ার্নের জাল খুঁজে পায়। কিন্তু সার্জিও রামোস এসে যখন বলটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে মেরে দেন তখনই চূড়ান্তভাবে হতাশা নেমে আসে বার্নাব্যুতে। শেষবারের মতো ক্যাসিয়াসকে বোকা বানিয়ে বায়ার্নকে ফাইনালে তুলে দেন বাস্তেইন শোয়েনস্টাইগার।
ফাইনালে যেতে হলে নিজেদের মাঠে রিয়ালকে ১-০ গোলে জিতলেই হতো। তবে হিসাবটা একটু ভিন্নরকমও ছিল। যদি রিয়ালের জালে একবার বল জড়াতে পারে বায়ার্ন তাহলে রোনালদোদের অন্তত ২ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে। কারণ প্রথম পর্বের ম্যাচে আলিয়াঞ্জ এরিনায় ২-১ গোলে হেরে এসেছিল রিয়াল। বুধবার রাতে সে পথেই হাঁটছিল লজ ব্লাঙ্কোজরা। শুরু থেকেই দু’দলের আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে খেলা হয়ে উঠেছিল দারুণ প্রাণবন্ত। কেউ কারও চাইতে কম নয়। অথচ খেলার ৬ মিনিটেই পেনাল্টি পেয়ে যায় রিয়াল। ডানদিক থেকে ডি মারিয়ার জোরাল শট বক্সে হাতে লাগিয়ে ফেলেন আলাবা। স্পট কিক নষ্ট করেননি রোনালদো। এখানেই শেষ নয়। মাত্র আট মিনিটে আরও একটা গোল করে রিয়ালের স্বপ্নের দৌড়ে বাস্তবের ছোঁয়া লাগান রোনালদো। বায়ার্ন-রক্ষণের ব্যর্থতাকে কাজে লাগিয়ে। যদিও এই গোলে ওজিল আর খেদিরার ভূমিকাও ছিল অনস্বীকার্য। খেলার ১৪ মিনিটের মধ্যে রোনালদোর জোড়া গোলে যখন গ্যালারিতে নাচানাচি শুরু করে দিয়েছেন রিয়াল সমর্থকরা, তখনই নাটকের পর্দা খুলে দিলেন গোমেজ। পেপের কঠিন ট্যাকলে বক্সের মধ্যে পড়ে যান তিনি।এবার পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি রোবেন। রিয়াল গোলরক্ষক ক্যাসিয়াসের আঙুল ছুুঁয়ে বল জড়িয়ে যায় জালে। অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা নিয়ে সমতায় চলে আসে বায়ার্ন। দু’দলের পয়েন্ট এবং গোল (৩-৩) সমান হয়ে যায় তখন। এরপর প্রচুর সুযোগ পেয়ছিলেন দু’দলের ফুটবলাররা। কিন্তু কেউই গোলের সন্ধান দিতে পারেননি। রোবেন পেনাল্টিতে গোল পেলেও ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটা নষ্ট করেন তিনিই। রিয়াল গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোলের বাইরে মারেন তিনি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে শেষ হলে ফাইনালিস্ট নির্ধারণ করতে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গড়ায় খেলা। তাতেও কেউ গোল করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ভাগ্যের সহায়তা নিতে খেলা গড়াল টাইব্রেকারে।
আগের দিনই ভাগ্যের সহায়তা চেয়েছিলেন রিয়াল কোচ হোসে মরিনহো। তিনি তখন জানিয়েছিলেন, ‘আমি সব সময়ই ভাগ্যবিড়ম্বিত। এর আগে তিনবার সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে আমাকে। ভাগ্যের সহায়তা পাইনি, এবার যদি পাই।’ কিন্তু ‘ভাগ্য’ তার কথা শোনেনি। টাইব্রেকার নামক ভাগ্যের খেলাতেই পরাজয় বরণ করতে হয়েছে তার দল রিয়ালকে। গত বছরও সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে সবকিছুর মধ্যে বায়ার্ন কোচ জাপ হেইঙ্কেসের জন্য খারাপ খবর, কার্ড সমস্যায় পড়ে ফাইনালে আলাবাকে পাচ্ছেন না তিনি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট