Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

খলনায়ক মেসি না গোলপোস্ট

না চাইতেই যার কাছ থেকে পাওয়া যায় ভূরিভূরি। চাওয়ার পর তিনিই যখন প্রত্যাখ্যান করেন, তখন অনুভূতিটা কেমন হতে পারে? বার্সার ষোলোআনা খাঁটি সমর্থকদের যন্ত্রণা এখন সেই না পাওয়া লিওনেল মেসিকে নিয়েই, যিনি পেনাল্টির সুযোগ মিস করে শুধু দলকেই চ্যাম্পিয়ন্স লীগ থেকে ছিটকে দেননি, নিজেও কীর্তিমান হওয়ার জায়গা থেকে এক চুলের জন্য ফিরে এসেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে (১৪) ছাপিয়ে যাওয়া হয়নি মেসির। চেলসির বিপক্ষে গত আট ম্যাচে গোল না পাওয়ার অনুযোগটাও খণ্ডাতে পারেননি বার্সার মেসি। ন্যু ক্যাম্পের চোখে জল আনিয়ে তিনি নিজেও স্থির থাকতে পারেননি। ম্যাচ শেষে চোখ মুছতে মুছতেই মাঠ ছেড়েছেন। যিনি হতে পারতেন এদিন ম্যাচের নায়ক, তিনিই কি-না খলনায়কের ভূমিকায় নিজেকে উপস্থাপন করলেন।
এ দৃশ্য দেখার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না বার্সা সমর্থকরা। মেসি নিজেও বোধহয় তৈরি ছিলেন না; কিন্তু তার চোখের ভাষাতেই সর্বনাশের কথাটি লেখা ছিল। ম্যাচের ৪৯ মিনিটে যখন পেনাল্টির সুবর্ণ সুযোগটি সামনে আসে, তখন মেসিকে কিক নিতে দেখে কেউ আপত্তি করেননি। কিন্তু ভুলটা করেন তিনি স্পট কিকটি নেওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে চেলসির গোলরক্ষক চেকের চোখে চোখ রেখে। যার ভাষা পড়ে নিয়ে বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়েন চেক, শেষ মুহূর্তে মেসিও বলটি ওপরে তুলে মারেন। কে জানত বাধা হয়ে দাঁড়াবে গোল পোস্টের লোহার বারটি। এরপরও ৮২ মিনিটের মাথায় পোস্ট খুঁজে পেয়েছিলেন মেসি। বাঁ পায়ের জোরাল শটটি চেকের হাত ছুঁয়ে এবারও বার কাঁপিয়ে দেয়, কিন্তু বল আর জাল খুঁজে পায় না। এ দুটি সুযোগ নষ্টের পর মেসি আর চেলসির দেয়াল ভাঙতে পারেননি। যেমনটি পারেননি ১৯৬২-৬৩ মৌসুমে ইউরোপিয়ান কাপে গড়া এসি মিলানের হোসে আলতাফানির গড়া সর্বোচ্চ ১৪ গোলের রেকর্ড ভাঙতে। আসলে আগের দুটি ম্যাচ হারার পর মেসির আত্মবিশ্বাস যে একটু টলে গিয়েছিল, তা বোধহয় খোদ মেসিও টের পাননি। আর তাই ডি-বক্সের সামনে ভ্রমরের মতো ঘুরতে থাকলেও গোল পোস্টের জাল খুঁজে পাননি মেসি।
তবে ভালোবাসার মানুষ যখন ভুল করে, তখন তার ওপর ক্ষোভ নয়, অভিমান থাকতে পারে। ম্যাচ শেষে তাই কোচ পেপ গার্দিওলাও ভালো ছাত্রের পাশেই থাকলেন। ‘তার প্রতি আমার অগাধ আস্থা রয়েছে। তিনি প্রতিদিনই আমাদের খেলার মান উন্নতি করতে সাহায্য করছেন। তারও কয়েক ঘণ্টা খারাপ যেতে পারে, তবে এখানেই ফুটবল খেলার সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে। কখনও কেউ হাসবে, কখনও কাঁদবে।’ পেনাল্টি মিস করেও গার্দিওলার স্নেহ থেকে এতটুকু বঞ্চিত নন মেসি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট